নায়িকা চাই…

অপুর সংসার ছবিতে অপর্ণা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শর্মিলা ঠাকুরের আগে সত্যজিৎ রায় নির্বাচন করেছিলেন লিলি চক্রবর্তী নামে আরেক জন অভিনেত্রীকে। সত্যজিৎ রায়ের প্রোডাকশন কন্ট্রোলার ভানুবাবু একদিন সকালে লিলি চক্রবর্তীর কলকাতা শহরের উল্টোডাঙার বাড়িতে হাজির হন। লিলি চক্রবর্তীকে বলেন, ‘মানিক’দা (সত্যজিৎ রায়) তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন।’ কথাটা শুনে লিলি চক্রবর্তী সেদিন ভীষণ অবাক হয়েছিলেন। ব্যাপারটা তার কাছে ছিলো হাতে চাঁদ পাবার মতোই।

১৯৫৮ সালে  সত্যজিৎ রায় দেশ পত্রিকায় নায়িকা চাই বলে বিখ্যাত বিজ্ঞাপনটিও দিয়েছিলেন।  সেখান থেকে চলছে নায়িকা বাছাইয়ের কাজ। লিলি সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন তিনি ‘ভানু পেলো লটারি’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয় করে ফেলেছেন। সেদিন লিলি চক্রবর্তীকে অপর্ণার মতো করে সাজিয়ে দেন সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী বিজয়া রায়। ফটো সেশনও করলেন সত্যজিৎ রায়। কিন্তু চলে আসার সময় সত্যজিৎ রায় লিলিকে বলেছিলেন, ‘তোমায় আমার খুব পছন্দ হয়েছে।‘অপুর সংসার’ করছি। তবে আরেকটি মেয়েকেও ঠিক করেছি, তাঁর বাবা যদি রাজি হয়ে যান তাহলে কিন্তু তোমায় নিতে পারব না।’ আর সেই মেয়েটি-ই শর্মিলা ঠাকুর।

শর্মিলা ঠাকুর তখন সেন্ট জন’স ডায়াসেশনে পড়াশোনা করছেন। স্মার্ট, ঝকঝকে চেহারা। ঠাকুর পরিবারের সন্তান শর্মিলার বাবা গীতীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন স্বয়ং গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাতি। সত্যজিৎ রায় কিন্তু শেষ পর্যন্ত  শর্মিলা ঠাকুরকে অপর্ণা চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত করেন তার বাবার অনুমতি পেয়ে।

শর্মিলা ঠাকুরকে প্রথম দেখে পছন্দ করেন সত্যজিৎ রায়। ‘অপুর সংসার’-এর অপর্ণাকে দেখতে তিনি গিয়েছিলেন শর্মিলা ঠাকুরের বাড়িতে। সেদিন একটা্ হলুদ রঙের ফ্রক পরা ছিলেন শর্মিলা। মাথায় বব ছাঁট চুলের সেই মেয়েকেই সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী একটি শাড়ি পরিয়ে, চুলে খোঁপা বেঁধে, কপালে টিপ পরিয়ে দিয়েছিলেন। আর তৈরি হয়ে গিয়েছিলো ‘অপর্ণা’ চরিত্রের ফার্স্ট লুক। মাত্র তেরো বছরের মেয়েটি অনায়াসে ক্যামেরার মুখোমুখি। পাশে অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।শর্মিলা ঠাকুরের ভাষায়, রোমিও জুলিয়েটের পর কয়েক দশক ধরে সব চাইতে রোম্যান্টিক জুটি অপু আর অপর্ণা।

সত্যজিৎ রায় নাকি অভিনয়ের সময় প্রতি বিষয়ে খুঁটিনাটি সব বলে দিতেন। অপর্ণা চরিত্রটি কতটা ডান দিকে তাকাবে? কতটা চোখ তুলবে? কোন দিকে তাকিয়ে হাঁটবে? সব। আর শর্মিলা ঠাকুরও পরিচালকের সব নির্দেশ গ্রহণ করে চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। শর্মিলা ঠাকুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছেন, ‘অপু-অপর্ণার সম্পর্ক এক ধরনের সরল দাম্পত্যের ‘আইকন’ হয়ে উঠেছিলো বাঙালির মনে। ছবিটায় অদ্ভুত এক সারল্য ছিলো। ওই সময়ে আমাদের জীবনেও যে সারল্য আর আশা ছিলো, তা-ই প্রতিভাত হয়েছিল পর্দায়।’

পরে সত্যজিৎ রায়ের চারটি ছবিতে অভিনয় করেন শর্মিলা ঠাকুর, ‘দেবী’, ‘নায়ক’, ‘সীমাবদ্ধ’ আর ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’। প্রতিটি ছবিতেই ক্রমাগত নিজেকেই অতিক্রম করে গেছেন তিনি।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, গুলগাল
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box