দেখা হাটের পিছনে…

তপতী বসু

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

‘দূরে দূরে গ্রাম দশ বারোখানি , মাঝে একখানি হাট

সন্ধ্যায় সেথা জ্বলে না প্রদীপ, প্রভাতে পড়ে না ঝাঁট।

বেচা-কেনা সেরে বিকালবেলায়

যে যাহার সবে ঘরে ফিরে যায়;

বকের পাখায় আলোক লুকায় ছাড়িয়া পুবের মাঠ ;

দূরে দূরে গ্রামে জ্বলে ওঠে দীপ — আঁধারেতে থাকে হাট-’

হাট বসে৷প্রতি গুরুবারে৷ দিল্লি এইমসের সামনে এই হাটের বয়স শত বছর,বা তারও অধিক৷আঠারো নাম্বার হোস্টেলের মূল গেটের বাইরে এই হাট ডান দিকে গৌতম নগরের প্রান্ত ছোঁয়৷ “নেকী কি দিওয়ার”-সামনে দাঁড়ালে ডানদিকে বড় রাস্তা৷ চলতে চলতে পুরানো এক মসজিদ৷শুনেছি আকবরের আমলের৷মসজিদ ডান দিকে আর বাঁয়ে আছে সাঁই বাবার মন্দির৷এগোতে লাগলেই বৃহষ্পতিবারের বিকেলের এই হাট৷স্থানীয় ভাষায় “ভিড় বাজার”৷

আমি এক বিকেলে বরিশাল পিরোজপুরের’চলশে’র হাটের ভিতর দিয়ে এসেছিলাম৷হাটের পাশে নদী৷সেখানে পরিপাটি সংসারের মতন সার বাঁধা নৌকা৷সেখান থেকে নামছে আট-দশ হাত দীর্ঘ আখ৷বাতাবী,যা ওখানকার ভাষায় সোলোম৷মাটির হাঁড়ি-কুড়ি৷তরি-তরকারি…৷রিকশায় ছিলাম৷ চালকের ঘন্টি বাজিয়ে হাটুরে সরিয়ে পথ করে চলার ফাঁকে যৎসামান্যই দেখা৷সে অবশ্য রূপকথার গল্পের মতন অনেক দিন আগের কথা৷তারপর দিল্লির এই পুরানো হাটের আমি একজন ক্রেতা-সেই হিসেবে হাটুরেও বটে!

এখানে বিক্রেতা হাটুরেরা আসেন দিল্লি সীমান্তের উত্তর প্রদেশ,রাজস্থান, বল্লভগড় হরিয়াণা,পাঞ্জাব,ফরিদাবাদের গ্রাম থেকে৷ ভাষা হিন্দি হলেও মিশে থাকে নিজ এলাকার উপকথনের ছোঁয়া৷এরা নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় ডাক দেয়-ইয়ে অমরলাল ,ইয়েআমিন ….

আমাদের পরিচিত এবং পাঠ্য “একটি গ্রাম্য হাট”এর সঙ্গে এখানে অনেক পার্থক্য৷

আজ গিয়েছিলাম হাটে৷গত সপ্তাহে কেনা ১২০টাকা কিলো ‘রসভেরি’আজ ২০০টাকায় বিকোচ্ছে৷ মাত্র একজনই নিয়ে বসেছে৷অন্য সব পন্যের দাম একই৷আলু আড়াই কিলো ৫০,টমেটর্ ৪০,কাঁচা মির্চ ৮০,…..৷চারখানা সজনে ডাঁটা ৩০টাকা,যা প্রায় দেখাই যায়না৷জাপানি এক তরুণ বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় জানিয়েছেন , কিনতে গেলে সবাই ঠকায় ৷তাই তিনি বাংলাটাই শিখে নিয়েছেন৷আমার অবশ্য সেই সমস্যা নেই৷আমি কয়েক জনের কাছে দাম জেনে দেখেছি, প্রত্যেকে একই দাম রাখেন৷আমার সন্ধানী চোখ এখনও খোঁজ পায়নি চালতা,বাতাবী,তেঁতুল,ডুমুর,আমড়ার৷যেমন পাইনি পরিচিত কোনো মানুষের দেখা৷হয়তো এদের প্রতি টানেই আমি একদিন ফিরে যাবো পুরানো জায়গায়৷

আমার হাটের সওদা সন্ধ্যার আগেই শেষ হয়ে যায়৷দু’মিনিট দূরের হাটের কোলাহল হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে আসে৷রাত গড়ায় আর গৃহ প্রত্যাশী বিক্রেতা ম্যাটাডোরে ফিরে চলে৷এই রাতে আমার ভাবতে ভালো লাগেফরিদাবাদ বা লাভপুরের গ্রামে ঘুম নেই চোখে কোনো এক বালক বা বালিকা অপেক্ষায়৷ আজ লকী(লাউ)বা গোবি(ফুলকপি) বিক্রীর রুপি দিয়ে হাট থেকে বাবা নিয়ে আসবেন লাল চুড়ি কী সাদা বল৷বাবার জন্যে এই অপেক্ষায় বরিশাল-বারাসাত বা বল্লভগড় এক৷ ঘর ওয়াপসি অমরলাল আর আমিনও এখন এক ম্যাটাডোরে উঠে বসছে৷


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box