পাহাড়ের দেশে চারদিন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোস্তাফিজ মিঠু

আধুনিক এই যুগে নিজেকে সবসময় আপডেট রাখতে যারা হাপিয়ে উঠেছেন পাহাড় তাদের জন্য সস্থির জায়গা। খুব বেশি ভেতরে চলে গেলেই আপনি সব আধুনিক সেবা থেকে দূরে। বিষয়টি প্রথমে একটু অস্বাভাবিক লাগলেও অভ্যাস আপনাকে স্বাভাবিক করে দিবে। সমতলের জীবনের চেয়ে পাহাড়ি জীবন অনেকটাই ভিন্ন। তাই সুযোগ পেলে পাহাড় ভ্রমণ আমি মিস করি না।

কিছুদিন আগে বান্দরবান ঘুরে এলাম। গন্তব্য ছিল নাফাখুম ও আমিয়াখুম। যারা ট্র্যাকিং পছন্দ করেন তাদের কাছে এই দুই জায়গা বেশ জনপ্রিয়। যদিও আমিয়াখুম ট্র্যাকিং দূর্গম হওয়ায় সেখানে ট্রাভেলারদের সংখ্যা কম থাকে।

ভোরে বান্দরবান শহর থেকে থানচির উদ্দেশ্যে রওনা দিই। প্রায় ৩ ঘণ্টার এই রাস্তা দিয়ে আপনি যখন থানচি গিয়ে পৌঁছাবেন ততক্ষণে পাহাড় আর মেঘের গন্ধ আপনার গায়ে লেগে যাবে। চাঁদের গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে যখন এগোচ্ছি, পুরো ভ্যালি মেঘে ঢেকে গেছে। ওপর থেকে দেখলে মনে হয় পুরো ভ্যালিজুড়ে মেঘের চাদর বেছানো।

থানচি ঢোকার আগে একটা বিজিবি ক্যাম্প পড়ে। সেখানে নাম পরিচয় সব এন্ট্রি করে তাদের অনুমতি নিয়ে ভ্রমণ শুরু করতে হয়। তারপরেও আরো দুই জায়গায় এন্ট্রি করতে হয়। থানচি থানায় ও বোট ঘাটের বিজিবি ক্যাম্পে।

সব ধরনের ফর্মালিটিস শেষ করে আমরা সাঙ্গু নদী হয়ে রেমাক্রির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। দুই ইঞ্জিন নৌকায় আমরা সাতজন। সঙ্গে দুজন গাইড। ঢাকা থেকে আমরা গাইড ঠিক করে নিয়েছিলাম।

নৌকায় ২০ মিনিট পেরুতেই আমরা নেটওয়ার্কের বাইরে। দু‘পাশে পাহাড়ের ফাঁকে নীল আকাশ। তার নীচে পাথরের নদী বেয়ে আমরা এগোচ্ছি স্রোতের বিপরীতে। পাহাড়ের নদীগুলো ওপর বেয়ে নিচের দিকে নামার কারণে স্রোতে মাত্রা বেশি থাকে। প্রায় ঘণ্টাখানিক যাওয়ার পর দু‘পাশে বিশাল আকারের পাথর ঘেসে আমাদের নৌকা এগোচ্ছে। কাছ থেকে দানব আকারের এই পাথর দেখার অভিজ্ঞতা আমার এই প্রথম। পাথরের অংশ পার হয়ে আমরা দুপুরের খাবারের বিরতি নেই। থানচি থেকে খাবার নিয়ে আসতে হয়। কারণ এরপর আর ভারি কোনো খাবারের ব্যবস্থা নেই। নৌকার নোঙর ফেলে আমরা একটা বাঁশের ছাউনি ঘরে খাবার খেয়ে নেই। সঙ্গের কয়েকজন নদী থেকে দুপুরের গোসল সেরে নিলো। প্রায় ৩০ মিনিটের বিরতির পর আমরা রওনা দিলাম।কিন্তু বিরতীর এই জায়গা থেকে হেটে নদী পার হয়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে যেতে হয়। গভীরতা কম থাকায় আর স্রোতের কারণে যাত্রী বহন করাটা খানিকটা বিপদজনক। দশ মিনিটের মতো হেঁটে আমরা আবার নৌকায় উঠি। সেখান থেকে রেমাক্রি পৌঁছাতে মধ্য দুপুর। রেমাক্রি থেকে বামে চলে গেছে নাফাখুম ও আমিয়াখুম। সামনের দিকে এগিয়ে গেলে এর গন্তব্য আন্ধার মানিক।

