নারী ও শাড়ি …

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এখন শাড়ি নিয়েই সমালোচনা, আলোচনা আর মতের মিল-অমিলের সংঘাতে  সামাজিক গণমাধ্যম ফুটন্ত কড়াই। শুধুই কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম? চায়ের কাপ সামনে নিয়ে আড্ডায়, ফোনের ইনবক্সে, অফিসে কাজের ফাঁকে চলছে আলোচনার দ্রুতগামী ট্রেন।

বলা যায় এখন এ্ই টব অব দ্য টাউন নারীর রহস্যময় সেই আভরণ শাড়ি। কিন্তু কেনো? এই উত্তাপ ছড়ানো বিতর্কের কেন্দ্রে দেশের একটি বিপুল প্রচারিত বাংলা দৈনিকে প্রকাশিত শাড়ি বিষয়ক একটি লেখা। লেখক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

এই লেখায় আমাদের এই প্রাচ্য দেশে রমণীদের শাড়ি পরা, পরিধানের বিশেষ ভঙ্গী, তাদের শরীরের নানান বাঁক, সৌন্দর্ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বেশ লম্বা আলোচনার অবতারণা করেছেন অধ্যাপক সায়ীদ। আর তাতে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন দেশের সচেতন নারীকূল। তাদের কথা হচ্ছে, এই রচনায় কখনো শব্দের কারসাজিতে আবার কখনো প্রত্যক্ষ ভাবেই নারীকে অপমান করা হয়েছে। এমন সব শব্দ সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে যা কুরুচীপূর্ণ। দেশের একজন প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী কনকচাঁপা নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এতো বড় একজন মানুষ, আমাদের বাতিঘর, তিনি শাড়ির ভেতরের মানুষগুলোকে এভাবে ভাবেন! হতে পারে তিনি পুরুষ, তিনি যৌনাবেদনময়ী নারীর আবেদন অবশ্যই বুঝবেন কিন্তু তাই বলে এভাবে বর্ননা!’

লেখক শাশ্বতী বিপ্লব নিজের পোস্টে লেখককের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘আপনি ধান ভানতে শিবের গীতটা ভালোই গাইলেন। বাংলার নারীর একটি পোশাক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে নারীর শরীরের উঁচুনিচু ভাজ, তার কমনীয় এলাকার বিভাজন, বাঙালী মেয়েদের উচ্চতার ঘাটতি, তাদের অসম দেহ গঠন নিয়ে ভালোই চটকালেন। বাহ্। এমন কদর্য আর কামার্ত বিশ্লেষণ করে কতটুকু আনন্দ পেলেন?

আবার এই সমালোচনার ঝড়ের বাইরে দাঁড়িয়ে অভিনয় শিল্পী নুনা আফরোজ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের লেখার বক্তব্যকে সমর্থন করে লিখেছেন, ‘ভালো না লাগলেই অরুচিকর কথা বলতে হবে কেন? মার্জিত ভাষায়ও প্রতিবাদ করা যায় এবং সেটাই উচিৎ।
অপ্রিয় হলেও এটা সত্যি যে নারীকে নারীরাই বেশি অবমাননা করে। আমি জানি আমার এ কথাটি অনেক নারীই সহজ ভাবে নিতে পারবেন না।’ এই বক্তব্যের জবাব দিতেও আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়ে উঠছেন নারীরা। পুরুষরাও এই পাল্টাপাল্টি তীর নিক্ষেপে পিছিয়ে নেই। তাদের কেউ এই লেখার পক্ষে যুক্ত দাঁড় করাচ্ছেন আবার কেউ প্রকাশ করছেন ক্ষোভ। এমন পক্ষে-বিপক্ষে সংলাপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তাপ। অবশ্য অধ্যাপক সায়ীদ অথবা সেই পত্রিকাটির কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি।

এবার প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজন শাড়ি বিষয়ক তুমুল বিতর্কের খানিকটা।

এই মানুষদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিক্রিয়া প্রাণের বাংলার পাতায় প্রকাশিত হলো।  

 

