দ্য আর্ট অফ রেস্ট

কাজ আরও কাজ। নিজেকে আরও যোগ্য করে তুলতে হবে, এটাই এই একবিংশ শতাব্দীর মানুষের প্রধান শ্লোগান হয়ে উঠেছে। কিন্তু সারাক্ষণ কাজের কথা ভাবতে হবে কেন? গবেষকরা বলছেন, কাজের অতিরিক্ত চাপ মানুষকে এমন এক কারাগারের ভিতরে ঠেলে দিচ্ছে যেখানে মানসিক চাপ, অস্থিরতা দিনমান তার সঙ্গী। এই কারগার থেকে মুক্তির উপায় খোঁজা হচ্ছে। ক্লডিয়া হ্যামন্ডের লেখা ‘দ্য আর্ট অফ রেস্ট’ সেই মুক্তির উপায় খোঁজা একটি বই। পেশায় বিবিসি‘র একজন উপস্থাপক ক্লডিয়া বই লিখে কাজের কারাগার থেকে মানুষের মুক্তির উপায় খোঁজার চেষ্টা করেছেন। বইটিতে মানব প্রজাতির বিশ্রাম, মানসিক স্থিতি অর্জন ইত্যাদি বিষয়ে সংক্ষিপ্ত জরিপও চালানো হয়েছে বিভিন্ন পেশার মানুষের ওপর।

লেখককের পরিচালিত জরিপে প্রায় ২৮,০০০ হাজার মানুষকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো-কোন দশটি কাজকে তারা বিশ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করেন? মজার ব্যাপার হচ্ছে, গোসল করা কাজটার নাম উঠে এসেছে সাত নম্বরে। বহু মানুষ কাজের শেষে হালকা গরম পানিতে গোসল করাটাকে বেছে নিয়েছেন। আবার এই জরিপে সবচাইতে বেশি মানুষ বেঁচে নিয়েছেন প্রকৃতির মাঝে আশ্রয় নেয়াকে। আবার কেউ বলেছেন বই পাঠের কথা।

অতিমারীতে প্রায় গোটা পৃথিবীর মানুষের জীবন হয়েছে ছত্রভঙ্গ। যারা অসুখে মারা গেছেন তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু যারা বেঁচে আছেন তাদের জীবনের পথ পাল্টে গেছে। এই সত্যটা অনেকে জানেন, অনেকে আবার জানেনই না। ক্লডিয়া তার বইতে এই জায়গাটার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার ভাষায়, কোভিড-১৯ রোগ বেঁচে যাওয়া মানুষের মনের ওপর তৈরি করেছে গভীর চাপ। আর এই চাপটাকে এখন কমিয়ে আনার জন্যই তার ‘আর্ট অফ রেস্ট’ বইটি লেখা।

ক্লডিয়া তার বইতে লিখেছেন, স্থবির হয়ে যাওয়া একটা সময়ের ভেতর থেকে মানুষকে মুক্তি পেতে হবে। তাকে কাজে ফিরতে হবে, অস্থির অবস্থা থেকে স্থিরতায় যেতে হবে। আর তাই কখনও সংক্ষিপ্ত নিদ্রা, যোগ ব্যয়াম অথবা সামান্য সময়ের জন্য সব ধরণের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে মুক্তি দেয়াটা জরুরি।

ক্লডিয়া মনে করেন, মানুষকে প্রথমেই শান্ত করতে হবে নিজের মনকে। আর এই কাজটা তাদের নিজেদেরই করতে হবে। বিশ্রাম নেয়ার কথায় যে কর্মবীরেরা চমকে ওঠেন, ভাবেন কাজে বিরতি দেয়ার মানেই হচ্ছে জীবনের দৌড়ে পিছিয়ে পড়া ক্লডিয়া হ্যামন্ডের বই তাদের কাছে ভিন্ন এক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। জীবনে বিশ্রামেরও শিল্প আছে। মানুষকে তা শিখতে হবে নিজের প্রয়োজনেই।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ বিবিসি কালচার

ছবিঃ বিবিসি কালচার, গুগল  


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box