পরাজয়ের দায়ভার জবাবদিহতার মধ্যে আনতে হবে

আহসান শামীম: ক্রিকেট দলের পারফর্মেন্সে ‘অসন্তুষ্ট’ বাংলাদেশ সরকার । জাতীয় দলের নিউজিল্যান্ড সফরের ব্যার্থতার পর বিসিবি সভাপতি তামিম, সাকিব, ইমরুলদের নাম সরাসরি না উল্লেখ করে গণমাধ্যমে বক্তব্য রেখেছেন। বিসিবির সভাপতির কঠোর সমালচনার পর জাতীয় সংসদেও ব্যার্থতার কারন অনুসন্ধান করে জোর আলোচনা হয়েছে । নিউজিল্যান্ডর মাটিতে বাংলাদেশের প্রধান কোচের ইংঙ্গিতও দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের দিকে। ভারত সফরের আগেই এসব অতিরঞ্জিত বক্তব্যে দলের মাঝে যথেষ্ট ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দলের প্রয়োজন না হলে আর খেলবেন না জানালেন বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সিরিজে চারটি হাফসেঞ্চুরি ও একটি ডাবল সেঞ্চুরি করেন এই বোলিং অলরাউন্ডার। অর্জন যেমন আছে তেমনি সফরজুড়ে কয়েকটি বাজে শটে আউট হওয়ায় সমালোচনার মুখেও পড়েছেন সাকিব। তবে এমন সমালোচনা এখন আর খুব একটা ভাবায় না তাকে। দলের প্রয়োজনেই খেলেন। প্রয়োজন না হলে খেলবেন না, এমনটাই জানান সাকিব। বলেন,১০ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি, চেষ্টা করেছি ভালো খেলার। এখনও তাই করি,ভবিষ্যতেও করে যাব, আমার ক্রিকেট দর্শনটা এমনই। এখন কারও ভালো না লাগলে বাদ দিয়ে দিবে।’”বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাক্তিগত সাক্ষাৎকারে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ইমরুল কায়েসের বক্তব্য পরিস্কার । ১৪০ ওভার উইকেট রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পর ওপেনার হিসাবে মাঠে নামার তাঁর কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না । কোচ হাতুড়াসিংহ সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলে যে সব খেলোয়াড়রা বিশ্রাম চাইবেন সবাইকে তিনি বিশ্রামে পাঠাবেন । কোচ আর বিসিবির সভাপতির বক্তব্য সংকট ঘনিভূত হবে বলেই মনে করেন দেশের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা । দল নির্বাচনে হেড কোচ হাতুরাসিংহের এককছত্র ক্ষমতা টাইগার দলে মূল সংকট । এখানে গদি রক্ষা করা ছাড়া দল নির্বাচনে নির্বাচকমন্ডলীর সদস্যদের কোন ক্ষমতা নাই । হাতুরাসিংহের সম্মতি ছাড়া কেউ জাতীয় পর্যায়ে ভাল খেলেও জাতীয় দলে ঢোকার প্রধান বাঁধা এখন কোচ হাতুরাসিংহ। এতো ক্ষমতা বহন করা ক্রিকেট বিশ্বের একমাত্র কোচের নাম হাতুরাসিংহ । বিসিবির সভাপতি হাতুরাসিংহের ব্যাপারে মোটামুটি ভাবে অন্ধ। না হলে নিউজিল্যান্ডর মাঠে খেলা শেষে সভাপতির বক্তব্য এত রূঢ়তা প্রকাশ পেতে পারে না । নিউজিল্যান্ডর মাঠে দল গঠন নিয়ে বিসিবির সভাপতির বক্তব্য খেলোয়াড়দের জন্য সম্মানজনক ছিল না । কোড অব কন্ডাক্টের কারনে খেলোয়াররা মুখ বুঝে সবকিছু সহ্য করছেন কিন্তু তার প্রভাব পরছে খেলার মাঠে । ওয়ানডে আর টি টুয়েন্টি ম্যাচের পর নীরব প্রতিবাদ হিসাবে জাতীয় দল আর তার অধিনায়ক্ত  ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তাজা । বিসিবি মিডিয়া কমিটি পরে বিসিবির সভাপতির বক্তব্যের ঘুরিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া আর বিসিবি প্রধানের টেলিফোনের জন্য মাশরাফি নিউজিল্যান্ডর মাঠে তাঁর পদত্যাগ ঘোষনার সিদ্ধান্তের থেকে সরে আসেন । তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিসিবি প্রধানের মিটিং এর পর সিদ্ধান্ত নেবেন । এমন খবর দিলেন মাশরাফির ঘনিষ্টরা ।তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডর মাঠে হারের পিছনের কারন অনুন্ধান করলে বাংলাদেশের দলগঠন এবং নিউজিল্যান্ডের মাঠে কিছু ভুল সিদ্ধান্তের দায় এড়াতে পারেন না কোচ হাতুরাসিংহও । ইমরুলের ইন্জুরীর পেছনে ইমরুল  দায়ী না দায়ী দলের কোচ সহ টিম ম্যানেজমেন্টের । প্রথম টেষ্ট হারার পেছনে সবচেয়ে বেশি দায়ভার কোচ হাতুরাসিংহের । সেই টেষ্টের প্রথম ইনিংস ঘোষনার পেছনে সবচেয়ে বেশি ছটফট করছিলেন হাতুরাসিংহ । ড্রেসিং রুমের বাইরে দাড়িয়ে তাকে বার বার ইনিংস ঘোষনা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে দেখা গেছে টিভির পর্দায় । ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দেশের ক্রিকেট ভবিষৎ মাথায় রেখে প্রধান কোচের অসীম ক্ষমতার রশি টেনে ধরা না হলে বিপন্ন হয়ে পরবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কোচকেও পরাজয়ের দায়ভার জবাবদিহতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে ।