নিউইয়র্কের মধ্যে আমার প্রিয় মিনি বাংলাদেশ

সদেরা সুজন

(কানাডা থেকে): এ নিয়ে অনেকবার নিউইয়র্ক গিয়েছি। কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের পূর্বে বেশ ক’মাস থেকেছিও নিউইয়র্কে। যতবারই গিয়েছি ততোবারই নিউইয়র্কের আমার প্রিয় মিনি বাংলাদেশ জ্যাকসন হাইটস্ এবং ব্রোকলেন যেতে ভুল করিনি। এবার জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে সংবাদকর্মী হিসেবে যাবার সৌভাগ্য আমার হয়েছিলো। বিশ্বের অন্যতম একটি শীর্ষস্থান জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গিয়ে হাজার হাজার ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সান্নিধ্যে জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা হলো। কী বিশাল আয়োজনে বিশ্ব মিলনমেলা! সেখানে যে ক’দিন ছিলাম শুধু বৃষ্টি আর বৃষ্টি। বৃষ্টিতে কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে ফলে রুবীকে নিয়ে বেশী বেড়াতে পারিনি। ভীষণ ব্যস্ততার মাঝেও Jackson heights আর Brooklyn যেতে ভুল করিনি। সেখানে যাওয়া মানেই পুরোপুরিভাবে বাংলাদেশের আবহ। ঠিক বাংলাদেশের সিলেটের জিন্দাবাজারের মতোই মনে হয়। সত্যি কথা বলতে কি জিন্দাবাজার এলাকায় যা পাওয়া যাবে না সেখানে তারচেয়ে বেশীকিছু পাওয়া যাবে। সবাই হাত দিয়ে ভাত খাচ্ছে, পান চিবুচ্ছে, ম্যারাথন আড্ডা চলছে আরো কত কি? এবারে জ্যাকসন হাইটসে গিয়েছি রুবীর জন্য। মাত্র একদিন ভাত খেতে পারেনি ফলে বুঝতেই পারছেন? রকমারি আইটমের ভাত আর পান নিয়ে আসি হোটেলে, (লতা চিংড়ি, মলা মাছের চর্চরি, ইলিশ পোলাও, ডাল আরও কত কি!) সেখানে পরিচিতজন আর প্রিয় বন্ধু আর ক্লাসমেটদের সঙ্গে আড্ডা। সময় কম তারপরে গতানুগতিক জীবনের ধারাবাহিক থেকে একটু ভিন্ন আমেজে জীবনপ্রবাহ ভালোই লেগেছে। মেঝদা ভীষণ ব্যস্ততার মাঝেও অনেকটা সময় আমাদেরকে নিয়ে ঘুরেছেন। সত্যিই তাঁর বাসার খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডা বেশ আনন্দের ছিলো।বৌদির অসুস্থ শরীর নিয়ে রকমারি খানাদানার ব্যবস্থা আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। সমন্ধিক বিভাষদা ও বৌদি’র আন্তরিকতা,রান্না করে হোটেলে রাতের খাবার পাঠানো সেটাতো ছিলো আমাদের জন্য আরো বাড়তি পাওনা। আমার বাচ্চাদের উৎসাহ এবং উদ্যোগেই ছিলো আমার এ যাত্রা। নিউইয়র্ক থাকাবস্থায় ফোন করে যারা খবরাখবর নিয়েছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে