নববর্ষের অঙ্গীকার…

দেলওয়ার এলাহী

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

(টরন্টে থেকে): নববর্ষের একেবারে প্রথম প্রহর থেকেই আমার উৎসব শুরু৷ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায়, গানে, পানে। দুপুরে চট্টগ্রামবাসীদের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি নিমন্ত্রণ ও সন্ধ্যায় আমাদের আমিন ভাইয়ের বৈশাখের ইলিশ পোলাওয়ের নিমন্ত্রণ খেয়ে। শুধু দুঃখ, মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রাণখুলে নাচতে পারলাম না! তবু বৈশাখের প্রথম দিনে প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্য পেয়ে শেষতক ভালোই কাটলো।

জীবন এরকমই। আপন গতিতে এগিয়ে যায়। গতকালের হৃদয়ে কালো দাগ কাটা বেদনা আজকের সূর্যোদয়ের সোনালী আলো এসে আস্তে আস্তে ভুলিয়ে দেয়। এক অস্বস্তিকর যন্ত্রণার দগদগে ঘাতেও উপশমের প্রলেপ মাখিয়ে দেয়। আমরা না চাইলেও জীবনের আপন গতি আমাদেরকে ভাটির দিকে নিয়ে যাবেই। পরিণতির দিকে নিয়ে যাবেই।

আজকের বেদনা যেমন দীর্ঘ স্থায়ী নয়; তেমনি, আজকের আনন্দকে সম্মানের সাধনায় ধরে না রাখলে এটাও দীর্ঘ হবার নয়।
আমাদের কান দুটো, পা দুটো, চোখ দুটো, হাত দুটো, কিন্তু একটিমাত্র মুখ। আমরা বেশী শুনবো। বেশী দেখবো। বেশী হাঁটবো। বেশী কাজ করবো। কিন্তু সচেতনভাবে নির্বাচিত এবং উপর্যুক্ত শব্দের প্রয়োগে মেপে কথা বলবো৷ সমাজে, সামাজিক মাধ্যমে, পাঁচকানে কাউকে অসম্মান করবো না। শুভাকাঙ্ক্ষী হলে, কানে কানে তাকে জানামতো সংশোধনী দেবো। কিন্তু তারপরও কিছু কিছু বিষয় আমাদের কাছে বিতর্কের উর্ধ্বে। ব্যক্তি তোষণ ভজন অথবা হেয় প্রতিপন্ন করার বিষয় এটি নয়৷ যেমন আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ অথবা অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।

ঐতিহাসিকভাবে যা সত্য সেটা খণ্ডানোর যেমন কারো হাত বা অধিকার নেই। তেমনি যা সত্য নয়, তা প্রতিষ্ঠা করাও অপরাধ। এই অপরাধ যদি জাতীয় বিষয় নিয়ে হয়, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে হয়, তাহলে এটা গর্হিত অপরাধ। কোন ব্যক্তি, সংগঠন, বা প্রতিষ্ঠান এই অপরাধ করলে তার সত্যাসত্য প্রতিষ্ঠা করা সচেতন মানুষের দায়িত্ব। ব্যক্তির ভালোমন্দ প্রচার করে এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। যেমন সুযোগ নেই অসত্যকে প্রতিষ্ঠা করার ঘৃণ্য পায়তারাকে দমিয়ে দেওয়ার মহতি উদ্যোগকেও।
শুধু মনে রাখা প্রয়োজন আমরা একটি সমাজে বাস করি। প্রায় প্রত্যেকেই আমরা কোন না কোন অনুষ্ঠানে, সামাজিক আয়োজনে একে অন্যের মুখ দেখি। অতএব, এরকম কোন জায়গায় আমরা একে অন্যকে দেখলে যেন পরস্পরের মুখটি ফিরিয়ে না নেই। তাই, কিছু বলার বা লেখার আগে সেদিকে আমাদের প্রত্যেকেরই সচেতনভাবে দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। তার আগে আরো বেশী প্রয়োজন, কারো সম্পর্কে কিছু বলার আগে নিজের অতীতের কালিমালিপ্ত ন্যাক্কারজনক বিষয়গুলো ঢেকে রাখার দায়!

সকলের মঙ্গল হউক। শুভ নববর্ষ।

ছবি: লেখক