নীড়ে ফেরে পাখী…

রুকসানা আক্তার

(লন্ডন থেকে):জীবনের পথ চলতে চলতে মানুষ,বিভিন্ন সম্পর্ক,পরিবেশ,দেশ কত কিছুর সঙ্গেই না পরিচয় হয় বা পরিচিত হতে হয় আমাদের । এরমধ্যে দিয়ে যেমন ধনাত্নক অভিজ্ঞতা হয় তেমনি ঋনাত্নক অভিজ্ঞতা ও জীবনের হালখাতায় জমা হয়। জীবন এবং সময় একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। প্রকৃতির সময় সূর্যের উদয় এবং ডোবার সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু  সময়ের পরিবর্তন হয় একটা মানুষের শারীরিক , মানসিক আর পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে।  সুখ এবং দুঃখ জীবনের ই অংশ।আর এই দুই অনুভূতিই ভালো আর খারাপ সময়ের সঙ্গে  অনুভূত হয় মননে।

আমি ২০১২  থেকে AGE UK  র সঙ্গে কাজ করি।এটা একটা চ্যারিটি অর্গানাইজেশন । এই প্রতিষ্ঠান থেকে এখানকার বয়স্ক মানুষদের জন্য  বিভিন্ন ধরণের সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য  হলো, বয়স্কদের ডে সেন্টার ,হসপিটাল থেকে ছাড়া পাওয়া একা বৃদ্ধ মানুষদের নিজ বাসায় সেটেল করা ,বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া  ইন্টারপিটিং , ফিউনারেল সার্ভিস, উইল সার্ভিস ইত্যাদি আরো বহুবিধ সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে ।২০১৩ তে আমার ব্যবস্থাপক ম্যাক্সি আমাকে কাজ  দিয়েছিলো আলবার্ট নামের একজন সেবা গ্রহণকারীর সঙ্গে । কাজ শুরু করার আগে স্টাফদের সেবা গ্রহণকারী সম্পর্কে সব ব্যক্তিগত তত্ত্ব দেয়া হয় যেন যথাযথ ভাবে সেবা প্রদান করতে সুবিধা হয়। ব্যবস্থাপক  কাজ শুরু করার আগে আমাকে আলবার্ট সম্পর্কে জানাল যে ,আলবার্ট আর ওর বন্ধু ক্যামেয়ার দীর্ঘদিন

ডনকাস্টার

ধরে এক সঙ্গে থাকে ।আলবার্ট এর বয়স পঁচান্নব্বই  আর ক্যামেয়ার এর বয়স  সত্তর । ক্যামেয়ার ওর সার্বক্ষণিক দেখাশুনা করে ।তবে সপ্তাহে দুদিন তার বাইরে যেতে হয়। তাই এই সময়টায় আলবার্টের কোনো ডাক্তার বা হসপিটালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলে তাকে নিয়ে যেতে হবে, আর না থাকলে তাকে বাইরে নিয়ে হাটতে যেতে হবে এবং তার সঙ্গে গল্প করতে হবে ।তারপর ওর পেশা কি ছিলো , পছন্দ অপছন্দ এবং সে সারাক্ষন ক্লাসিকেল মিউজিক শুনতে পছন্দ করে ইত্যাদি  আমাকে জানানোর   সঙ্গে সঙ্গে ওর মেডিক্যাল এবং আরো ব্যক্তিগত  তথ্য সহ একটা ফাইল দেয়া হয় ।

সপ্তাহে দুদিন আমি যেতাম। তিন ঘণ্টা করে ছয় ঘন্টার সাক্ষাৎ নির্ধারিত হয় তার জন্য । আলবার্টের ডিমেনশিয়া ছিলো। সব কিছু চাইলেই মনে করতে পারতো না । আবার যখন আমি ওর অতীত  সম্পর্কে কথা বলানোর চেষ্টা করতাম তখন সে তার স্মৃতির ভান্ডার হাতড়িয়ে  টুকরো টুকরো স্মৃতি গুলো মনে করে আমাকে বলতো। আমি ওকে একদিন টেমসের পাড়ে হাটতে নিয়ে যেতাম। আরেকদিন ফিজিওথেরাপিস্টের দেয়া এক্সেসাইজ গুলো বাসায় করতাম।