রেমাক্রি পর্যন্ত আমাদের যানবাহন সুবিধার ইতি টানতে হলো। এরপর যেখানেই আপনার গন্তব্য হোক না কেনো একমাত্র সম্বল দুটি পা। রেমাক্রিতে আমরা কোনো দেরি না করেই হাঁটা শুরু করি। নদীর তীর ধরে কিছুদূর হেঁটে যেতেই পাহাড়ের উঁচু নিচু রাস্তা। কখনো বড় পাথর বেয়ে এগোতে হচ্ছে, আবার কখনো নদী পারাপার। আমি আগেই বলেছি পাহাড়ি নদীর স্রোত বেশি থাকে। তীর থেকে সেটি বোঝা সম্ভব না। যেই জায়গায় ঝিরির গভীরতা কম সেখান দিয়েই গাইড নিয়ে যাবেন। তবে অবশ্যই পায়ে এমন কোনো সেন্ডেল থাকতে হবে যার গ্রিপ ভালো। আর অবশ্যই কেডস জাতীয় কোনো জুতা পরবেন না। কারণ কিছুক্ষণ পরপর ঝিরি পার হতে হবে। তাই ভেজা পা আর জুতা নিয়ে আপনি হাঁটতে আরামবোধ করবেন না। আর বর্ষার সময় জোঁকের একটা ভয় স্বাভাবিক।

নাফাখুম পর্যন্ত পৌঁছাতে আমরা কয়েক জায়গায় বিশ্রামের বিরতি দিলাম। কারণ প্রায় তিন ঘণ্টা হাঁটার পথ ট্র্র্যাকিংয়ের শুরুতে একটু কঠিন হয়ে যায়। তার ওপর রোদের তাপ তখন অনেক। দিন ছোট হওয়ায় নাফাখুম পৌঁছালাম শেষ বিকেলে। ২০ মিনিটের মতো আলো পেলাম। এরমধ্যে সবার ক্যামেরা আর মোবাইল বের করে যে যার মতো ছবি তুলছে। নাফাখুমের ওপারে একটি ছোট দোকানে আমরা শেষে বসলাম। হাল্কা খাবার খেয়ে জিন্নাহ পাড়ার দিকে রওনা হলাম। এখনো আরো তিন ঘণ্টার রাস্তা। অন্ধকার হয়ে আসছে। পেছনে বড় কাপড়ের ব্যাগ সামনে ক্যামেরার ব্যাগ। এক হাতে টর্চ লাইট অন্যহাতে বাঁশের লাঠি।

ট্র্যাকিংয়ে কিছু জিনিস সঙ্গে রাখা জরুরী । এরমধ্যে টর্চ লাইট আর শুকনা খাবার অন্যতম। ছোট একটা বাঁশের লাঠিও সঙ্গে থাকা ভালো। কারণ উঠতে বা নামতে এটি আপনাকে ভালো সাপোর্ট দিবে। আর রাতে যেহেতু ঘুটঘুটে অন্ধকার, তাই টর্চ ছাড়া আপনার এগোনো সম্ভব না। শুকনা খাবারের মধ্যে খেজুর, কিসমিস বেশ কাজে দেয়া। কারণ মুহূর্তের মধ্যে এনার্জি পেতে এই খাবারগুলো বেশ উপকারি।

নাফাখুম থেকে জিন্নাহ পাড়ার দিকে যেতে আমাদের এমন রাস্তা পাড় হতে হবে এটা ভাবিনি। কখনো বিশাল পাথরের ওপর দিয়ে পাড় হতে হচ্ছে। আবার কখনো এক হাতে টর্চ লাইট অন্য হাত দিয়ে পাহাড়ের অংশ ধরে পার হতে হচ্ছে। তবে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আপনি যদি প্রস্তুত থাকেন এবং মনের জোর থাকে খুবই সম্ভব। তবে সতর্কতা সবার আগে। কারণ আপনার এমন রাস্তাও পাড় হতে হবে যেখানে সামান্য পা ফসকে যাওয়াও আপনার জন্য বড় বিপদ হতে পারে। তাই সতর্কতা সবার আগে।