কনকচাঁপা

দেশের বাইরে আছি প্রায় এক মাস, অনেক কিছুই সময় মতো জানিনা। হঠাৎ দেখি শাড়ি পরা নিয়ে অনেক স্ট্যাটাস। বুঝলাম কিছু একটা হয়েছে। তো জানতে চাইতেই লিংক পেলাম। এবং মনোযোগ দিয়ে পড়ে থমকে গেলাম।

এতো বড় একজন মানুষ, আমাদের বাতিঘর, তিনি শাড়ির ভেতরের মানুষগুলোকে এভাবে ভাবেন! হতে পারে তিনি পুরুষ, তিনি যৌনাবেদনময়ী নারীর আবেদন অবশ্যই বুঝবেন কিন্তু তাই বলে এভাবে বর্ননা! বড়দের যে অনেক বড় হতে হয়, মানুষ যা ভাবে তারচেয়েও বড় হয়ে থাকতে হয় এটা কি ওনাকে আরও বড় কেউ বোঝাতে পারবে?

শাড়ির এমন রসালো বর্ননাতে বুঝিয়ে দিলেন উনি দিনশেষে একজন পুরুষ। আমরা বাতিঘর হিসেবে আসলে একজন মানুষ চাই বা চেয়েছি।

আমার প্রশ্ন যে আমরা নারীরা কি এ দেশের পুরুষদের কাছে কখনওই মানুষ হয়ে উঠবো না? আর প্রথম আলোর একদম উচিত হয়নি ফিচার ছাপানোর আগে এইটুকু আগ- পিছ না ভাবা। উনার বয়স হচ্ছে, সেখানে কিছু নিবিড় পর্যবেক্ষণ দরকার ছিলো। সাধারণ মানুষ যেখানে এই ফিচারের অসংলগ্ন বাক্যধারাতে রিয়্যক্ট করছে সেখানে এই জাতীয় দৈনিক এর কারো চোখে ছাপানোর আগে চোখে পড়লো না!

ভেবে খুবই খারাপ লাগছে যে আমাদের আসলেই নিরবচ্ছিন্ন ভাবে গর্ব বোধ করার মত বাতিঘর নাই, একটাও নাই, একজনও নাই। নিজেকে খুব অসহায় লাগছে।

নূনা আফরোজ

 শাড়ী বিষয়ে একটা বিশ্লেষণধর্মী লেখা নিয়ে অনেকেই কেন এত রিএ্যাক্ট করছেন বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে। বুঝলাম অনেকেরই আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের লেখাটি ভালো লাগেনি। তা ভালো না-ই লাগতে পারে তাই বলে বিগত ছয়টি দশক ধরে আমাদের
শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির পথে, সুন্দরের পথে, আলোর পথে হাঁটা আর হাঁটতে হাঁটতে একটি উজ্বল বাতিঘর হয়ে ওঠা মানুষটিকে নিয়ে কেউ কেউ এমন আপত্তিজনক, অরুচিকর মন্তব্য করছেন
সেটা সত্যিই দুঃখজনক।
ভালো না লাগলেই অরুচিকর কথা বলতে হবে কেন?মার্জিত ভাষায়ও প্রতিবাদ করা যায় এবং সেটাই উচিৎ।
অপ্রিয় হলেও এটা সত্যি যে নারীকে নারীরাই বেশি অবমাননা করে। আমি জানি আমার এ কথাটি অনেক নারীই সহজ ভাবে নিতে পারবেন না এবং প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক নারীবাদী নারী-পুরুষ তাদের মন্তব্যে অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে বসবেন।
নারীরাই যে নারীদের প্রধান অন্তরায়।
নারী অতিমাত্রায় নারী হতে গিয়েই
যুগে যুগে পিছিয়ে পরেছে এবং আজও পরছে।

