দেশের সেরা মোমো রেস্টুরেন্ট ফাহা’স কিচেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোমো মুলত একটি নেপালি খাবার,মোমো এর তিব্বতি ভাষা :མོག་མོག আর নেপালি ভাষায় মোমো কে বলে म:म, অন্যদিকে সরলীকৃত চীনাদের কাছে মোমো এর শাব্দিক উচ্চারন 馍馍 আর প্রথাগত চীনারা একে বলে 饃饃,যা মুলত একটি তিব্বতী খাদ্য। মোমো তিব্বত ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রথাগতভাবে এই খাদ্য তৈরির সময় চমরী গাই-এর মাংসকে পুর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ভারতে মুরগি ও মোষের মাংস দিয়ে তৈরি মোমোই বেশি জনপ্রিয়, এই তিব্বতী খাবারের রমরমা আয়োজন এখন চট্টগ্রামে, যা কিনা পুরো দেশের এক অনন্য উদাহারন, বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়ার অন্য কোথাও এক ছাদের নিচে কখনো এত রকমের মোমো বিক্রেতা খুজে পাওয়া দুষ্কর।

পুরো দেশে শুধুমাত্র চট্টগ্রামের একটি রেস্টুরেন্টেই ৯০ রকমের ও বেশি মোমো পাওয়া যাবে, সেই হিসেবে দেশের সেরা মোমো এখন চট্টগ্রামে, গুগুলে কিংবা ফেসবুকে সেরা মোমো অপশান সার্চ করলেই ঘুরে ফিরে স্ক্রীনে ভেসে উঠবে ফাহা’স কিচেনের নাম, খুব কম সময়ে গুগুল রিভিউ ৫ তারকা খ্যাতিতে অনন্য এই রেস্টুরেন্ট আর এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগের পুরোটাই নারীদের, ফাহা হোসাইন একজন ফুড ফটোগ্রাফার, কাজ করেছেন বাংলাদেশের সকল জনপ্রিয় পত্রিকা এবং ম্যাগাজিনে রেসিপি কন্ট্রিবিউটর হিসেবে, তবে ভিন্নধর্মী বলার অন্যতম কারন হলো এই রেস্টুরেন্টে কর্মরত সকলেই নারী, পড়াশুনা করছে এমন মেয়েদের দ্বারা পরিচালিত এই রেস্টুরেন্টের গঠন শৈলী এবং পুরো পরিবেশ অনেকটাই দেশের বাইরে রেস্টুরেন্ট গুলোর মত।

বিগত দুই বছর ধরে পুরো দেশে মোমোর জন্য ফাহা’স কিচেনের পরিচিতি এখন মুখে মুখেই, ফেসবুক ফুড রিলেটেড গ্রুপ গুলোতে যখনই কেউ পোস্ট দেয় বেস্ট মোমো কোথায় পাওয়া যাবে,তখন অবলীলায় সবাই কি-  বোর্ড চেপে মেনশান ট্যাগ করে ফাহা’স কিচেনের নাম খানাই লিখতে থাকে, এর কারন টাও বেশ সহজ, ৯০ রকমের মোমো বিক্রি হয় এই রেস্টুরেন্টে, প্রত্যেকটি মোমোর স্বাদ একটি থেকে অন্যটি আলাদা, আছে স্টিম(ভাপা), বয়েলড (সেদ্ধ), ফ্রাইড(ভাজা), ক্রিস্পি(কুড়মুড়ে), সিজলার (আগুনে ছেকা), সুপ(তরল) এবং ওভেন বেইকড অপশান। ৯০+ রকমের মোমোর স্বাদ শুধু মাত্র ফাহা’স কিচেনেই সম্ভব, রেস্টুরেন্টের ইন্টেরিয়র খুব বেশি খোলামেলা, পরিবার বা অফিস মিটিং এর জন্য পছন্দের জায়গা সবার।

