নীল আকাশের নীচে আমি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকনকচাঁপা কচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

 ডন কোম্পানির গানের ক্যাসেট দু’টি প্রচন্ড রকমভাবে সাড়া ফেললো। যদিও তখন এগুলো বোঝার কোন উপায় ছিলো না।তবে ক্যাসেট করার জন্য শিল্পীরা এ স্টুডিও ওই স্টুডিও তে আড্ডা দেন, তারাই বলাবলি করতে লাগলেন। তাতে অবশ্য আমাদের কোন লাভ নেই।কারণ লাভের গুড় পিঁপড়া খেলেও অসুবিধা নেই কিন্তু কোনকালেই সেই গুড়ের মিঠা স্বাদের সঙ্গে শিল্পীদের কখনওই সাক্ষাৎ হয়নি । আমিও তাদেরই একজন। ওই আমি যেভাবে গান শেখাচ্ছিলাম, স্বামী সংগীত পরিচালক জনাব মইনুল ইসলাম খান যেভাবে বিটিভিতে এবং রেডিওতে গান সুর করছিলেন তাই করতে লাগলাম। সঙ্গে দু’চারটি মঞ্চানুষ্ঠান। রেডিওতে গান গাইলে পচাত্তর টাকা, এক’শ বিশ টাকা এমন অংকের চেক পাওয়া যেতো আর বিটিভিতে গাইলে আমি পেতাম দুই ‘শ আশি টাকা আর উনি হয়তো বারোশত টাকা চেক পেতেন। সাগরে খড়কুটোর মতো আর কি।কিন্তু পৃথিবীর নিয়ম অনুযায়ী সাগরের খড়কুটোর কাজে না আসলেও অনেক মূল্যবান। রামপুরার বিটিভি ভবনের আগেই কি জানি ব্যাংকে আমাদের অ্যাকাউন্ট। দু’য়েকটা চেক জমলে ভাঙ্গাতে যেতাম। সেখানে আরেক যন্ত্রনা চেক তুলতে গেলে বিটিভির একাউন্ট অফিসারের রুমে গেলে চেক খুঁজে দিতে অফিসার একঘন্টা দুইঘন্টা বসিয়ে রাখবেন, চেক খুঁজে পাবেন না, এবং অযথা গালগল্প করবেন এবং ব্যাংকেও একই অবস্থা। চেক এবং টাকা প্রদান কারী দুজনেরই ভাব টাকাটা যেন তার নিজের পকেট থেকে দিচ্ছেন। এগুলো সত্যিকারের অপমানিত অধ্যায়। অনেক লম্বা সময় ধরেই এই অধ্যায় পার করেছি।অনেকেই উপদেশ দিয়েছেন এই গানবাজনা না করে অন্তত বড় একটি মুদির দোকান নিদেনপক্ষে একটি স্বাস্থকর্মীর চাকরি নিলেই জীবন নিশ্চিত হয়।এই সব অনাকাঙ্ক্ষিত অপমানিত অধ্যায় গত হওয়ার রাতগুলোতে স্বামী-স্ত্রী গলাগলি ধরে দুইদেহ একপ্রান হয়ে ভোরের আলো প্রত্যক্ষ করেছি।উনি এগুলো নিয়ে বেশি কথা, হতাশ হওয়া, অস্থির হওয়া কিছুই করেননি।চুপচাপ থেকেই দিন পার করেছেন। হয়তো শুধু বলেছেন গান সাধনা করে যাও নিবিষ্ট মনে।তোমার আর কিছু ভাবতে হবেনা। ব্যবসা চাকরি আমাদের জন্য নয়।

 একদিন ডনের স্বত্বাধিকারী বাবুল সাহেব এলেন হাত ভর্তি ফল মুল বিস্কুট চকলেট নিয়ে। তিনি আরও গান রেকর্ড করতে চান।আরও হারানো দিনের গান,দেশের গান, নজরুল সংগীত, পল্লীগীতি, হিন্দি গান, লালনগীতি এবং কিছু মৌলিক গান।উনি চাইছেন বছর ভিত্তিক চুক্তি করতে।কিন্তু আমার হাজব্যান্ড ওভারে রাজি না হয়ে ক্যাসেট প্রতি কাজের ভিত্তিতে রাজি হলেন। আমার রাজি হওয়া না হওয়া নিয়ে কোন ব্যাপার নাই।আমার গান গাওয়া আর সংসার চলা হলেই হলো।আমাকে যা গাইতে দেয়া হবে আমি শ্রমিকের মত করে গেয়ে দেবো।

 এই প্রথম জীবনরেখা বদলে গেলো। মোটামুটি অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছলতা অনুভব করলাম।

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]