নারীগণ, নারী থেকে মানুষ হবার পথে পা বাড়াও সেটাতেই তোমার যথার্থ সম্মান। যে অভিযোগে আজ শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারকে অভিযুক্ত করছো তাহলে সেই অভিযোগেই
রবীন্দ্রনাথ-নজরুল জীবনানন্দসহ সকল
কবি, সাহিত্যিক,লোকশিল্পী,বাউলও
অভিযুক্ত হবেন।
হে নারী,
তুমি রূপসী, তুমি নারী,
তুমি পৃথিবীর সেরা পেইন্টিং
তোমার সৌন্দর্য, সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই
সকল সময় সকল সৃজনশীল মানুষের
সৃজনশীল কর্মের অনুপ্রেরণা।
তাইতো তোমার সৌন্দর্যের স্তুতিতেই
কাব্যের সার্থকতা।
এই স্তুতি কি নারীকে ছোট করে নাকি
সম্মানিত বা মহিমান্বিত করে?

আনিস আলমগীর

‘শাড়ি পৃথিবীর সবচেয়ে যৌনাবেদনপূর্ণ অথচ শালীন পোশাক। শুধু শালীন নয়, রুচিসম্পন্ন, সুস্মিত ও কারুকার্যময় পোশাক।…. আমার মনে হয় এরকম একটা অপরূপ পোশাককে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে বাঙালি মেয়েরা সুবুদ্ধির পরিচয় দেয়নি।’

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ‘শাড়ি’ বয়ানে প্রথম লাইন শেষ লাইন এগুলোই। এখানে সমস্যা কোথায়? মাঝখানে নারীর রূপ সৌন্দর্য বর্ণনা? তিনি তো একজন সাহিত্যিক। শিক্ষকও। আমার সরাসরি শিক্ষক ঢাকা কলেজে। একজন সাহিত্যিক নারীর রূপ-সৌন্দর্যকে যেভাবে বর্ণনা করেন আমজনতার বর্ণনা থেকে তা তো ভিন্ন হতেই পারে। নাকি শিক্ষক হয়েছেন বলে উনি নারীর সৌন্দর্য বর্ণনা করতে পারবেন না! তার বর্ণনায় কোন লাইনগুলো আপনার কাছে অশ্লীল মনে হলো? কেন মনে হলো?

অধ্যাপক আবু সায়ীদ বলেছেন যে, ১০% মেয়েকে বাদ দিয়ে, বাঙালি নারীদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি থেকে ৩ ইঞ্চির সামান্য এদিক ওদিক। শাড়ি পরে মেয়েরা ভিনদেশী মেয়েদের তুলনায় তাদের উচ্চতার এই ঘাটতি মেকআপ করতে পারেন, যা অন্য পোশাকে সাধারণত পারেন না। এটি তো তথ্য উপস্থাপন করে উনার ধারনা প্রকাশ, এখানে বডি শেমিং এর কি আছে?

নারী শাড়ি পরবেন, নাকি স্কার্ট পরবেন, নাকি সালোয়ার কামিজ পড়বেন, সেটা অবশ্যই নারীর একান্ত বিষয়। কিন্তু বাঙালি পুরুষ জাতির একজন হিসেবে অধ্যাপক আবু সায়ীদ কি মতামত দিতে পারেনা যে, বাঙালি নারীদেরকে শাড়িতেই ভালো মানায়? এটা উনার মত আবার অনেকে মনে করেন আমাদের পোশাক-পরিচ্ছদ আসলে বয়স এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। স্থান-কাল-পাত্র চিন্তা করেই আমরা পোশাক পরিধান করি। শাড়িই পরতে হবে কথা নেই।

আমি বহুদিন আগে একবার বলেছিলাম, বৈশাখী সাজে বাঙালি নারীকে পৃথিবীর সবচেয়ে রূপসী নারী মনে হয়। হ্যাঁ, আমারও মনে হয়। আপনার হয়তো হয়না।

মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য মায়াকান্না করবেন আবার মতপ্রকাশের সংস্কৃতিকে জেন্ডার ইস্যু বানাবেন। এটা খুব অন্যায়। ফেইসবুক বিশ্ববিদ্যালয়ে কি ইস্যুর অভাব পড়েছে?

