দ্য লাস্ট কিস…

পৃথিবীকে চিরবিদায় জানালেন সেই পৃথিবী বিখ্যাত চুমুর নায়ক জর্জি মেন্দোনসা। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপর যবনিকা নামার দিনে এক অচেনা সেবিকাকে প্রকাশ্যে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়ে ইতিহাস হয়েছিলেন জর্জি।

জর্জি মেন্দোনসা

নিজের ৯৬তম জন্মদিনের ঠিক দু’দিন আগে আমেরিকার নিউপোর্টে চোখ বন্ধ করলেন এই নাবিক। বিখ্যাত ‘লাইফ ম্যাগাজিন’-এর প্রচ্ছদে তার সেই চুম্বনরত ছবি গোটা পৃথিবীর মানুষের কাছে আজো ইতিহাসের উত্তাপ বহন করে চলেছে।

ক্যামেরার শাটার ক্লিক করেছিলো নিউইয়র্ক শহরের টাইম স্কো্য়্যারে। যুদ্ধ শেষ হবার ঘোষণা শুনে আনন্দে পথে নেমে এসেছে তখন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু ফটোগ্রাফার আলফ্রেড আইনস্টেড‘র ক্যামেরার নিশানায় তখন নৌ-সেনা মেন্দোনসা আর সাদা পোশাক পরিহিত এক সেবিকা।নাবিক আনন্দে সেবিকাকে হঠাৎ জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো। ব্যাস…আইনস্টেডের ক্যামেরাও ঝলসে উঠলো। লাইফ পত্রিকার কভারে ছবিটা ছাপা হতেই রাতারাতি বিখ্যাত হলো এই আলোকচিত্র।

ছবির নায়ক-নায়িকার পরিচয় কিন্তু প্রথমে কেউ জানতে পারেনি। ছবিটা তোলার বেশ কয়েক বছর পর অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে এদের পরিচয়। জানা যায় ছবির সেই সেবিকা‘র নাম গ্রেটা ফ্রিডম্যান আর পুরুষটি জর্জি মেন্দোনসা।

এই বিখ্যাত ছবিটি নিয়ে সমালোচনার ধূলো উড়েছে অনেক। সমালোচক বিশেষ করে নারীবাদীরা বলছেন, সেই মার্কিন নৌ-সেনা অচেনা গ্রেটা ফ্রিডম্যানকে চুমু খেয়েছিলেন তার অনুমতি ছাড়াই। বিষয়টা এক ধরণের যৌন নিপীড়ন।মেন্দোনসা‘র কন্যা শ্যারন মলিউর অবশ্য তার বাবার কাছে শোনা ঘটনার বিবরণ থেকে বলেছেন, মেন্দোনসা ওই মুহূর্তে একটা বারে মদ্যপান করছিলেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা শুনে আনন্দে আত্নহারা হয়ে তিনি রাস্তায় বের হয়ে আসেন। আর তখনই সামনে সেবিকাকে দেখে তিনি চুমু খান তাকে। মেন্দোনসা বলেছিলেন, এরকম শত শত সেবিকা যুদ্ধের সময় সৈন্যদের সেবা করেছে। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই তিনি চুমু খেয়েছিলেন।

এই দুর্দান্ত চুমুর নায়িকা গ্রেটা ফ্রিডম্যানও গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছিলেন। ২০১৬ সালে ৯২ বছর বয়সে ফ্রিডম্যানও পৃথিবীকে চিরবিদায় জানান। ‘হঠাৎ করেই পুরুষটি আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিলো। সে চুম্বনে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আবেগ, আনন্দ আর উত্তাপটাই ছিলো প্রবল। সে খুব শক্ত হাতে আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিলো মনে আছে।’ এমনটাই ছিলো গ্রেটা ফ্রিডম্যানের প্রতিক্রিয়া।

ঘটনা যাই ঘটুক না কেনো সেদিনের সেই চুম্বনরত দুজন মানুষের ছবি ঠাঁই করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। তারা দু’জনই পৃথিবীকে শেষ চুম্বনে বিদায় জানিয়েছেন। কিন্তু এমন এক চুমুর সঙ্গে জুড়ে থাকলো যুদ্ধ আর সংঘাতের গল্প, থাকলো পৃথিবীতে শান্তির স্বপক্ষে শেষ চুম্বন হয়ে হয়তো।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ সিএনএন