নারীর সেক্সি সেলফি কেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের সেক্সি সেলফি পোস্ট করার বিষয়টা এখন আর চমকে ওঠার মতো কোনো বিষয় নয়। ফেইসবুকসহ অনান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পৃষ্ঠা উল্টালেই এ ধরণের উত্তেজক ছবি চোখে পড়ে। আর সেসব ছবির উপর হামলে পড়ে পুরুষের দৃষ্টি। অবশ্য এ ধরণের ছবির নারী দর্শকদের সংখ্যাও কম নয়।

মেয়েদের এই ট্রেন্ড সম্প্রতি গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছে সমাজবিজ্ঞানীদের কাছে। সম্প্রতি  পৃথিবীজুড়ে নারীদের উপর একটি গবেষণাও চালানো হয়েছে। আর তাতে প্রচলিত ধারণা ভেঙ্গে বের হয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য এবং অন্য সত্য।

এই গবেষণার কাজে প্রয়োজনীয় জরিপটি চালানো হয়েছে মূলত পশ্চিমা সমাজে। কিন্তু এ ধরণের প্রবণতা গোটা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া জুড়েই দেখা যাচ্ছে।কিছুদিন আগে বাংলাদেশে সাঁনাই নামে একজন অভিনেত্রী নিজের বুকের আকৃতি অপারেশনের মাধ্যমে স্ফীত করেন। তারপর নিজের বেশ কিছু সেলফি তিনি আপলোড করেন নিচের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে। বিষয়টি ঝট করেই আলোচনার পারদকে ঠেলে দেয় উপরের দিকে। ওঠে ঝড় পক্ষে বিপক্ষে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সেই অভিনেত্রী পরে একটি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তার স্ফীত বক্ষের ছবি তাকে আলোচনায় তুলে এনেছে। তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশী কাজও পাচ্ছেন।

গবেষণার ফলাফল বলছে, নারীরা তাদের কাজের চাইতে শারীরিক সৌন্দের্যের দিক দিয়ে মূল্যায়িত বেশি হন এটাই তাদের উত্তাপ ছড়ানো সেলফি পোস্ট করার বড় কারণ নয়।এ ধরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি আসার প্রধান কারণ আসলে অর্থনৈতিক বৈষম্য। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন চিন্তাই নারীকে ঠেলে দিচ্ছে ভিন্ন এক বাস্তবতা অথবা বিপদের দিকে।

সম্প্রতি পিএনএএস নামে একটি জার্নালে এই গবেষণার ফলালফ প্রকাশ করা হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা গবেষণার জন্য বেছে নিয়েছিলেন ১১৩ দেশের প্রায় দশ হাজার নারীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে। গবেষণায় দেশগুলোর ভৌগালিক অবস্থান, দেশটির জনসংখ্যা এবং মানবউন্নয়নের বিষয়টি প্রধান্য পেয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য সমাজের ভেতরে এক ধরণের অবস্থানগত অস্থিরতা এবং প্রতিযোগিতার মনোভাবকে ভীষণ ভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর তখনই নিজেকে পাশের মানুষটিকে যে কোনো উপায়ে পেছনে ফেলার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠছেন একজন নারী।

তারা বলছেন, আজকের পৃথিবীতে একটি বড় বাস্তবতা হচ্ছে যৌন আবেদনকে পুঁজি করে একজন নারী নিজের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব করতে পারেন। হতে পারে তথ্যটি নেতিবাচক, কিন্তু এটিও একটি সামাজিক সত্য। আর তাই অনেক নারীই এই অস্ত্রটি প্রয়োগ করছেন আকর্ষক সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে।

একজন নারী নিজের খোলামেলা ছবি নিজের অ্যাকাউন্টে পোস্ট করছে তখন বুঝতে হবে তার কাছে নীতিবোধ অথবা আদর্শিক বিষয়টি আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। সে নিজের অজান্তেই সমাজের একটি ভয়ানক চক্রে সামগ্রী হিসেবে নিজেকে জড়িয়ে ফেলছেন। জটিল করে তুলছেন নিজের চলার পথ।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ ফিজওআরজি

ছবিঃ প্রিয়তির ফেইসবুক থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]