দেশে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া উচিত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাসুদুল হাসান রনি

(মন্ট্রিয়েল থেকে): বৃস্টিমুখর দুপুরে বিশেষ কাজে গিয়েছিলাম একটি ক্লাবে। লাউঞ্জের ক্লাউচে বসে আছি। হঠাৎ প্রচন্ড শব্দে একযোগে বিল্ডিংয়ের সবগুলো ফায়ার এর্লাম বেজে উঠে। ক্লাবের সবার মাঝে আতংক ও দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায়।পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে দ্রুত বাহিরে দাঁড়িয়ে বোঝার ও জানার চেস্টা করছিলাম কোথায় আগুন লাগলো। মুহুর্তের মধ্যে ক্লাবের ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার জানায়, আতংকিত হবার কিছু নেই। ক্লাব বিল্ডিংয়ের কোথাও আগুন লাগেনি। ফায়ার এলার্মের কোন একটিতে কিছু একটা সমস্যা হওয়াতে এলার্মগুলো বেজে উঠেছে।

এরমাঝে কয়েকজনকে দেখলাম বিল্ডিংয়ের ফায়ার হাইড্রোয়েন্টের সামনে দাঁড়িয়ে আগুন নেভানোর জন্য পানির পাইপ লাগাতে। ঠিক ৮/১০ মিনিটের মাঝে চলে এলো ফায়ার সার্ভিসের বড় বড় দু’টো গাড়ি। নেমে আসে ফায়ার বিগ্রেডের বেশ ক’জন কর্মী। তাদের হাতে আমাদের দেশের  শাবল, কুড়াল ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি। তারা ভিতরে ঢুকে অবাক কোথাও আগুন লাগেনি। তাহলে কিভাবে ফায়ার এলার্ম বেজে উঠলো?
ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার ও ক্লাব ম্যানেজার তাদের বুঝিয়ে বললো সমস্যাটা কোথায়, কিভাবে হয়েছে।
আমি নিজেই অবাক হলাম যখন শুনলাম,

দেখা যাচ্ছে ফায়ারসার্ভিসের লোকজন ফিরে যাচ্ছে

ফায়ার সার্ভিসকে কেউ ফোন বা খবর দেয়নি।তারা নিজেরাই চলে এসেছে। যে কোন বিল্ডিংয়ে ফায়ার এলার্ম বেজে উঠলে নিকটস্থ ফায়ারসার্ভিস দপ্তরে অটোমেটিক এলার্ম বেজে উঠে। কোন বিল্ডিং , কোন অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগলো সবকিছুই নিকটস্থ ফায়ারসার্ভিস দপ্তরের রাখা কম্পিউটারে ডাটাবেজে সঙ্গে সঙ্গে সর্তক সংকেত চলে যায়। তাই এখানে আগুন লাগলে কাউকে ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে হয় না। মুহুর্তের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন নিজেরাই ঘটনাস্থলে চলে আসে।
অগ্নিনির্বাপনে কানাডার এই ব্যবস্থাটা আমাকে শুধু অবাক করেনি , তাদের কর্মপদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা রীতিমতন বিস্মিত করেছে। বাসায় ফেরার পথে মেট্রোতে বসে ভাবছিলাম, ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে গলা ফাটাই, আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে আছি, সরকার উন্নয়নের অনেক কিছুই করছে। কিন্তু এখনো দেশের ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকায়ন,উন্নত যন্ত্রপাতি দিয়ে সমৃদ্ধ করতে পারেনি। অথচ প্রতিবছর ঢাকায় ছোটখাট অনেক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।নিমতলী,চকবাজার,বনানীর অগ্নিকান্ড চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়ন কতটা জরুরী।পাড়া-মহল্লায় পুকুর বা পানির পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় অনেকসময় অগ্নিনির্বাপন কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এখন সময়ের দাবী পাড়ামহল্লায় ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে কুড়িতলা উঠার মতন বড় বড় ল্যাডার বা মই বাহিত গাড়ি, হেলিকপ্টার সংযোজন খুব জরুরী।

ছবি : লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]