না, গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

(কলকাত থেকে):  খুব অসুবিধায় না পড়লে, গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না। টিশার্টে বা খোঁপার কাঁটায় লেখা থাকলেও দাঁড়াবেন না, না লেখা থাকলেও দাঁড়াবেন না। মুখে বললেও দাঁড়াবেন না, না বললেও দাঁড়াবেন না।
খুব ভিড় বাসে বা মেট্রোয় অনেক সময়েই দলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার অবস্থা হয়। জানি। কিন্তু তা না হলে, যদি আমার গায়ের সঙ্গে খানিক দূরত্ব রেখে আপনার দাঁড়ানোর সংস্থান থাকে, তা হলে সেটাই অ্যাভেল করবেন দয়া করে। আবার একই সঙ্গে, ভিড়ে গা ঘেঁষে দাঁড়াতে যদি আপনি বাধ্যও হন, তা হলে যেন সেটা ‘ঘেঁষা’ অবধিই থাকে, ‘ঘষা’ না হয়ে যায়।

যদি মনে করেন নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল, তা হলে আগে থেকেই সাবধান হয়ে থাকুন, গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না।

না না, ওরকম চোখ কুঁচকোবেন না। ‘পুরুষ মানেই খারাপ নয়’ বলে রোঁয়া ফুলিয়ে তেড়ে আসবেন না। আমার প্রথম ঘষা খাওয়ার অভিজ্ঞতা ক্লাস সিক্সে। বাসের সিটে বসে ছিলাম। পাশে দাঁড়িয়ে আপনারই প্রজাতির প্রতিনিধি তাঁর পুরুষাঙ্গ ঘষছিলেন আমার বাঁ কাঁধে। বুঝিনি। এখনকার ক্লাস সিক্স আর আজ থেকে প্রায় দু’দশক আগের ক্লাস সিক্স এক ছিলো না। সে দিন না বুঝলেও, পরবর্তীতে গা-ঘিনঘিন সঙ্গী হয়ে থেকেছে আজীবন।

তাই বাচ্চা মেয়ে, কিছু বলবে না, এটা ভেবেও গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না।

তার পরেও যখন আপনি গা ঘেঁষেই দাঁড়াবেন, ইচ্ছেয় না হোক, অনিচ্ছেয়, তখন সেই গায়ের মালিক যদি ঝটাং করে ঘুরে সটান রক্তচক্ষে তাকান, তা হলে সামলে নিন নিজেকে। সরে যান। উপায় না থাকলে বিনীত করুন চোখমুখ। অসহায় অবস্থার সত্যতা প্রমাণ করার চেষ্টা করুন। অপর পক্ষকে বোঝান, দায়ী ভিড়। আপনার পারভারশন নয়। উদ্ধত গলায় চেঁচিয়ে উঠবেন না, ‘ভিড়ে একটু অমন হয়!’ আপনার কাছে ব্যাপারটা ‘একটু অমন’ হলেও, অপর পক্ষের কাছে হয় তো অনেকটাই চরম। ফিল করুন।
না করলে থাপ্পড় খান। ইচ্ছে-অনিচ্ছে, বাধ্যতা-ঔদ্ধত্যের ফারাকটা বোঝা যায় আসলে।

সেই ফারাকটা করতে না পারলে, বাধ্য হয়েও গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না।

আর হ্যাঁ। বেশির ভাগ সময়েই, বেশির ভাগ পুরুষই গা ঘেঁষে দাঁড়ান না। যদিও কেউ দাঁড়াতে বাধ্য হন, অসভ্যতা করেন না। দায়িত্ব নিয়েই বলছি। করেন না। তার পরেও অনেক সময়েই যখন অস্বস্তিকর স্পর্শ ঘটে যায়, তখন উল্টো দিকের পুরুষটিও ততটাই অস্বস্তি অনুভব করেন, যতটা আমি করছি। না। সকলে পরিস্থিতির ‘মজা’ নেন না। বেশির ভাগই নেন না। যাঁরা নেন, তাঁরা পরিস্থিতি ব্যতিরেকেই নেন। তাই ভিড়ে অবাঞ্ছিত স্পর্শমাত্রেই চিৎকার করে ওঠাটা সব সময় প্রতিবাদ নয়, নিরপরাধীকে লজ্জায় ফেলাও হতে পারে।

তাই সব দিক ভেবে, কেউ কারও গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না। কাউকে বা কোনও কিছুকে দাঁড় করাবেন না।

ছবি: গুগল