অন্ধকারের এই রাস্তাটুকু যেতে আমাদের কিছুটা বেশি সময় লাগে। রাতে ঝিরি পার হতেও একটু বেশি সচেতন হতে হয়। জিন্নাহ পাড়া পৌঁছাতে আমাদের তিন ঘণ্টার একটু বেশি সময় লাগে। একটি ছোট পাহাড়ের ওপর জিন্নাহ পাড়া। এখানেই দুই রাত ছিলাম আমরা। একটি দোতালা কাঠের ঘর। মেঝেটা বাশের মাচা দিয়ে করা। প্রায় ছয় ঘণ্টা হাঁটার পর আমাদের পুরো শরীর যেনো ব্যাথার প্রাসাদ। রনি ভাই আমাকে কয়েকটা রেগুলার ব্যায়াম করালেন। এতে কিছুটা স্বস্তি পেলাম। এখানে মেঝেতেই বিছানা করে ঘুমাতে হয়। যে যার মতো বিছানা করে ঘাটি গারলাম। ঘণ্টা খানিক বিশ্রামের পর রাতে খাবার শেষ করি। খাবারের মেন্যুতে বিশেষ রান্না ছিল পাহাড়ি মুরগি। এত স্বাদের মুরগি আগে কেউ কখনো খেয়েছেন কিনা জানি না। তবে আমি খাইনি। জুম চালের ভাতের সঙ্গে মুরগীর মাংস অমৃত ছিলো। খাবার শেষে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়েই আমরা ঘুমিয়ে পড়ি।

পরদিন সকাল ৮টায় আমার ঘুম ভাঙ্গে। ততক্ষণে কেউ রূমে নেই। ভোরে সবাই ছবি তুলতে বের হয়েছে। কিন্ত শরীরের ব্যথার যেই অবস্থা তাতে না উঠার আলসামি দূর কররত পারলাম না। রাতে যদিও ব্যথার ঔষধ খেয়েছি কিন্তু খুব একটা কাজে লাগেনি মনে হয়। সকালে খাবার খেয়ে আমরা আমিয়াখুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। আমিয়াখুম থেকে আবার এই পাড়াতেই আমরা থাকবো।

আগের দিন আমরা মোটামুটি পাহাড়েরর সমতল রাস্তা ধরেই এসেছিলাম। কিন্তু আমিয়াখুম যেতে অনেকগুলো পাহাড় পাড়ি দিতে হয়। যাওয়ার সময় শুধু উঠতে হয়। দেবতা পাহাড় পর্যস্ত আমাদের সময় লাগলো ২ ঘণ্টার মতো। যেহেতু পাহাড় শুধু উঠতে হচ্ছে তাই আজকের কষ্টটা একটু বেশি। দেবতা পাহাড়ের কিছুটা আগে একটি পাড়ায় আমরা থাকলাম। নাম ‘নিকোলাস পাড়া’। নিকোলাস নামে এক ব্যক্তির নামে এই পাড়া। সে তার পরিবার সহ এখানে থাকেন। অল্প কয়েকটি ঘর রয়েছে এই পাড়ায়। পাহাড়ি পাড়াগুলো ব্যক্তি নামে গড়ে উঠে। যেই অংশটুকু যিনি প্রথম বসবাস শুরু করেন তার নামেই পাড়ার নাম হয়। এরপর সেখানে আরো কয়েকটি পরিবার যোগ দেয়। নিকালাস পাড়া একটা বড় পাহাড়ে চূড়ায়। এই বিশাল পাহাড়ি এলাকায় একমাত্র এখান থেকে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। তাই এখান থেকে আমরা বাসায় যোগাযোগ করলাম। আর পুরো ট্র্যাকের এই একবারই আপনি বাসায় যোগাযোগ করতে পারবেন। কারণ ফেরার সময় এই পাহাড়ের নিচ দিয়ে ফিরতে হয়। দশ মিনিটের মতো আমরা সেখানে ছিলাম। এরপর পাড়া থেকে নেমে কিছুদূল সমতল পথ পেলাম। এরপর আবারো পাহাড় বেয়ে আমরা দেবতা পাহাড়ে পৌঁছালাম। আমিয়াখুম ট্র্যাকিংয়ে বিপদজনক একটু জায়গা। কারণ এটি ৯০ ডিগ্রি একটি পাহাড়। যেখান থেকে ৪০ মিনিটের মতো আপনাকে নিচে নামতে হবে। তাই এই সময়টা দুই হাত খালি রাখুন। ছবি তোলা থেকে বিরতি থাকা ভালো। বাশ আর হাতে সাপোর্টে ধীরে ধীরে নামুন। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সচেতনভাবে নামলে খুব কঠিন কিছু আপনার মনে হবে না।

