নিলামে হিটলারের ফোন

আবারও বের হয়ে এলো অ্যাডলফ হিটলারের ভূত। ভুতই তো। ভূত ছাড়া আর কী বলা যায় হিটলারের ফোনকে? এই ফোনের রিসিভার তুলেই তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দুই বছরে ভয়ঙ্কর সব আদেশ জারি করেছিলো এই উন্মাদ, যুদ্ধবাজ মানুষটি। হিটলারের সেই ফোন আমেরিকার মেরিল্যান্ডের আলেকজান্ডার নিলাম ঘরে নিলামে উঠেছে

এই ফোন সেটটি ১৯৪৫ সালে হিটলারের বাংকার থেকে উধাও হয়ে যায়। এবার আলোর মুখ দেখার আগে কুখ্যাত ফোনটি ছিল ইংল্যান্ডের এক গ্রামে, একটি বাক্সের ভেতরে। নিলাম ঘরের কর্তারা আশা করিছেন, ইতিহাস গন্ধমাখা এই ফোনের বিক্রি হতে পারে দুই থেকে তিন লক্ষ ডলারে।

ইতিহাস বলছে, এই ফোনটি হিটলারকে উপহার দেয়া হয়েছিল তার যুদ্ধ মন্ত্রণালয় ‘ওয়ারম্যাক্ট’-এর পক্ষ থেকে। এক সময়ে জার্মানীর সিমেন্স কোম্পানী এ ধরণের ফোন তৈরী করতো। সেরকম একটি ফোনকে লাল রঙ করে সেটার গায়ে হিটলারের স্বস্তিকা চিহ্ন এবং নাম খোদাই করে বসানো হয়। নিলামের বিবরণ তালিকায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। তারা তাদের ক্যাটালগে বলেছে, ‘এই ফোনটি ছিল হিটলারের ধংসযজ্ঞ চালানোর প্রধান অস্ত্র। এই ফোন ব্যবহার করে হিটলার পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল।’

বৃটিশ সেনাবাহিনীর অফিসার রালফ রাইনার যুদ্ধ শেষ হওয়ার দু একদিন পরে হিটলারের বাংকার পরিদর্শনে গিয়ে এই ফোনটি হস্তগত করেন। রাইনার দেশে ফেরার সময় ফোনটির যথাযথ কাগজপত্র করিয়ে  নিয়ে আসেন ইংল্যান্ডে। রাইনারের ছেলে ৮২ বছর বয়স্ক রেনলফ রাইনার সিএসএসকে বলেছেন, তার বাবা এই যোগাযোগ যন্ত্রটিকে হিটলারের উত্থান পর্বের চিহ্ন হিসেবে দেশে নিয়ে আসেন নি, এনেছিলেন হিটলার-যুগের অবসানের চিহ্ন হিসেবে।তার বাবা কখনোই ভাবেন নি এই ফোনটি ইতিহাসের পাতায় এতোটা মূল্যবান হয়ে উঠবে।

সেই সময়ে এই বৃটিশ সেনা অফিসার রালফ রাইনারই রুশ সেনাদের বাইরে একমাত্র ব্যক্তি যিনি হিটলারের বাংকারে ঢুকতে পেরেছিলেন। ছেলের জবানীতে জানা যায়, সেদিন তার বাবা বাংকারে ঢুকে দুটি ফোন দেখতে পেয়েছিলেন। একটি ছিল হিটলারের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী ইভা ব্রাউনের ঘরে, অন্যটি হিটলারের শয্যাপাশে। ইভা ব্রাউনের ফোনটির রঙ ছিল কালো, হিটলারেরটির লাল।রাইনার লাল ফোনটিই বেছে নিয়েছিলেন। যন্ত্রটি নিয়ে আসার জন্য রুশ সেনাদের অবশ্য তার বোঝাতে হয়েছিল যে লাল রঙ তার খুব প্রিয়।তার কথা রুশ সেনাদের পছন্দ হয়েছিল।

রাইনার মারা যান ১৯৭৭ সালে। ১৯৪৫ সালের ১৮ মে স্ত্রী এলিজাবেথকে লেখা এক চিঠিতে বার্লিন শহরের ভয়াবহ অবস্থার বিবরণ দিলেও এই মূল্যবান ফোনের কথা কিছুই উল্লেখ করেন নি।

রালফ রাইনার তার পশ্চিম ইংল্যান্ডের বাড়িতে ফেরার সময় তার ব্যাগে ফোন ছাড়াও হিটলারের বাংকারে থেকে আনা আরেকটি বস্তু ছিল। সেটি হচ্ছে পোর্সেলিনের তৈরী একটি অ্যালসেশিয়ান কুকুরের মূর্তি।নিলাম-ঘরের কর্তারা অনুমান করছেন তখন ইহুদীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর জন্য খোলা কুখ্যাত দাচাউ ক্যাম্পের বন্দীদের কেউ এটি তৈরী করেছিল। পরে ইহুদী নিধনের রূপকার হিটলারের ডান হাত হাইনরিখ হিমলার এই কুকুরটি হিটলারকে উপহার দেয়।

রেনলফ রাইনার মনে করেন এই দুটি নিদর্শনেরই স্থান হওয়া উচিত কোন জাদুঘরে। পৃথিবীর মানুষের দেখা উচিত হিটলার-যুগের সেই ভূত। কারো ব্যক্তিগত সংগ্রহে থেকে গেলে এই দুটি নিদর্শন আবারও সবার চোখের আড়ালে চলে যাবে।

ইরাজ আহমেদ

তথ্যসূত্র ছবিঃ সিএনএন