নেতাজি…

হামিদ কায়সার

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

নেতাজি সুভাষ বসুর জন্য বাঙালির হৃদয়ে আলাদা একটা জায়গা আছে। এই কয়েকদিন আগ পর্যন্তও ছিল তার জন্য এক রোমাঞ্চকর অপেক্ষা। নেতাজি ফিরে আসবেন, ফিরে আসবেন। কিন্ত তিনি আর কখনোই আসবেন না, উন্মোচিতও হবে না তাঁর অর্ন্তধান রহস্য।
মৈরাং-এ আমরা আইএন এ (Indian National Army) মিউজিয়ামের কক্ষ থেকে কক্ষ ঘুরে ঘুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নেতাজির এক সরব উপস্থিতি অনুভব করি। ধারাবাহিক ক্রমানুসরারে তাঁর যুদ্ধকালীন কার্যক্রম ছবির পর ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। কত যে দুলর্ভল ছবি, তা স্বল্প সময়ের কারণে ভালভাবে আত্মস্থ করা গেল না। চোখে ভাসছে হিটলারের সঙ্গে দাঁড়ানো তাঁর দাঁড়ানোর ঋজু ভঙ্গি।
অসীম সাহসী এই বিপ্লবী ১৯৪৩ সালে ভারতের বিশিষ্ট বিল্পবী রাসবিহারী বসুর ইচ্ছানুসারে আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। অবিলম্বে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তোজো তাঁকে আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ দুটির দায়িত্ব অর্পণ করেন। নেতাজি এখানে ত্রিবর্ণ পতাকা উত্তোলন করে দ্বীপ দুটির নতুন নামকরণ করেন শহিদ দ্বীপ ও স্বরাজ দ্বীপ।
তারপর ভারত উপমহাদেশে ইংরেজ বা মিত্রবাহিনীর ওপর সাঁড়াশি আক্রমণ চালাতে নেতাজি ১৯৪৪ সালের ৪ জানুয়ারি বার্মার রাজধানী রেঙ্গুনে ‘প্রধান সামরিক ঘাঁটি’ গড়ে তোলেন । আজাদ হিন্দ বাহিনীর একটি দল ১৯৪৪ সালের ১৯ শে মার্চ কোহিমায় উপনীত হয়ে স্বাধীন ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলন করেন । অন্য একটি বাহিনী মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের অদূরে মৈরাং-এ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং কোহিমা ও মৈরাংসহ ভারতীয় এলাকার প্রায় ১৫০ মাইল ব্রিটিশ শাসন মুক্ত করার পর মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল অধিকারের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয় । ইতিমধ্যে প্রবল বর্ষা শুরু হলে আজাদ হিন্দ বাহিনীর ভারত অভিযান ব্যাহত হয় । অস্ত্রশস্ত্র, খাদ্য ও সরঞ্জামের অভাবে আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈনিকরা পিছু হটতে বাধ্য হয় । এই সময়ে ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনীর আক্রমণে জাপান বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে । জাপানের সাহায্য বন্ধ হয়ে যায় । জাপানিরা পিছু হটায় পরিস্থিতি পাল্টায় এবং আজাদ হিন্দ বাহিনী ব্রিটিশ ফৌজের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় ।