নির্বাসনে কখনোই যাবো না-নোবেল

মাঈনুল আহসান নোবেল।জি বাংলার সারেগামাপা’র একজন আইকন প্রতিযোগী।দুই বাংলাতেই এখন নোবেলের তুমুল জনপ্রিয়তা ।সবার মধ্যেই এখন তার সম্পর্কে জানার আগ্রহের শেষ নেই।তাই হয়তো নোবেলের ফেইসবুক আইডিও অনেক।তেমনি একটা আইডি থেকে নিয়মিত আমার কথা হয় তার সঙ্গে।অনেক গুছিয়ে সেখানে কথা বলেন নোবেল।একদিন তার সাক্ষাৎকার নেবার কথা উঠলো।তাতেও তার সম্মতি পেলাম।কিন্তু কেন যেনো একটা খটকা থেকেই যাচ্ছিলো।কারণ চ্যাট করাতে নোবেলের অনিহা না থাকলেও ফোনে তাকে পাওয়া যাচ্ছিলো না।সন্দেহ বেড়ে গেলো, আর সে সন্দেহের অবকাশ ঘটাতেই জি বাংলা’র ‘মীরাক্কেল’ রিয়েলিটি শো’র অভিনেতা ইশতিয়াক নাসিরের সঙ্গে কথা বলি।ইশতিয়াক খবর এনে দেন যে, নোবেলের কোনো ফেইসবুক আইডি নেই।সবগুলো আইডি-ই ফেইক।নিজেকে যখন বোকা ভেবে আফসোস করছিলাম, তখনই ইশতিয়াক নোবেলের ফোন নাম্বারটা আমাকে সংগ্রহ করে দেন।আর সময়ক্ষেপন নয়, তৎক্ষনাতই কথা হয় নোবেলের সঙ্গে।সূদুর কলকাতায় বসেই নোবেল কথা বলেন ‘প্রাণের বাংলা’র পাঠকদের উদ্দেশে।

কলকাতার রাস্তার বিলবোর্ডে এখন নোবেল হাসছেন।প্রথমেই জানতে চাইলাম কেমন লাগছে সে অনুভুতি?নোবেল বলেন, বিলবোর্ডটা অনেক আগে হয়েছিলো আর শুধু আমার ছবিই না।আমাদের অনেকের ছবি দিয়েই বিলবোর্ডে হয়েছে। কলকাতা শহরটাতো অনেক বড়ো। কোথায় কোথায় বিলবোর্ড  আছে আমি বলতে পারবো না। আমার দেখা হয়ে ওঠেনি।আমার বন্ধুরা দেখে ছবি তুলে আমাকে পাঠিয়েছে।ওভাবেই আমার দেখা।তবে এই বিলবোর্ডটা যদি বাংলাদেশে হতো তাহলে বিষয়টা আমার জন্য অনেক আনন্দের হতো।আমি আপ্লুত হতাম।যে দেশে জন্মেছি,যে দেশ আমার নিজের,সেদেশে মূল্যায়ন পাওয়াটা অনেক গর্বের।

সারেগামাপা’তে নোবেলের গান এখন পৌছে গেছে ভিন্নমাত্রায়।বিচারকরাও তার গানের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।এভাবে সাফল্য হাতের মুঠোয় চলে আসবে ভেবেছিলেন কি নোবেল? নিজেকে এখন কি মনে হচ্ছে জানতে চাইলে তার সোজাসাপটা উত্তর, আসলে আমার জীবনের স্বপ্ন সবসময় অনেক বড়ো ছিলো।এখন হয়তো বললে একটু অন্যরকম শোনাবে তবুও বলছি, সারেগামাপা আমার স্বপ্নের একটা সিঁড়ি মাত্র।আমার আরও অনেক সিঁড়ি অতিক্রম করা বাকী আছে।