আমি ঠিক দশটায় গিয়ে দেখতাম দুজনই সাজগোজ করে ফুলবাবুটি হয়ে বসে আছে । যেদিন আবহাওয়া ভালো থাকতো সেদিন আলবার্টকে নিয়ে টেমসের বাঁধানো পাড় ধরে হাঁটতে যেতাম। তখন তার মুড খুব ফুরফুরে থাকতো। একা হাটতে পাড়তোনা কারণ তার হাঁটুতে  অপারেশন হয়েছিল ।তাই আমার কুনুই জড়িয়ে ধরে হাঁটতে হাঁটতে গল্প করতো । বেশিরভাগ সময় তার হোমটাউন ডনকাস্টারের গল্প করতো।তার একটা যমজ ভাই ছিল আর একটা ছোট বোন। ভাইটা সম্ভবত দশ এগারো বছর বয়সে মারা যায়। ওদের দুজনের একটা ছবি আমাকে দেখিয়ে বলেছিলো মারা যাওয়ার সময়  ভাইটি এই রকম বড় ছিল। কিন্তু কিভাবে মারা যায় সেটা আর এতো মনে করে বলতে পারেনি ।বোনটা এখনো বেঁচে আছে। বোনপো বৎসরে একবার বোনকে নিয়ে আলবার্টকে দেখতে আসে। বোন ডনকাস্টার এ থাকে । ওর হোমটাউন যে সে মিস করতো বুঝতাম ওর কথা থেকে। ওখানকার অপূর্ব সবুজ পাহাড় ,ভ্যালি,লেইক, রিভার ডন এবং থিয়েটার ওকে খুব টানতো। সে মূলত প্রথম জীবনে কাজ শুরু করে কয়লার খনিতে। ছুটির দিনে থিয়েটার এ কাজ করতো।সে ওখানকার থিয়েটারের লিড ভোকাল ছিল।  কথায় কথায় বলেছিলো দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের আগে দিয়ে সে অস্ট্রিয়া চলে যায় এবং সেখানে গিয়ে কয়লার খনিতে কাজ নেয় । যুদ্ধের সময় জার্মান বাহিনী কর্তৃক সে আটক হয় এবং ১৯৩৯ থেকে  ১৯৪৫  পর্যন্ত বন্ধি অবস্থায় ছিল। যুদ্ধের শেষে ইংল্যান্ডে ফিরে এই লন্ডনে  স্থায়ী হয় এবং এক সময় থিয়েটারে কাজ জুটিয়ে নেয়।এই থিয়েটারে কাজ করতে করতে আরেক থিয়েটার পাগল দর্শক আমেরিকান ক্যামেয়ারের সঙ্গে দেখা হয়। দুজনের বয়সের বিস্তর ফারাক থাকার পরও এরা আত্মার আত্মীয় হয়ে যায় এবং এই বন্ধুত্ব এতোই দৃঢ় হয় যে আজ তিরিশ বছর ধরে দুজন এক ই বাড়ি শেয়ার করে ।

