নাবিকদের ক্ষুধায় নিশ্চিহ্ন ডোডো পাখি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

১৬৬২-র সেই বসন্তে, নাবিকদের তীব্র ক্ষুধা-ই ছিলো সেইসব ডোডো পাখিদের পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণ। পাখিগুলোর আকৃতি ছিলো হাঁসের চেয়েও বড়। কিন্তু তারা উড়তে পারতো না। কারণ তাদের ডানা ছিলো আকারে ছোট এবং অগঠিত। সেই বসন্তকালে ‘আর্নহেম লংবোট’ নামে এক জাহাজের নাবিকরা পথ হারিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল গহীন সমুদ্রে। জাহাজে নয় দিন ধরে কোনো খাবার নেই। একফোঁটা পানিও ছিলো না কারো বোতলে। তারা ভেবেছিলেন মৃত্যু সুনিশ্চিত। সেই সময় হঠাৎ চোখে পড়ে মরিশাসের পূর্ব উপকূলের ‘আইল দ্য অ্যাম্বার’। আর সেখানেই ছিলো ডোডা পাখির ঝাঁক।
জাহাজের ক্যাপ্টেন ইনভার্টসজুন তার ডায়েরিতে লিখেছেন, ওই পাখির ঝাঁক দেখে তখন তাদের মনে হয়েছিলো, অন্তত একমাস নিশ্চিত অনাহারে মৃত্যুকে হয়তো ঠেকিয়ে রাখা যাবে।কিন্তু সেদিন ক্যাপ্টেন ইনভার্টসজুন অথবা তার সঙ্গীরা জানতেন না পৃথিবীতে বিলুপ্তির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা দুর্ভাগা ডোডা পাখির শেষ ঝাঁকের শেষ সাক্ষী।
মরিশাসে ১৫৯০ সালে মানুষের দৃষ্টিগোচর হয় ডোডা পাখি। তার পর থেকেই এই পাখিগুলো মানুষের শিকারে পরিণত হয়। আর্নহেম লংবোট জাহাজ সেখানে ভেড়ার পর মরিশাসে ঢুকে পড়ে শুকর আর ইঁদুর। ডোডো পাখিদের সব ডিম চলে যেতে থাকে এই প্রাণীদের পেটে।ক্যাপ্টেনের রোজনামচা থেকে জানা যায়, এই পাখিগুলোর মাংস তাদের কাছে মোটেও সুস্বাদু মনে হয়নি। কিন্তু পাখিগুলো উড়তে জানতো না। আর মানুষ নামের অচেনা প্রাণীদের দেখে তারা ভয়ও পায়নি হয়তো। তাই পালিয়ে যায়নি আত্মরক্ষার্থে। আর জাহাজের ক্ষুধার্ত নাবিকরা খুব সহজেই তাদের শিকার করতে পারে।
ইনভার্টসজুন লিখেছেন,‘ মানুষ তাদের তাড়া করছে, তাতেও পাখিগুলো ছোটাছুটি করেনি।তাতে অবশ্য সুবিধাই হয়েছিলো। কারণ পাখি শিকার করার মতো গোলাবারুদ আমাদের সঙ্গে ছিলো না। অবাক চোখে তারা আমাদের অপরিচ্ছন্ন ক্লান্ত চেহারাগুলোর দিকে তাকিয়েই রইলো। আমরা ওদের খুব কাছে যেতেও ওদের ভাবান্তর হলো না!’
নাবিকরা সেই উপকূলে পা রাখার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শুরু হয়েছিলো ডোডো পাখি নিধন। সবাই অবাক হয়ে দেখছিলো, একটা পাখিকে ধরলে পুরো দলটি পালিয়ে না গিয়ে আটক পাখিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে। আর তাতে সবগুলোকে আটক করাও নাবিকদের জন্য সহজ হয়েছিলো।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]