নিজেদের প্রমান করার দায় আজ আপনাদের

তামান্না সেতু

আপনারা বাবারা কী জানেন, প্রকাশ করি আর না করি, দিনে দিনে কিছু পুরুষদের কারনে আমরা মায়েরা সত্যিই আপনার কন্যাকে আপনার হাতে দিতে ভয় পাই৷

বাবার কাছেও মেয়েকে রেখে এখন আমরা অফিস যেতে, গোসলে যেতে, রান্না ঘরে কাজ করতে ভয় পাই।

কিছুদিন আগে বাতিঘরের একজন অভিভাবক প্রচন্ড করুন গলায় আমাকে বলছিল, ‘আপা, আমার ভাই থাকে বাসায়। কিন্তু তাকে দিয়ে মেয়েকে স্কুলে পাঠাবো কিনা বুঝতে পারছি না।’
তার কথা শুনে আমার চোখের সামনে আমার সাত মামার মুখ ভেসে উঠেছিলো! আমি বাবা ছাড়া বড়ো হওয়া মেয়ে, মার কাছেও ততোটা থাকিনি যতোটা মামাদের কাছে থেকেছি। এখনো আমার গায়ে তাদের গন্ধ লেগে আছে। তারা আমার সমস্ত পবিত্রতার কেন্দ্রবিন্দু। শুধু আপন মামাদের কথাই বা বলবো কেন! আমরা মফস্বলের মেয়ে, মামার বন্ধুরা অব্দি আপন মামা। তাদের কোলে পিঠে বড় হয়েছি। আজকের তামান্না সেতু হয়ে ওঠার পিছে তাদের প্রত্যেকের অবদান আছে। তারা ‘মা’ বলে ডাকে এখনো আমাকে। আজীবন ফরিদপুরের ওই গলির সকল ভাগ্নি এই বিশ্বাস নিয়ে বড় হবে না এ আমি ভাবতে পারি না।

মানুষ হয়ে জন্মে এর চেয়ে বড় কষ্ট, অপমান একজন পুরুষের আর কী কিছু আছে? কেমন লাগে যখন আপনি অনুভব করেন আপনার বোন আপনার ভাগ্নীকে, আপনার স্ত্রী আপনার কন্যাকে, আপনার মেয়ে আপনার নাতিকে আপনাদের কোলে দেয় না? কেমন লাগে?

এ অবিশ্বাসের জন্য, এই অপমানের জন্য যারা দায়ী তাদের বিচারের জন্য সকল পিতা, মামা, নানারা আজ পথে নামুন।
না নামলে কোন কন্যা আর সন্তান জন্ম দেবে না। কোন কন্যা তার ভাইকে ভাই বলে ডাকবে না, বাবাকে বাবা বলে ডাকবে না, স্বামীকেও শুধু স্বামীই মনে করবে সন্তানের পিতা নয়।

এ দায় আপনাদের পুরুষ। বিশ্বাস অর্জন করার এ দায় আজ শুধুই আপনার৷ আমরা আর বিশ্বাস করবো না। না। আমরা কন্যা দিয়েছিলাম পিতার কোলে, আপনারা কন্যাকেও ছাড়েননি। আমাদের আর বিশ্বাস করতে বলবেন না। আমরা সকল পুরুষের দিকে তাকালে এখন একটি পুরুষাঙ্গই কেবল দেখতে পাই। সে আমাদের বাবাই হোক, ভাই হোক, মামা হোক যেই হোক। এই দোষ আমাদের না।

পুরুষ থেকে মানুষ হবার এ দায়, নিজেদের প্রমান করার দায় আজ আপনাদের। যেদিন দেখবো প্রতিটা নারীর ধর্ষণের ঘটনাকে মূলত আপনারা নিজেদের সম্মানের, বিশ্বাসের, মমতার ধর্ষণ মনে করে বিচার চাইছেন সেদিন আপনাদের পাশে দাঁড়াবো হয়তো।

আসলেই কী একজন নারীর শরীরের ধর্ষণ মানে প্রতিটা পুরুষের, পিতার, ভাইয়ের সম্মানের ধর্ষণ নয়?

ছবি: গুগল