নো ব্রা ডে

শারমিন শামস্

আমি অনেক মেয়েকে জানি যারা ঘরে বাইরে ২৪ ঘণ্টা ব্রা পরে থাকে। এমনকি কেউ কেউ আছে ঘুমানোর সময়ও খোলে না।
নো ব্রা ডে কোন ফাইজলামির বিষয় না। ওই অসচেতন মেয়েদের জন্য নো ব্রা ডে’র প্রয়োজন আছে। সারাদিন ব্রা পরে থাকা বা অতিরিক্ত টাইট ব্রা পরা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। যদিও নিজেদের সুন্দর আর তরুণ দেখাতে আমরা অনেকেই এটা করি। পুরোটাই ছোটবেলা থেকে আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া একটা অভ্যাস, যা মেয়েদের আরাম আর স্বাধীন মুভমেন্টকে অস্বীকার করে।

নো ব্রা ডে মেয়েদের দিন। ফেমিনিজমের দৃষ্টিতে এই দিবসের আলাদা ‍গুরুত্ব আছে। ব্রা’র মত কিছু প্রডাক্ট আছে যা নারীকে ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়, না ব্যবহার করলে মন্দ বলা হয়। অর্থাৎ পিতৃতন্ত্র ঠিক করে দেয় নারী তার আন্ডারগার্মেন্ট কতক্ষণ পরবে, কীরকম ব্রা পরবে। পুরুষের চোখে রমনীয় আবেদনময়ী হয়ে ওঠার জন্য নারীকে সুন্দর সুন্দর ব্রা কিনে পরতে হয়।

পুঁজিবাদ এইখানে বড় একটা ব্যবসা করে। যার মূল উপজীব্য নারীর শরীরই শুধু না, নারীর সিদ্ধান্ত নেবার অক্ষমতাও। কারণ ব্রা একটি অস্বস্তিকর জিনিস। সারাদিন ব্রা পরে থাকা কষ্টকর এবং তা অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু ব্রা ছাড়া বাইরে আসলে নারীকে খারাপ কথা শুনতে হয়। ব্রা নারীর জন্য বাধ্যতামূলক।
কেন বাধ্যতামূলক? কে করেছে বাধ্যতামূলক?

করেছে পিতৃতান্ত্রিক পুঁজিবাদি সমাজ। নারী করেনি।
এই সমাজের বিরুদ্ধে নো ব্রা ডে একটি প্রতিবাদ। একটি আওয়াজ।
ব্রা পরুন- কিন্তু নিজের ইচ্ছেতে নিজের সিদ্ধান্তে। ব্রা খুলুন সেও নিজের ইচ্ছায় নিজের সিদ্ধান্তে। কারণ স্তন ও স্তনবন্ধনী দুইই আপনার। পুরুষের নয়।

ছবি: গুগল