রিভার টেমস

আমি একদিন আলবার্টকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে সে বিয়ে করেছিল কিনা। লন্ডনে স্থায়ী  হওয়ার কয়েক বছর পর ওর বান্ধবীকে  কে বিয়ে করেছিল।  প্রায় আট বছর টিকে  ছিল সে বিয়ে  কিন্তু কোনো ছেলে মেয়ে নাই। তারপর আর বিয়ে করে নি। তবে মাঝে মাঝে বান্ধবী হয়েছিলো। আরেকদিন বাইরে তুমুল বৃষ্টি হচ্চিলো । আমি বৃষ্টি আর ঠান্ডা ঝড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে সকালে ওদের সঙ্গে দেখা করতে যাই। দরজা খুলে আমাকে দেখে ক্যামেয়ার হই হই করে বলে যে ,কেন আজ এই ওয়েদার বের হলাম। আমি হেসে উত্তর করি ,ক্যামেয়ার আমার কাজ , বের তো হতে ই হবে। সে তাড়াতাড়ি আমাকে কোট খুলতে সাহায্য করে এবং  অনেক গুলো  টিস্যু এনে দেয় মোছার জন্য। আমি বসলে আলবার্ট তার পাশে থেকে একটা ব্লাঙ্কেট এনে আমার গায়ে জড়িয়ে দেয়।  সেন্ট্রাল হিটিং এর কারণে এমনিতেই ঘরে একটা আরামদায়ক  কুসুম কুসুম গরম বিরাজ করছিল এবং রেডিওতে  ক্লাসিকেল মিউজিক চ্যানেলে অপেরা সংগীতের দিকপাল লুসিয়ানো পাভারোটির স্বর্গীয় ভয়েস সারা রুমে ভেসে বেড়াচ্ছিল।  একটু পড়েই দেখি রান্না ঘর থেকে ক্যামেয়ার ব্ল্যাক কফি ,চা আর বিস্কিট নিয়ে হাজির ।আলবার্ট উঠে রেডিওর চ্যানেল ঘুরিয়ে  দেয় এবং আমাকে বলে এটা শুনো । আমরা চা খেতে খেতে  মিউজিক শুনছিলাম। আমি আলবার্টকে বললাম,  মিউজিক টা খুব সুন্দর  তো। মনে হচ্ছে আমি কান্ট্রি সাইডে পাহাড়ি নদীর পাড় দিয়ে হাটছি। আলবার্ট বলে  ,Antonio Vivaldi র Four Seasons  ।  আসলে ক্লাসিকেল মিউজিক বলতে  তখন আমার  Mozart আর Beethoven  ছাড়া ইউরোপের আর কারো টা শুনার সুযোগ হয় নি ।আমি  বললাম যে,এ তো আমি আগে কখনো শুনিনি।  ?তখন ক্যামেয়ার আমাকে  Vivaldi সম্পর্কে একটা ধারণা দেয়। সে ছিল ইতালিয়ান ,17th এবং 18th সেঞ্চুরিতে ইউরোপের ক্লাসিকেল  মিউজিকের একজন রিনাউন্ড ফিগার এবং মিউজিশিয়ান।সে অপেরা মিউজিকে ও সফল ছিল। ব্রিটিশরা খুবই পছন্দ করে ওর কাজ । যাই হোক আলবার্টের সুবাধে আমার ক্লাসিকেল  মিউজিক শোনার আগ্রহ বাড়ে। সে ঘুম থেকে উঠেই মিউজিক শোনা স্টার্ট করতো এবং রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত বন্ধ হতো না। আলবার্ট আমাকে একদিন বলছিল মিউজিক  হলো মানুষের আত্মা আর প্রকৃতির সেতু বন্ধন। আসলে্ই তাই।প্রকৃতির কাছে গেলে প্রকৃতির সোন্দর্য এবং বিশালতায় মনে আবেগ তৈরি হয়ে একটা উদার অনুভূতি জন্মে তেমনি সংগীত, মিউজিক মানুষের মনেএকই রকম অনুভূতি জাগায় ।যাই হোক এই অপেরা ,এই মিউজিকই ছিল দুটো দুই প্রান্তের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রথম যোগসূত্র। কথায় কথায় একদিন ক্যামেয়ার বলেছিলো কিভাবে এখানে সে স্থায়ী হয়। আমেরিকায় ওর মা বাবা সহ পুরা পরিবার, ওয়াইফ এর সঙ্গে ডিভোর্স ,দুই বাচ্চা নিয়ে ওয়াইফের আলাদা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এরপর সে লন্ডনে বেড়াতে এসে থিয়েটার পাড়াতে আলবার্ট এর সঙ্গে পরিচয় ,পরে বন্ধুত। আমাকে বলেছিলো যে আলবার্টের মতো মানুষ হয় না ।ও একজন ফেরেশতা । ক্যামেয়ার আরো জানায় যে, সে যখন লন্ডনে আসে তখন সে সদ্য ডিভোর্স প্রাপ্ত । হার্টব্রোকেন । তার মধ্যে লন্ডনে স্থায়ী হতে গিয়ে স্ট্রাগল মধ্যে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে আলবার্ট ই ওকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। ওর বাড়িতে ওকে আশ্রয় দেয়। নিজের ছোট ভাইয়ের মতো ওকে দেখাশুনা করেছে, যতদিন সে শারীরিক ভাবে সক্ষম ছিল। ক্যামেয়ার আবেগচ্ছন্ন কন্ঠে বলেছিলো ,আমার জীবনে এতো ভালোবাসা ,স্নেহ আমি আর কারো কাছে পাইনি।ওর জন্যই আমার লন্ডনে সেটেল্ড করা। এখন আলবার্টকে দেখাশুনার প্রয়োজন ।তাই সব কিছুর ঊর্ধ্বে  আলবার্টের দেখাশুনা করাটাকে আমি  অগ্রাধিকার দেই। ও যতদিন বাঁচবে আমি এক মুহূর্তের জন্য ও ওকে একা ফিল করতে দিবো না। বলতে বলতে ক্যামেয়ার কেঁদে ফেলেছিল।এই যে দুটো মানুষ পরস্পরের আশ্রয় হয়ে ,” মানুষ মানুষের জন্য”এই ছোট্ট তিনটি শব্দের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো যা আশপাশের কিছু মানুষ ছাড়া আর কেউ খবর ও রাখেনি।তাতে কি ওরা অসফল??আমি তো বলবো মানবিকতার ,মনুষত্বের এক চরম সফল উদাহরণ।

