নিকানোর পার্’রা-এর তিনটি কবিতা

এই নিকানোর পার্’রা-এর তিনটি কবিতা অনুবাদ করেছেন রায়হান শরীফ। ইংরেজী সাহিত্য ও কালচারাল স্টাডিজ এর অধ্যাপনা করেছেন টানা সাত বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গবেষণারত।

 

 

 


যা বলেছি তার সবকিছুই  ফিরিয়ে নিচ্ছি

যাবার আগে
একটা শেষ ইচ্ছাঃ
সহৃদয় পাঠক!
এই বইটা  পুড়িয়ে ফেলুন।

এখানে যা লেখা,
সেটা কিছুতেই তা নয়
যা বলতে চেয়েছিলাম।

যদিও রক্তের আখরেই লেখা
তবু এ আমার বক্তব্য হয়ে উঠেনি একবারেই। 440px-eucosma_flavispecula

কে আছে আমার মত কপালপোড়া?
নিজেই নিজের ছায়ার কাছে পরাজিত?
আমার শব্দেরা আমার উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে।

ক্ষমা করুন, প্রিয় পাঠক!
উষ্ণ আলিঙ্গন দিয়ে
বিদায় নিতে পারলাম না বলে।
তার বদলে রেখে যাচ্ছিঃ
চেষ্টাকৃত, বিষণ্ণ এক হাসির রেখা।

কি জানি, হয়তো আমি এরকমই!

তবে একটা কথা শুনে যান
হে প্রিয় পাঠক!
যা বলেছি তার সবকিছুই  ফিরিয়ে নিচ্ছি ।

পৃথিবীর প্রতি একরাশ তিক্ততা নিয়ে
যা বলেছি তার
সবকিছুই  ফিরিয়ে নিলাম।

অদ্ভুত, না তো কী?

সব প্রেমপত্রই  অদ্ভুত।
অদ্ভুত না হোলে সেগুলো
প্রেমপত্র হতো না। poetry

প্রেমপত্র- তাতে প্রেম বলে  যদি কিছু থাকে,
অদ্ভুত হবেই।


দর্শন কোন কাজে লাগে?
নুড়িবিদ্যার ক্লাসে
তাঁর ছাত্ররা শুধালো।

আর বাদশাহ্ নামদার ফরমালেনঃ
দর্শন এর উপর পাঠ দেয়া চলে
রুজি কম, তবে দিন তো চলে!

নিকানোর পার্’রা (১৯১৪-)  চিলির কবি। তাঁর  এন্টি-পোয়েটিক্স এর একটা মূল কথা হলঃ”কবিতায় সব চলে, যা ইচ্ছে করতে থাকো” এন্টি-পোয়েট তিনিই যিনি তাঁর কবিতাকে বেশ গুরুত্ব  দিয়েই নেন, কিন্তু কবিতার প্রথাগত ভাবগাম্ভীর্যের মুখের উপর  একই সাথে ফিক করে হেসে ফেলেন। সে হাসি আবার স্রেফ খেয়ালের বশে বা জেলো নয়, মোটেও। সে-ও পাঠককে যেন বুঝিয়ে দিতে চায় কিছু একটা।