প্রায় ৪০ মিনিট পাহাড় বেয়ে নিচে নামলাম। বামে আমিয়াখুম আর ডানে ভেলাখুম। দুটি পাঁচ মিনিটের মতো পথ। একটি বাশের ভেলা করে আমরা ভেলাখুম ঘুরে আমিয়াখুমের দিকে এলাম। ততক্ষণে বিকেল। দু‘পাশে বিশাল পাহাড় পানির শব্দ আর হাল্কা শীতে পরিবেশটা অন্যরকম এক দ্যোতনা সৃষ্টি করে। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখতে হলে প্রকৃতির অন্দমহলে ঢুকতে হয়। থানচি থেকে হিসেব করলে এই জায়গায় পৌঁছাতে আমাদের দেড়দিন সময় লাগে।

সন্ধ্যার আগেই আমাদের জিন্নাহ পাড়ায় ফিরে যেতে হবে। কারণ টর্চের আলো দিয়ে দেবতা পাহাড় উঠা আর বাকি পাহাড়গুলো নামা অনেকটা কঠিন হয়ে যাবে। আমিয়াখুমে সময় কাটিয়ে এবার আমাদের দেবতা পাহাড় উঠার পালা। আবারো এই ৯০ ডিগ্রি পথ বেয়ে ওপরে উঠার আগে একটু চিন্তায় পড়ে গেছিলাম। কতক্ষণ যেনো লাগে এই পাহাড় উঠতে। কিন্ত মাঝে দুই তিনবার বিশ্রাম নিয়ে আমরা ভালোভাবেই পাহাড়ে ওপরে উঠে গেলাম। এরপর আবারো একই পথে জিন্না পাড়ায় ফিরে গেলাম। সন্ধ্যার কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা পাড়ায় পৌঁছে গেলাম।

আগের রাতে আমাদের সময়টা ঘরবন্দি গেছে। তাই আজ একটু ভালোভাবেই কাটাতে চাইলাম। রাতের খাবার শেষে করে আমরা নীচে আগুন জ্বালালাম। রাতে পাহাড়ে বেশ শীত পড়ে। পুরো পাড়া কুয়াশায় ঢাকা। এরমধ্যে আগুন জ্বালিয়ে আড্ডায় বসলাম আমি, টুটুল, জুয়েল, মাহবুব, রনি ভাই আর ভাবী। বাশার তখন রুমে প্রায় এক ঘুম শেষ। টুটুল, রনি ভাই ও ভাবী চলে গেলেন। আমরা তিজন বসে আগুন পোহাচ্ছি। সঙ্গে টুকটুকা গান করছি। আগুন জ্বলা শেষ হতে আমরাও রুমে ফিরে যাই। সকালে আমাদের গন্তব্য এবার ফেরার দিকে। এরমধ্যে এক রাত আমরা নাফাখুম পাড়ায় থাকবো।