আপনি তো রক গান দিয়েই শুরু করেছেন।ওখানকার বিচারকরাও প্রথমে আপনাকে সেভাবেই দেখেছিলেন, কিন্তু আপনি নিজেকে সেখান থেকে ভেঙে বের করে নিয়েছেন।সেক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটা কিভাবে নিলেন? আসলে আমি কখনো কোন একটা বিশেষ ধারার গান করবো এভাবে নিজেকে নিয়ে ভাবিনি।সেভাবে তৈরীও হইনি।তবে রক গান আমার খুবই পছন্দের।গাইতেও স্বাচ্ছ্বন্দ্য বোধ করি।কিন্তু আমি সবসময় যে গানটা মনে ধরে বা ভালোলাগে তা যেকোনো গানই হোক, আমি গাইতে চেষ্টা করেছি এবং এখনও করি।তাই আমাকে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছেনা।

গান পাগল নোবেল জীবনে শুধু গানই বোঝেন।অন্যকিছু নিয়ে ভাবনা তার কম।মনের মাঝে স্বপ্ন একটাই, তা হলো গান নিয়েই জীবনের বাকীটা পথ পাড়ি দেয়া। পছন্দের শিল্পী ক্রিস কর্ণেল আর ফ্রেডি মারক্যুইরি।ওদের গান শুনছেন ছোটবেলা থেকেই।দেশে ফিরে লাউভ শো করতে চান।আর চান নিজের মৌলিক গান নিয়ে কাজ করতে।জানতে চাইলাম যদি নির্বাসনে যেতে হয় তখন গিটার ছাড়া আর কি সঙ্গে নেবেন? নোবেলের উত্তর, আমি বাবা নির্বাসনে কখনোই যাবো না। প্রশ্নই ওঠেনা।

জেমসের পাশাপাশি এলআরবি’র আইয়ুব বাচ্চুর গানও নোবেল করেছেন নিজস্ব ভঙ্গিতে।ইউটিউবে দেখা গেছে অরিজিন্যাল গানের চেয়ে নোবেলের গাওয়া গানের ভিউয়ার অনেক বেশি।এলআরবি আইয়ুব বাচ্চুর অকাল প্রয়াণে থমকে গেলেও আবার নতুন করে ব্যান্ড মেম্বাররা একজন ভোকাল নির্বাচিত করতে চাচ্ছেন।সেক্ষেত্রে নোবেলের নামটা

সারেগামাপা’র বন্ধুদের সঙ্গে

ও সামনে আসছে।এ ব্যাপারে নোবেলের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে নোবেল বলেন, আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কারো কোনো কথা হয়নি।আপনারা এমন কিছু শুনে থাকলে ভুল শুনেছেন।

কিছুদিন আগে জানা যায় কলকাতার সৃজিত মুখার্জির  ‘ভিঞ্চি দা’ ছবিতে নোবেল গান করেছেন।কথা,সুর আর সঙ্গীতায়োজন করেছেন অনুপম রায়।এমনকি সৃজিত নোবেলের কন্ঠের প্রশংসাও করেছেন।আবার এক পত্রিকাসূত্রে জানা গেছে সৃজিত মুখার্জি অনেক দূর দিয়ে বিষয়টা অস্বীকার করেছেন।তবে নোবেলের কাছে জানতে চাইলে নোবেল সরাসরি বলেছেন, না আমি কলকাতায় কোনো ছবিতে গান করিনি। এতো সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ে না গিয়ে সবশেষে নোবেলের কাছে জানতে চাইলাম, যদি কলকাতার ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ ঘটে যায় তাহলে কি ওখানেই ক্যারিয়ার তৈরী করবেন ? নোবেল বললেন, মানুষ তার কাজ শেষে বাড়ি ফেরে এটাইতো স্বাভাবিক নিয়ম।বাংলাদেশ ছাড়া আমার কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে নেই।

সাক্ষাৎকার গ্রহনঃ আবিদা নাসরীন কলি

ছবি: নোবেলের পেইজ থেকে