নাড়ির টানে বার বার আসি

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

গিয়াস আহমেদ

গিয়াস আহমেদ

আমাদের বিরাট বাড়ি। একদা এ বাড়ি গমগম করত। এখন সবাই শহরবাসী। বিরাট ভিটা হাহাকার করে। বাড়ি আছে, বাড়ির মানুষ নেই।
তবু নাড়ির টানে বাড়ি আসি। এখানে পূর্বপুরুষের শেষ শয্যা। তাদের মাটির ঘরের পাশে এসে দাঁড়াই। কাঁদি। fb_dec_4
আণ্ডা-বাচ্চা নিয়ে এবারও এসেছি কংশুর। আমার গ্রাম।
বাচ্চারা উদার রোদে-বিশুদ্ধ বাতাসে ছোটাছুটি করে। আমরা ক্ষেতের ধানের ভাত বিলের মাছ-শাকে মেখে খেয়ে, পিঠে রোদ মেখে অলস বসে থাকি। আর পুরনো দিন এবং হারানো দিনের স্মৃতিচারণ করি।
এরই মাঝে চলে এলেন ফরিদ ভাই( ফরিদ এম  গাজী )সপরিবারে। ভাইয়ের যা স্বভাব- এসেই বাড়িতে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন। বলা যায় প্রাণসঞ্চার করেছেন। আমরা মেয়েরাও তাতা-তাতী আর হৃদিতাকে পেয়ে বিপুল বিক্রমে আনন্দ-খেলায় মেতেছে।
এরই মাঝে ফরিদ ভাই ফজরের ওয়াকক্তেটে টেনে তুললেন, ‌’চল, মাছ কিনতে যাব।’
চললাম উলপুর বাজারে। ওখানে ভোরের বাজারে বিলের তাজা মাছ ওঠে। ওই সাত-সকালেই আমাদের সঙ্গী ভাই-ব্রেদার, চাচাকূল।
কেনা হলো মাছ। শীতের সব্জি। সে ঝিলিক আর রূপ আর তাজা মাছ আর তরতাজা সব্জির! পারলে পুরো বাজারই দুই ভাই তুলে আনি।
কেনাকাটা্র ফাঁকে চলে আমজাদ দুদুর চেনা দোকানির আগুন গরম সিঙ্গারা ফুঁ দিতে দিতে খাওয়া। ২ টাকার সিঙ্গারা। ৫টা কিনলে একটা ফ্রি।
তারপর দলবেঁধে মধুমতী নদীর পাড়ের ছোট্ট হোটেলে নাস্তা।
[সেই নাস্তা ফুড পয়জনিং পর্যন্ত গড়িয়ে আমাকে চরম নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে! এখনো ভয়ে ভয়ে তার ভার বইছি]।

তবে, আছি মহাসুখে। ফরিদ ভাই আর আমি একসঙ্গ হলে সব চন্দ্রভুক অমাবশ্যা কেটে যায়, সুখ এসে নামে আমাদের পৃথিবীতে।

বন্ধু, তুমি আসবা আমাদের কংশুরে? আমাদের ছোট গায়? নিমন্ত্রণ…।

ছবি: গিয়াস আহমেদের ফেসবুক থেকে