নতুন গানে প্রাণ মেশানো জীবন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকনকচাঁপা কচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

শ্রদ্ধেয় সুরকার আবু তাহের ভাইয়ের ‘তুমি আমার’ ছবির গানের পর একটা অনুষ্ঠানে গাইতে গেছি।সে অনুষ্ঠানে শাকিলা জাফর আপা ছিলেন। উনি বললেন কনক, তোকে সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ভাই খুঁজছেন। খবর পেয়েছিস? আমি বললাম জানিনাতো! তিনি বললেন তাড়াতাড়ি যোগাযোগ কর, উনি ছবির গানের জন্য তোকে খুঁজছেন। আমার জীবনসঙ্গী সুরকার সংগীত

গুরু বশীর আহমেদের সঙ্গে

পরিচালক জনাব মইনুল ইসলাম খান বুলবুল ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। বুলবুল ভাই একটা তারিখ দিলেন। পল্টনের ভেতরের দিকে সিম্ফনি স্টুডিও। সেই প্রথমে উনাকে আমি দেখলাম। উনি সস্ত্রীক স্টুডিওতে এসেছেন। আমার সহশিল্পী খালিদ হাসান মিলু ভাই। ‘সাক্ষী প্রমান’ ছবির ডুয়েট গান। ২/১/৯৪ তারিখে গাইলাম বুলবুল ভাইয়ের সুরে পয়লা গান। গাওয়ার আগে মিলু ভাই বুলবুল ভাইকে বলছিলেন বুলবুল ভাই, আপনি খুব একটি সঠিক কাজ করেছেন। ভাবী একজন শিক্ষিত শিল্পী। আমাদের বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী জনাব বশীর আহমেদের ছাত্রী । উনার প্লেব্যাক এ আসা খুব জরুরি ছিলো। বুলবুল ভাই হেসে বললেন তা আগে বলিসনি কেন? একটি ভালো কন্ঠ আমার খুবই দরকার ছিলো, শাকিলা আমাকে খুঁজে দিয়েছে। মিলু ভাই স্বল্পভাষী মানুষ, আর কিছু বললেন না।গাইলাম বুলবুল ভাইয়ের সুরে খুব সাদামাটা কিন্তু মিষ্টি একটি গান  ‘সাদা কাগজ এই মনটাতে তোমার নাম লিখে রাখি’ । বুলবুল ভাই ও স্টুডিওর বাকী সবাই খুশী। বুলবুল ভাই বেজায় খুশী। আমাকে একটু বসতে বললেন। আমি স্টুডিওর এক কোনায় বসে আছি।হঠাৎ শুনি বচসা! ছবির পরিচালক বেলাল আহমেদ বুলবুল ভাইয়ের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় ব্যাস্ত। আমি যখন প্রথম চুরাশি সালে সুরসম্রাট আলাউদ্দীন আলী ভাইয়ের গান গেয়েছি, আলী ভাই আমাকে পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন এক হাজার এক টাকা।এর পর লম্বা বিরতির পর তাহের ভাই আমাকে পেমেন্ট দিলেন তিন হাজার টাকা। বুলবুল ভাই সেটা শুনে পরিচালক এর কাছ থেকে পেমেন্ট শিল্পীকে বুঝিয়ে দেবেন তাতেই বিপত্তি! পরিচালক জোরে জোরেই বলছেন, ‘কেনো এতো পেমেন্ট দেয়া লাগবে! কইত্থে আইসে এই শিল্পী!

ইমতিয়াজ বুলবুল

কেডা চেনে তারে!’ বুলবুল ভাই রেগে গিয়ে বলছেন, ‘আপনি না বুঝেই এতো কথা বলছেন! শিল্পী আমি ডেকে এনেছি প্রয়োজন বুঝেই।তার যোগ্যতা আছে বলেই গাইতে ডেকেছি।’ আরও কি কি সব কথা হচ্ছিলো। আমি এমন পরিস্থিতিতে অস্থির হইনা। এমন না যে আমি নির্লজ্জ, আমি জানি ওই পরিচালক ভুল বলছেন,একদিন তার ভুল ভাঙবে।বুলবুল ভাই আমার সম্মানী নিয়ে এলেন। আমার হাজব্যান্ড খুবই লজ্জা পাচ্ছিলেন। পেমেন্ট নিতে হাত সরছিল না বোধহয়। বুলবুল ভাই জোর করে হাতে গুঁজে দিয়ে বললেন, ‘উনার কথায় মনে করার কিছু নেই।এটা শুরু।ভাবী আপনি ভয় পাবেন না, লজ্জাও পাবেন না, অনেক গান হবে,অনেক। সত্যিই এটা একদম শুরু। আমি আমার মনের মত কন্ঠ পেয়ে গেছি।’

 এই লেখা লিখতে গিয়ে খুব মন খারাপ হয়ে গেলো। সব যেন চোখের সামনে ভাসছে।সেই সিম্ফনি স্টুডিও, খালিদ হাসান মিলু ভাই, পরিচালক বেলাল আহমেদ, আমাদের প্রাণপ্রিয় সব্যসাচী সুরকার সংগীত পরিচালক গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল! কেউই নাই! কি তাজ্জব এই জীবন! কি অদ্ভুত! এতো গল্প,এতো ঘটনা, মুহূর্তেই অতীত হয়ে যায়, ইতিহাস হয়ে যায়! ইতিহাস ইতিহাসই যতই তা সমুজ্জ্বল হোক।সে স্মৃতির পাতায়ই ভেসে ওঠে।তাদের আর কখনই দুনিয়ায় খুঁজে পাইনা। আল্লাহ তুমি উনাদের ওইপাড়ে শান্তি দিও।

ছবি: লেখকের ফেইসবুক ও গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]