পার্থ বড়ুয়ার মুখোশ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুদীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে অনেক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন সোলস এর পার্থ বড়ুয়া। কিন্তু কখনো সলো অ্যালবামের কথা ভাবেননি। সেই ধনু ভাঙ্গা পণ ভেঙ্গে প্রথমবারের মত শ্রোতাদের জন্য সলো অ্যালবাম  নিয়ে এলেন পার্থ বড়ুয়া। অ্যালবামের নাম মুখোশ। পাঁচটি বিষয়ভিত্তিক গান নিয়ে মুখোশ এর আদল। সবগুলো গান লিখেছেন শেখ রানা। IPDC -এর পৃষ্ঠপোষকতায় গত সপ্তাহে অন্তর্জালে অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সেই আনন্দ উদযাপনে উপস্থিত থেকে লগ্নটাকে স্মরণীয় করে রাখেন সবার প্রিয় কন্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরী। মুখোশের প্রথম গান ‘শহর ও মেঘদল’ এখন অনলাইনে। ইতিমধ্যেই শ্রোতাপ্রিয় হয়ে উঠেছে শহর ও মেঘদল। পর্যায়ক্রমে অন্য চারটি গান অবমুক্ত করা হবে। মুখোশ এর সিডিও পাওয়া যাবে খুব শিগগীর।

প্রাণের বাংলা-র পাঠকদের জন্য মুখোশ নিয়ে নিজস্ব কথামালা বলেছেন গায়ক পার্থ বড়ুয়া এবং গীতিকার শেখ রানা। আসুন, তাদের মুখ থেকেই মুখোশ নিয়ে নিজস্ব অনুভূতি জানা যাক-

মুখোশ- কেন করলাম

পার্থ বড়ুয়া

জানি, এই প্রশ্ন আসবে। আমি এর আগে তো একক অ্যালবাম করিনি, করবো এ রকম ভাবনাও আসে নি মনে।

রানার সঙ্গে পরিচয় হয় বিলেতে। শো করতে গিয়েছিলাম। তার আগে ওকে চিনতাম বলতে ওর লেখা গান শুনেছিলাম। কিন্তু লন্ডনে দেখা হয়ে, কথা হয়ে মনে হলো এই ছেলেটার সঙ্গে একটা কাজ করা যায়। দুই-তিন দিন আড্ডা হলো, গান নিয়ে কথা যে খুব হলো তাও না। কিন্তু দু’জনার ওয়েভ লেন্থ মিলে গেলো। ওর ভাবনা, আক্ষেপ আমার হৃদয় স্পর্শ করলো। আমি ফিরে এলাম শো শেষ করে। রানাও কয়েক মাস পরে দেশে ফিরে এলো।

আমার স্টুডিওতে কাজ শুরু হলো পুরোদমে। দুজন মিলে ঠিক করলাম বিষয়ভিত্তিক গান করবো। ভিন্ন ভাবনার ভিন্ন সাতটা গান। যে গান দিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম সেটা শেষ পর্যন্ত আর করাই হলো না। কিন্তু একে একে শহর ও মেঘদল, নস্টালজিয়া, মুখোশ …দারুণ গতিতে কাজ চলতে লাগলো। নিয়মিত বিরতিতে কাজ হচ্ছিলো, সময়ও আপন আবর্তে ঘুরছিলো। এই করে করে এতগুলো বছর চলে গেলো। কাজ শেষ হলো টং এর দোকান গানটা দিয়ে। শুরু হয়েছিলো বিলেতে বসে, কাজটা  যখন শেষ করি রানা আবার বিলেতে চলে গেলো।

কাজ তো অনেক করলাম, অনেক গান বানালাম। কিন্তু মুখোশ অ্যালবামে যে সময়, শ্রম, লিরিক নিয়ে, সুর নিয়ে কাটা-ছেঁড়া হলো তা বিরল। এই দীর্ঘ পথ চলায় স্টুডিওতে অনেক সময় নিভৃতে ভেবেছি। এক একটা গান হয়, আর ভাবি দূর্দান্ত কিছু হলো। তারপরই মনে পড়ে গান এখন কোথায় ছাড়বো, সব তো বদলে গেছে এই দশ বছরে!

সেই সব ভাবনার পালাবদলে কাঙ্ক্ষিত সময় দরজায় টোকা দিয়ে আমায় আশাবাদী করে। আমি জানি মুহূর্ত, সময় ফিরে আসে না। শুধু ফিরে ফিরে আসে যে গানগুলো রয়ে যায় বহুকাল ধরে শ্রোতার অন্তরে, শহরে, মেঘদলে। নদীতে বা একটা ছোট্ট টং এর দোকানে।

মুখোশ এর গানগুলো অনেক যত্ন করে, সময় নিয়ে করেছি। গানগুলো সবার কাছে পৌঁছাবে, এই আশাটুকু করতেই পারি।

শুধু লিরিক লিখব বলে বোহেমিয়ান হয়ে গিয়েছিলাম

শেখ রানা

শেখ রানা ও পার্থ বড়ুয়া

লিরিক লিখতে ভালো লাগে খুব। লেখালেখি করেই আনন্দ পাই। শুধু লিরিক লিখব বলে বোহেমিয়ান হয়ে গিয়েছিলাম। আকাশ এর দিকে তাকিয়ে লম্বা সময় কেটেছে। বারান্দায় একা বসে থেকে বৃষ্টির সাথে অনেক উদাস দুপুর আছে আমার। সেই গল্প আর একদিন করবো।

পার্থ’দার সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের স্মৃতি খুব মজার। লন্ডনের রাজপথে দুজন মিলে গাড়ি ঠেলেছিলাম মনে পড়ে। আর তারপর লিরিক, গান নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক আর শেষমেষ পার্থদার উক্তি,’চল দুজনে মিলে একটা অ্যালবাম করি।’

২০০৯ এ প্রবাস জীবন শেষে ঢাকায় ফিরে লিরিক লেখা শুরু। স্টুডিওতে বহু কাটা-ছেঁড়া, যোগ-বিয়োগ শেষে এক একটা লিরিকের সুর পাওয়া। তারপর ব্যস্ততা আর নাগরিক ধারাপাত। এর ফাঁকে ফাঁকে কাজ হওয়া একের পর এক। দীর্ঘ ১১ বছর পর অবশেষে পাঁচটা লিরিকের গানের আদল পাওয়া ঠিকঠাক।

৫ টা ভিন্ন থিম নিয়ে ৫ টা গান। নস্টালজিয়া, মুখোশ, শহর ও মেঘদল, বৃষ্টির গান আর টং এর দোকান। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে গানগুলো একটু অন্যরকম। কি রকম? তা জানিনা…সব জেনেই বা কি লাভ!

আমি অশিক্ষিত গীতিকার। আর আমার গায়ে একটা সুখী মানুষের জামা। দুই মিলে আমার শব্দচয়ন।

মুখোশ- এলবাম আমার স্বপ্নপুরণ।

পরম করুণাময় সবাইকে অনুকূল সময় দান করুন।

ছবি: সংগ্রহ

গানের লিংক-

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=3266108540080594&id=690867650938042

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]