নিষিদ্ধ ফেসবুক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইশতিয়াক নাসির,স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান

 বাতাসে বিভিন্ন রকম গুজব ভেসে বেড়াচ্ছে। এই গুজব শুনে কেউ খুশি, কেউবা অখুশি। শোনা যাচ্ছে, সরকার নাকি মাঝরাত থেকে সকাল অব্দি ফেসবুক বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে। এখনো পর্যন্ত সবই কানকথা, কাগজে-কলমে কিছুই প্রমাণিত নয়।কিন্তু এতেই নানা রকম আশংকার কথা চাউর হয়ে গেছে। তাহলে কি প্রেমের প্রমাণপত্র হিসেবে এক সময় যেমন চিঠির গুরুত্ব ছিল, তারপর যেমন এসএমএস এর চল ছিল, ঠিক তেমনিভাবে স্ক্রিনশটও কি অতীতের খাতায় নাম লেখাবে? একটা সময় স্ক্যান্ডাল হিসেবে ফোনের কথার রেকর্ড বের হতো, তারপর আসল ভিডিও আর সর্বশেষ স্ক্যান্ডাল আইটেম হলো স্ক্রিনশট। মাঝরাতে ফেসবুক চালাতে না দিলে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা প্রেম করবে কিভাবে? আর ‘স্ক্রিনশট’ না থাকলে ব্রেক-আপের পর মেয়েরা কি দেখিয়ে বলবে যে তার বয়ফ্রেন্ড প্রতারণা করেছে? সরকারের কথা হলো, অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা অনেক রাত পর্যন্ত ফেসবুকে থাকার কারনে তাদের পড়ালেখা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যুক্তি আছে, তবে এই যুক্তি একেবারেই খোঁড়া যুক্তি।পড়ালেখা করার সময় তো মাঝরাত নয়, সন্ধ্যেবেলা। মাঝরাতে ফেসবুক বন্ধ রেখে, সন্ধ্যা থেকে বস্তাপচা টিভি সিরিয়াল দেখায় যদি বাড়ির লোকজনের মনোযোগ থাকে বেশি, তবে পড়ালেখা তো ছাত্রছাত্রী নয়, শিক্ষককে করতে হবে। হাজার হলেও বছর শেষে পাস করাতে না পারলে আবার এই সরকার মহাশয়ই সেই শিক্ষকের টুটি চেপে ধরে বলবেন, পরীক্ষায় একটা স্টুডেন্ট ফেল করে কিভাবে? সারা বছর কি তাহলে ঘোড়ার ঘাস কাটা হয়েছে? খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আজকাল আবার সৃজনশীল কারিকুলাম ফলো করে লেখাপড়া হয়। তো সরকার মহাশয়ের এহেন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব শিক্ষককেও সৃজনশীল উপায়ে দিতে হয়। তখন পরীক্ষার আগে কতিপয় শিক্ষককে আবার প্রশ্নপত্র ফাঁস করার জন্য নানারকম সৃজনশীল উপায় বের করতে হয়। সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি একেবারে শাঁখের করাত; এদিকেও কাটে, ওদিকেও কাটে।আবারো ফেসবুকে ফিরে আসি। বন্ধ যদি করতেই হয় তাহলে সকাল, দুপুর, বিকেল বাদ দিয়ে মাঝরাত কেন বেছে নেয়া। কেন জানি মনে হয়, মাঝরাত ব্যাপারটার মধ্যেই একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছে। আমরা যখন ইউনিভার্সিটির ছাত্র তখন হঠাৎ করে মোবাইল কোম্পনীগুলো মাঝরাতে কথা বলা ফ্রি করে দিলো। ব্যাস্‌, যে বাঙ্গালী ফ্রি পেলে কয়লাও খায় তারা ফ্রি কথা বলার সুযোগ পেলে কি করতে পারে সহজেই অনুমান করা যায়। রীতিমত নম্বর আদান প্রদান হতে লাগল, কোন কোন মেয়ে মাঝরাতে কথা বলতে আপত্তি করেনা তাদের হটলিস্ট তৈরি হলো। তারপর সেই হুজুগ বন্ধ হলো বটে কিন্তু ততোদিনে টিভি চ্যানেলগুলোতে শুরু হয়েছে মাঝরাতে টকশোর উৎসব! সেই টকশো দেখতে দেখতে বাঙ্গালী যখন বোর ফিল করতে শুরু করেছে তখুনি আকাশে বাতাসে ফেসবুকের জয়ধ্বনি! রাতারাতি শহরের স্যামুয়েল থেকে গ্রামের সলিমুল্লাহ সবাই ফেসবুকে। সারা দুনিয়া ফেসবুকে মজে আছে, তাহলে এখানে কি সমস্যা? আসলে সমস্যা হলো সেই মাঝরাতে। মাঝরাতেই বাংলার জনগণের প্রেমবোধ জেগে ওঠে। এই প্রেমবোধের কারনেই জনসংখ্যার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে ‘স্ক্রিনশট’। একদিক দিয়ে মাঝরাতে ফেসবুক বন্ধ করলে অবশ্য খারাপ হবেনা। একটু নিশ্চিন্তে ঘুমানো যাবে। এই মাঝরাতের চক্করে পড়ে আমার চোখের নিচেও কালো হয়ে গেছে। চোখের পাশাপাশি, চরিত্রেও কালি দূর করাও এখন সময়ের দাবী।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]