কেন বলছি দেশ সেরা, ফাহা’স কিচেনের মোমো গুলোর প্রাপ্তি স্থান চট্টগ্রামে হলেও এর জনপ্রিয়তা ছাড়িয়েছে ঢাকা সহ সব বড় শহরে, অনলাইনের যুগে এটা অসম্ভব কিছু নয়, যারা চট্টগ্রামে থাকেন না তারাও এই মোমোর স্বাদ নেয়ার আশায় থাকেন আর সুযোগ পেলেই এই মোমোর স্বাদ নিতে চলে আসেন চট্টগ্রামে। এর বাইরেও যাদের জাপান,নেপাল, ভুটান এবং ভারতের সিকিম,দারজিলিং এর মত জায়গায় মোমো খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে,তারা যখন ফাহা’স কিচেনের মোমো খেয়ে তাদের সেরা অভিজ্ঞতার কথা জানান তখন অনুভুতি টা হয় ভিন্ন, তাদের মতে নেপাল বা সিকিম,কলকাতার মোমোর চাইতেও বেশি স্বাদ এই মোমো।

 ফাহা’স কিচেনের,লোকেশান চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের আজীজ কোর্ট এর ২য় তলায়,এই ভিন্নধর্মী রেস্টুরেন্ট যাত্রা শুরু করে ১৪ই এপ্রিল ২০১৯, ১৯২৬ পহেলা বৈশাখ, এদের বৈশিষ্ট্য প্রতিটি রেসিপি পুরোপুরি তাদের নিজেদের তৈরি এত এত স্বাদের মোমো বিক্রির জন্য ইতোমধ্যে তারা ব্যাপক  সুনাম কুড়িয়েছি পুরো দেশে। এরা মুলত অদক্ষ, পড়াশুনায় আছে এমন মেয়েদের শেফ হিসেবে নিয়োগ দেয়, যা এ দেশে বাইরে সচরাচর দেখা যায় না।

মুলত ফাহা হোসাইন এবং তার ব্যবসায়ী স্বামী দেলোয়ার হোসাইনের মালিকানায় এই রেস্টুরেন্ট, বেশ খোলা মেলা পরিবেশ যেখানে পরিবার নিয়ে অনায়াসে বেশ লম্বা সময় কাটানো যায়।

মোমো নিয়ে তুমুল জনপ্রিয় চট্টগ্রামের  এই রেস্টুরেন্টে এখন যেসব মোমো পাওয়া যায় তাতে আছে স্টিম(ভাপা), সেদ্ধ, ভাজা, ক্রিস্পি (কুড়মুড়ে), চিলি অয়েলে ডুবোনো মোমো, বেশ ঝাল সেচুয়ান সসের মোমো, গ্রেভি মোমো,কারি মোমো, মালাই মোমো, সিজলার মোমো এবং চরম স্বাদের ওভেন বেইকড চিজ মোমো। প্রতিটি মোমো ভিন্নতার অন্য মাত্রায় আছে চিকেন,বিফ,প্রন, ফিস,ভেজিটেবল, মাশরুম, চিজ অপশান, যার যেটা পছন্দ, গরম গরম মোমো এর প্রতিটি কামড়ে অতুলনীয় স্বাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছে তারা, এ ছাড়াও তাদের খাবার পরিবেশনের ধরনের কারনেও তারা বেশ জনপ্রিয়। খাবার গুলো পরিবেশন করা হয় খুব প্রফেশানাল উপায়ে, তাদের পেইজ ঘুরলেই দেখা যায় মোমো গ্রাহকদের তোলা অসাধারন সব ছবি, স্টিম মোমো পরিবেশনের জন্য তারা ব্যবহার করে থাইল্যান্ডের বিশেষ বাশের স্টিমার, ভাজা মোমো পরিবেশনের জন্য তারা ব্যবহার করে পাবনার বেতের কিছু ঝুড়ি।

বেশ কিছু জনপ্রিয় ইউটিউবার তাদের বিশেষ মোমো গুলো নিয়ে তৈরি করছেন তাদের চ্যানেলের কন্টেন্ট, মোমোর জন্য এই জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট ফাহা’স কিচেনের পেইজের ৫তারকা রিভিউ, খুব অল্প সময়ে ২০০০ এর কাছে চেক ইন এবং প্রায় ৫০ হাজার ফলোয়ার ই বলে দেয় তাদের জনপ্রিয়তা কতখানি। গুগলে তাদের মোমো নিয়ে অনেক অনেক পজিটিভ রিভিউ।

গ্রাহকদের তথ্যমতে এই রেস্টুরেন্টে যেসব মোমো পরিবেশন করা হয় তার সঙ্গে যে তিন রকমের ভিন্ন ধরনের সস দেয়া হয়, সেগুলো শহরের সেরা স্বাদের ব্যাপারটাকেই বার বার মনে করিয়ে দেয়।


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box