আলবার্টের সঙ্গে কাজের ছয় মাসের মাথায় ও অসুস্থ হয়ে হসপিটালে ভর্তি হয়।  আমি একদিন ক্যামেয়ারকে ফোন করে আলবার্টের শারীরিক অবস্থার কথা জিজ্ঞাস করি এবং বলি একদিন আসবো তোমার কাছে ওর জন্য কিছু ফুল আর কার্ড দিয়ে যাবো।একদিন উইকেন্ড এর সকালে ক্যামেয়ার কে ফোন করে বলি, আমি আসছি।কিছু ফুল আর কার্ড আলবার্টের জন্য এবং এক প্যাকেট চকলেট ক্যামেয়ারের জন্য নিয়ে হাজির হই। তারপর কথায় কথায় জানতে পারি আলবার্ট আর বাড়ি ফিরবে না । ওকে হাসপাতাল থেকে একটা নার্সিংহোমে পাঠানো  হচ্ছে ।কারণ তার সার্বক্ষণিক নার্সিং দরকার এবং যতদিন বাঁচবে সেখানে ই থাকতে হবে। আমি ক্যামেয়ার কাঁধে হাত রেখে বলি, নিশ্চয় তোমার খুব কষ্ট হয় আলবার্ট কে ছেড়ে থাকতে । সে নিজেকে সামলিয়ে ম্লান হেসে আমার একটা হাত ওর হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে আমি প্রতিদিন ওকে দেখতে যাই। নার্সিংহোমেও যাব প্রতিদিন। বলে ,আলবার্ট তোমার কথা প্রায় ই জিজ্ঞাস করে । তারপর বলে , তুমি কি জান ,তুমি আমাদের দুই বুড়োর বিবর্ণ জীবনে সুন্দর একটা রং এনে দিয়েছিলে। তুমি ছিলে একজন ফ্যামিলি মেম্বার এর মতো।

