নৃসংশ ফাউলের শিকার নেইমার

আহসান শামীমঃ নেইমার ছাড়া ব্রাজিল দলের কী অবস্থা হয়, ২০১৪ সালেই গোটা বিশ্ব দেখেছে।টপ ফেবারিটের তালিকায় থেকে ও জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরে সেবার বিশ্বকাপ থেকে লজ্জাজনক ভাবে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে।

এবারের বিশ্বকাপেও টার্গেট সেই নেইমার।সুইস ডিফেন্ডারা ব্রাজিলের বিপক্ষে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই চব্বিশটা ফাউল করেন, আর ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা সুইসদের বিপক্ষে ফাউল করেছেন ১২ বার।সুইসদের করা ফাউলের মূল টার্গেট ছিলেন সদ্য ইঞ্জুরী থেকে মাঠে ফেরা নেইমার।সুইস মিডফিল্ডার ভ্যালেন বেহরামির ওপর দায়িত্ব ছিল চোট থেকে ফেরা নেইমার কে মার্ক করার।নেইমারকে ফাউল করে হলুদ কার্ড পাওয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেন সুইস টিম ম্যানেজমেন্ট। ভ্যালেন বেহরামি চারবার ফাউল করেন নেইমারকে। বদলি হিসাবে ডেনিস জাকারিয়া ম্যাচে নেইমারকে ঠেকিয়েছ্ন সতীর্থ খেলোয়াড় গ্রানিত শাকা। ফাউলের হিসাবে, ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের পর কোন ব্রাজিলয়ান ফুটবলার এতো বেশি ফাউলের শিকার হননি।ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার , ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা আলান সিয়ারারকে এগারো বার ফাউল করেছিলেন তিউনিসিয়া।এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে ফাউলের সেটাই সর্বোচ্চ রেকর্ড। সুইসদের কাছে দশবার ফাউলের শিকার হয়ে নেইমার এখন নৃশংস ফাউল শিকারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করেছেন।

সর্বোচ্চ ফুটবল সংস্থার এমন পরিসংখ্যানে নড়েচড়ে বসছেন সুইস ফুটবলের কর্তাব্যাক্তিরা।সুইজ্যারল্যান্ডের বিশ্বকাপের কোচ পেটকোভিচের যুক্তি , ‘নেইমারকেই একমাত্র টার্গেট করার পরিকল্পনা তাদের ছিল না, ব্রাজিলের নেইমারের সঙ্গে আরও কিছু খেলোয়াড়দের আটকানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। বল আয়ত্বে নিতে গিয়ে ফিটনেসের অভাবে নেইমার মাঠে পড়ে গেছেন অনেক বেশী।’ সুইস কোচ আরও জানালেন,‘প্রথমার্ধে তার দল পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল অপ্রতিরোধ্যো হয়ে ওঠার মুখে সুইস খেলোয়াড়রা পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেদের গুছিয়ে খেলতে শুরু করে। আর তাতেই খেলা ড্র।’

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগের ফুটবলার স্তেফান লিখস্টাইনার বলেছে, ‘তারা নেইমারের জন্য বিশের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। নেইমারকে আটকাতে দলের উপর তার প্রভাব কমিয়ে দেওয়াই ছিলো মূল পরিকল্পনা।’

অবশ্য এবিষয় বেশি  মুখ  খোলননি ব্রাজিল ফুটবলের কর্তাব্যাক্তিরা। তাঁদের ভাষায় বিষয়টা দেখার দায়িত্ব ছিলো রেফারির।এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি নেইমারও। তিনি শুধু বলেছেন, ‘এটা দেখা রেফারির দায়িত্ব এবং এটা ফুটবলেরই অংশ, আমি ফুটবল খেলে যাব বা খেলার চেষ্টা করবো। আমার মনে হয় নিয়মিত ফাউলের শিকার হওয়াটাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে সামনে।’

রোববারের ম্যাচের ধাক্কা কতোটা সহ্য করতে পারবেন এই খেলোয়াড় সেটাই দেখার।  নেইমার যদিও ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন, ‘২২ জুন তাঁর মাঠে নামা নিয়ে উৎকন্ঠার কিছু নেই। শরীর ঠান্ডা হলে ব্যথাও কমে যাবে।’

ছবিঃ ফিফা