সকালের খাবার শেষ করে ১০টার মধ্যে আমরা নাফাখুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। আসার সময় রাতে এই রাস্তা পাড়ি দেওয়া কিছুই দেখা হয়নি। তাই ফেরার দিন কিছুটা সময় নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিরতি দিয়ে আমরা নাফাখুম পৌঁছাতে আমাদের দুপুর হয়। এরমধ্যে একটা লম্বা বিরতি দিই আমরা। সেখানে মাহবুব ও বাশার গোসল করে নিলো। এই পথে আবার ফেরার সময় আমরা অনেকটা অবাক হয়ে যাই। এমন একটা রাস্তা আমরা রাতে টর্চ জ্বালিয়ে পাড় হয়েছি। যাই হোক, দুপুরে নাফাখুম পৌঁছে আমরা বিশ্রাম নিই। ওই পাড়ায় গাইড আগে থেকে আমাদের রুমেরর ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। জিন্না পাড়াও গাইড দ্বারা আগে থেকে বুক করি। নাফাখুম আসা পর্যন্ত আমরা অনেকটা সময় একজায়গায় আমাদের কাটানো হয়নি। কারণ সারাদিন হেঁটে রাতে ঘুম আবার সকালে হাঁটা শুরু। এক মাত্র এখানেই আমরা দুপুর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত সময় পেলাম। দুপুরের খাবার অর্ডার করে আমরা নাফাখুমে নামলাম। নাফাখুমের গা ঘেষে কিছু উচুতে নাফাখুম পাড়া। নীচে নেমে কখনো আড্ডা দিচ্ছি, কেউ গোসল করছে আবার কেউ ছবি তোলায় ব্যস্ত। সবাই বেশ ভালো মেজাজে আছি। দোকানে বসে আমরা ক‘জন চা খাচ্ছি এমন সময় বাশার অথবা জুয়েলের আওয়াজ শুনতে পাই। এগিয়ে দেখি জুয়েলের ক্যামেরা পানিতে পড়ে গেছে। পুরো ট্যুরে মন খারাপের একটা সময় সবার। এরপর একজন পাহাড়ি ব্যক্তি জাল দিয়ে ৩০ মিনিট পর ক্যামেরা উদ্ধার করলেন। প্রায় ২০ ফিট গভীর আর এমন স্রোতের মধ্যে ক্যামেরাটা খুঁজে পাওয়াটা আমাদের জন্য খুশির খবর ছিলো। ক্যামেরার সঙ্গে ট্রাইপড না থাকলে সেটিও হয়তো হতো না। এরপর দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নেই। বিকালে পাড়ায় ঘুরে ঘুরে ছবি তুলে আমরা আবার নিচে নেমে আসি। নাফাখুমের পাশে দোকানে বসে আগে। কেউ খুমের পাড়ে। পুরো জায়গাটা ততক্ষণে অন্ধকার। পাড়ায় উঠে প্রতিরাতের মতো খাবার খেয়ে আড্ডা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

সকালে সেদিনও দেরি করেই আমার ঘুম ভাঙলো। তবে আজকে আমার সঙ্গে রুমে জুয়েল আর মাহবুব আছে। আমি আর মাহবুব নীচে নামলাম। খানিকটা ঘুরে ফিরে এলাম। এরপর বের হওয়ার প্রস্তুতি । আবার আমাদের হাঁটা পর্ব। স্বাভাবিকভাবেই একটু খারাপ লাগছে। নাফাখুম থেকে ফিরে এলাম রেমাক্রি। মাঝে ঝিরিতে কয়েকজন গোসল করলাম। এরপর একটা পাহাড়ি দোকানে কলা আর পেপে খেলাম। পাহাড়ি ফলের মধ্যে কলা, পেপে আর পেয়ারা বেশ কয়েক জায়গায় পাবেন এবং স্বল্প মূল্যে।

রেমাক্রিতে আমাদের ইঞ্জিন নৌকা আগেই রিজার্ভ করা ছিলো। এই সব কাজের দায়িত্ব গাইডের। বিকেলের মধ্যে আমরা থানচি ফিরে এলাম। থানচি থেকে বান্দরবান ফিরতে রাত হবে। তাই সূর্যাস্তের সময়টা কোনো জায়গায় দাঁড়ান। দূর আকাশে লাল আভা। আর পাহাড়ের পেছনে ধীরে ধীরে চোখের আড়াল হয়ে যাচ্ছে সূর্যটা। চোখে লেগে থাকার মতো সৌন্দর্য।

বান্দরবান এসে পৌঁছাই তখন প্রায় ৮টা। টিকিট কেটে রাত ৯টায় আমরা বাসে উঠি।

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]