আমি নিজে ও একটু আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি এবং কিছুক্ষনের জন্য কথা গলার কাছে আটকে থাকে। বিদায় নেয়ার সময় ক্যামেয়ারকে হাগ দিয়ে বলি , আমিও তোমাদের মিস করি। তোমাদের কথা মনে থাকবে আমার। আলবার্টকে আমার ভালোবাসা দিও।
তারপর আমিও ব্যস্ত হয়ে যাই জীবনের রেসে। আমার নিজের কাজ ,পার্সোনাল লাইফ সব নিয়ে দম ফেলার ফুরসৎ ছিল না। তবে মাঝে মাঝে যখন ক্লাসিকেল মিউজিক শুনি ঠিকই ওদের কথা মনে হয়।কয়েকদিন আগে একটা সাক্ষাৎ শেষ করে লাঞ্চ টাইমে  বাস এ করে লাইম হাউসের দিকে যাচ্ছিলাম ।হঠাৎ দেখি একটা বাস স্টপ থেকে একই বাস এ ক্যামেয়ার উঠছে। ভিতরে আসলে আমি ডাক দিতেই ওর চমকে উঠা দু চোখ পাসেঞ্জারের ভিড়ে ডাকের উৎস খুঁজে বেড়ায় ।আমি হাত নাড়তেই দু’ চোখে অবাক দৃষ্টি নিয়ে হাসি মুখে এসে আমার পাশে বসে ,এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে ।বললো কোথায় যাচ্ছো ? আমি বললাম, লাইম হাউসে কাজ আছে। তবে তার আগে কফি শপে যাবো। আমি জিজ্ঞেস করলাম ওর তাড়া আছে কি না , বললো ,তার তাড়া নেই। তখন আমি ওকে আমার সঙ্গে কফি খেতে আমন্ত্রণ জানাই। আমার নির্ধারিত স্টপে ওকে নিয়ে নেমে কাছেই কফি শপে বসি। কফি খেতে খেতে কথা বলি। ক্যামেয়ার জানালো যে, প্রায় আট নয় মাস আগে আলবার্ট মারা গিয়েছে। আরো জানালো আগের বাসাটা ছেড়ে দিয়েছে । কাউন্সিল ওকে একটা এক বেড রুমের ফ্লাট দিয়েছে গার্ডেন সহ।  আগে এক দিন সে আমাকে কথায় কথায় বলেছিলো যে, প্রতি বৎসর ও কয়েক সপ্তাহের জন্য আমেরিকা যায় ভাই বোন আর দুই ছেলে মেয়েকে দেখতে। তাই জিজ্ঞেস করলাম ,তোমার ফ্যামিলি কেমন আছে। বলল, ভালো আছে সবাই । ভাইবোন এবং ছেলেমেয়ে  ওকে আমেরিকায় ফিরে যেতে বলছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছো এ ব্যপারে। একটু চুপ থেকে বললো , চেষ্টা করেছি এই কয়েকটা মাস ধরে বাকি জীবনটা এখানে ই কাটিয়ের দিতে । এতো বছরের এক জায়গায় একটা অভ্যস্ত জীবন  ছিল আলবার্টের সঙ্গে ,তারপর বন্ধু বান্ধব আছে ।কিন্তু আলবার্ট চলে যাওয়ার পর জীবনের এই সময়টায় দিনের বেশির ভাগ সময়  এখন একাকিত্বে ভুগি। ডিপ্রেসেড থাকি এবং এই কয়েক মাসে সেটা কমেনি বরং বেড়েছে। তাই এবছরের সামারে আমেরিকা চলে যাব   ।বললো ,আমার এই ডিপ্রেশন কাটাতে  চেঞ্জের দরকার। তাই বাকি জীবন পরিবারের কাছাকাছি থেকে কাটিয়ে দেব ঠিক করেছি। আমি ওর হাত ধরে বললাম ,তুমি খুব ভালো একটা সিদ্ধান্ত  নিয়েছো ।আর এর চাইতে এই মুহূর্তে আর ভালো কোনো কিছু হতে ই পারে না। আমি  কামনা করি, পরিবারের সঙ্গে যেন আগামী দিনে গুলো তোমার অনেক সুন্দর কাটে। সেও আমাকে বললো , যেন  আমার বর্তমান এবং আগামী দিনগুলো আরো সুন্দরতম হয় ।বিদায় নেয়ার সময় আমাকে হাগ দিয়ে আমার হাতে কিস করে বলে, তোমার কথা মনে থাকবে। আমি বললাম, আমারও। আমি ওকে বাস এ তুলে দিয়ে হাত নাড়ি ।আমি আমার পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্টে যেতে যেতে ভাবছিলাম , “সব পাখী নীড়ে ফিরে” আমি  ও কি ফিরবো ?

ছবি: গুগল