চঞ্চল আশরাফ

শাড়ি নিয়ে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের রচনাটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ফেসবুকে। অনেকেই তাঁর লেখাটিকে অশ্লীল সাব্যস্ত করেছেন।কেউ কেউ এই রচনায় ব্যবহৃত নারী শরীর-সংক্রান্ত ‘দেহবল্লরী’, ‘আঁকাবাঁকা’, ‘উঁচুনিচু’ শব্দে আপত্তি জানিয়েছেন।

কিন্তু বিস্ময়কর, রচনাটিতে ব্যবহৃত একটি শব্দ এড়িয়ে গেছেন সবাই।তাহচ্ছে, ‘রমণীয়’।শব্দটি খুব পুরুষতান্ত্রিক, এর অর্থও গভীরভাবে পুরুষতান্ত্রিক। নারীবাদী সংবেদনশীলতার চাপে শব্দটি সমাজ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলো; টিকে ছিলো কেবল অভিধানেই। গত দুইদশকে এর ব্যবহার আমার চোখে পড়েনি। কিন্তু আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ শব্দটিকে সমাজে ফিরিয়ে আনলেন।

‘রমণ’ শব্দের কয়েকটি অর্থের একটি হলো ‘রতিক্রিয়া’; ‘রমণী’ শব্দটি তৈরি হয়েছে ‘রমণ’ থেকেই।আর ‘রমণীয়’ শব্দের অর্থঅভিধানে যতো ‘সুন্দর’, ‘মনোরম’, ‘প্রীতিকর’ হোক না কেন, তা মনে করিয়ে দেয় ‘রমণ’ শব্দের ওই পুরনো অর্থকেই। ‘দেহবল্লরী’ বরং যথেষ্ট শ্লীল, কেননা এতে শরীরকে আলঙ্কারিক ভাবেই দেখা হচ্ছে।অর্থাৎ লতা, মঞ্জরি, মুকুলের রূপকে দেহকে দেখানোর অভিপ্রায় শব্দটিতে স্পষ্ট।কিন্তু সমস্যা হলো, পুরুষের পৃথিবীতে শব্দটি বরাদ্দ হয়েছে নারীর জন্য, আর লেখক যদি নিজের লৈঙ্গিক পরিচয় নিয়ে তাঁর রচনায় হাজির হতে চান, সে-অধিকার তাঁর রয়েছে।

এটাঠিকযে, শাড়ি অপটিক্যাল ইলিউশন বা দৃষ্টি বিভ্রম তৈরি করে।কিন্তু এর ব্যাখ্যায় নারী শরীরের প্রতি লেখক এতো মনোযোগী হয়েছেন, ভাষা সেই চাপ সামলে উঠতে পারেনি।নারী-শরীর যতোটা উন্মোচিত হয়েছে এই রচনায়, তার চেয়ে বেশি প্রকাশ্য হয়েগেছে তাঁর পুরুষ সত্ত্বাটি।এতো প্রতিক্রিয়ার কারণ এটাই।

প্রাচীন গ্রিক-রোমান-মিশরীয়দের মধ্যেও পোশাক হিসেবে ড্রেপিংয়ের প্রচলন ছিলো।উপমহাদেশের নারী এই প্রাচীন পরিধেয়টিকে নিজেদের মতো করে আজও ধরে রেখেছে শাড়ির আঙ্গিকে। তাকি শুধু দৈহিক উচ্চতার সীমাবদ্ধতা আড়াল করার জন্য? নিজেদের ‘রমণীয়’ করে তোলার জন্য?

শাশ্বতী বিপ্লব

জনাব আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, আপনার কি মনে হয়, বাঙালী নারীদের যৌনতা ছাড়া আর কোন কাজ নাই? অষ্টপ্রহর তারা শুধু পুরুষের মনোরঞ্জন নিয়ে ভাবে? নিজেদের দেহের ঘাটতি নিয়ে বিচলিত থাকে?

কি জানেনতো, এইদেশে তেতুল হুজুর বলতে একটা সম্প্রদায় আছে, যারা নারীর পোশাকে শুধু যৌনতা খুঁজে পায়। আপনিতো তাদেরকেও হার মানিয়ে দিলেন! তেতুল হুজুরেরাও মননে সর্বদা কামার্ত পুরুষ সত্যি, কিন্তু তারা আপনার মতো বাঙালী নারীর দেহগঠণের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে পারে নাই আজও।

আপনি ধান ভানতে শিবের গীতটা ভালোই গাইলেন। বাংলার নারীর একটি পোশাক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে নারীর শরীরের উঁচুনিচু ভাজ, তার কমনীয় এলাকার বিভাজন, বাঙালী মেয়েদের উচ্চতার ঘাটতি, তাদের অসম দেহ গঠন নিয়ে ভালোই চটকালেন। বাহ্। এমন কদর্য আর কামার্ত বিশ্লেষণ করে কতটুকু আনন্দ পেলেন?

শাড়ি পড়ে বাঙালী মেয়েরা নিজেদের দেহসৌন্দর্যের ঘাটতি ঢাকে আর পাশ্চাত্য পোশাক পরে বাঙালী মেয়েরা নিজেদের ইউরোপীয় সুন্দরীদের সমকক্ষ ভেবে হাস্যকর আত্মতৃপ্তি পায় – এই তত্ত্বই বা কোথায় পেলেন আপনি? আপনার হয়তো জানা নেই, মানুষ পোশাক পরে তার স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী এবং এই স্বাচ্ছন্দ্যের অন্যতম প্রধান অংশ কাজের উপযোগিতা। যে পাশ্চাত্যের নারীদের সৌন্দর্য্য নিয়ে অতো আহাজারি করলেন, তারাও পোশাক পরে তাদের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী, পুরুষের কামনাকে তৃপ্ত করতে নয়।

আপনি নাকি আলোকিত মানুষ গড়তে চান? অথচ আপনার নিজের মগজটা নিগূঢ় আদিম অন্ধকারে ভরা! আপনি হয়তো ভেবেছেন, শুধু দেশী-বিদেশী সাহিত্য পড়লেই আলেকিত মানুষ হওয়া যায়। কি হাস্যকর আত্মতৃপ্তি! অথচ, আলোকিত হতে হলে সবার আগে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখতে হয়, সেই সত্যটা জানাই আপনার বাকি রয়ে গেছে দেখছি।

এতো এতো বই পড়েও আপনি জানেননা, কোন মানুষের যোগ্যতা তার শরীরে নয়, তার মেধায় থাকে। নইলে শুধুমাত্র সুন্দর শরীর বানিয়েই সবাই বিশ্বজয় করতো। এমনকি বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতাও শুধুমাত্র শারীরিক সৌন্দর্য দিয়ে জেতা যায় না।

আপনারতো গোড়ায়ই গলদ স্যার। আপনার মগজের এই প্রগাঢ় অন্ধকার কে দুর করবে?

নুরুল্লাহ মোহাম্মদ

শাড়িতে এ অঞ্চলের মেয়েদের সেক্সি লাগে; পৃথিবীর অন্য জাতির মেয়েদের শাড়িতে সেক্সি না লাগলেও বাঙালি মেয়েদের সেক্সি লাগেবেই। সেক্সি লাগার জন্য কিছুটা ঘাটতি যদি কারো থাকেও শাড়ি সেটা অটো মেকাপ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এই অঞ্চলে বিভিন্ন জাতির মিশ্রণের ফলে কোনো কমন ফিজিক্যাল স্ট্রাকচার নেই বলেই এখানে শাড়ি অত্যন্ত ফিট পোষাক। শাড়ি পড়ে একি সঙ্গে সেক্সি এবং অসেক্সি দুটো ইমপ্রেশনই দেয়া সম্ভব। তবে টু বি সেক্সি, শাড়িই বেস্ট। বর্তমান তরুণীরা শাড়িকে অবহেলা করে ঠিক করেনি!

এই তো মূল বক্তব্য সায়ীদ স্যারের, নাকি অন্য কোন গুপ্ত রহস্য আছে লেখার?

অলংকরণ: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]