পাহাড় মানে আমি শুধু শিলিগুড়ির পরের ষ্টেশনই বুঝি

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

জয়দীপ রায়

(কলকাতা থেকে): অনেকদিন পাহাড়ের কথা ভাবা হয়নি। শেষ যে মানুষটা তীব্র গরমের শেষে কালিম্পং পাহাড় থেকে ছুটি কাটিয়ে ফেরে, তাকে বলে দেওয়া হয়নি যে, মরসুমের প্রথম বৃষ্টির আগেভাগেই তুমি পাহাড় ডিঙিয়ে সেবকের সমতুল্য কোনও সমতলে নেমে এসো। কারণ উত্তপ্ত পাহাড় হঠাৎ বৃষ্টি পেলে গা থেকে পাথর ঝরিয়ে দেয়। পাথুরে মাটি আলগা করে দেয় নিজেদের। গড়িয়ে গড়িয়ে পাথর নেমে আসে রাস্তা পেরিয়ে তিস্তাপারে।
অনেকদিন পাহাড়ে যাওয়া হয়নি। শেষ যে বান্ধবীটি বরের সঙ্গে একা একা এ পাহাড় সে পাহাড় ঘুরে ক্লান্ত হয়ে অবশেষে কেভেন্টার্সের খোলা টেরাসে হট চকোলেট খেতে বসে, তাকে কখনও বলার সুযোগ হয়নি যে, কেভেন্টার্সের ছাদ থেকে ক্লক টাওয়ারের দিকে তাকাতে নেই। ক্লক টাওয়ারের ঘড়িতে রণবীর সিং বসে না থাকলেও, নীচে জীপস্ট্যান্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আড্ডা মারতে থাকা ড্রাইভারেরা রণবীর সিংয়ের চেয়েও স্মার্ট দেখতে। পাহাড়ী ড্রাইভাররা যখন তখন কারো স্টিরিওতে হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া বাজিয়ে অনায়াসে অতিক্রম করে যায় একের পর এক দুর্বোধ্য সব পাহাড়ী ভাঁজ, পেছনের সিটে বসে তুমি তার প্রেমে পড়ে যাও। তোমার পাশের কর্পোরেট বরের চেয়েও ড্রাইভার দাজুর বাঁ কানের ইয়ার স্টাডটা অনেক বেশী সম্ভাবনাময় মনে হয়। তোমার। তোমাকে আমি কোনওদিন বোঝাতেই পারিনি, ঠিক কি কি করলে পাহাড়ী ড্রাইভারের খপ্পর থেকে বেরিয়ে আসা যায়।
অনেকদিন পাহাড়ের গান শোনা হয়নি। শেষ যে বন্ধুটি দিওয়ালির আলোয় ভেসেছে নিজের মানুষদের নিয়ে কোলাখামের গ্রামশেষের ইকো ট্যুরিজমের ঘরে, তাকে টেক্সট্ করা হয়নি যে, সান্ধ্যকালীন শৌখিন পাহাড়ী মদ্যপানের পরে তুমি অবশ্যই সবাইকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অন্ধকার রাস্তা ধরে আস্তে আস্তে কোলাখামের দিওয়ালির মধ্যে ঢুকে যেও। একটা রাস্তার বাঁকে গুটিকয় নেপালি টিনের ছাদের বাড়ি। দু’একটা হোমস্টে। একটাই জিপের জিপস্ট্যান্ড। বন্ধ কিরানা কাম দারুর দোকান। সব বাড়িতেই মোমবাতি জ্বালানো হয়েছে। উঁচুতে লাভা পাহাড়ের উপর থেকে আসা ঠান্ডা হাওয়ায় মোমের আলোর মত তোমরাও তিরতির করে কাঁপতে কাঁপতে শুনতে পাবে সুজন থাপার বসার ঘর থেকে কোরাসে এক ছন্দবদ্ধ গান ভেসে আসছে। মেয়েরা আজ দলবেঁধে গ্রামীণ বাড়িতে গিয়ে গিয়ে দেসুরে করে। দেসুরে গান। তোমরা যতক্ষণ পর্য়ন্ত সুর করে করে দুলে দুলে পড়া স্ট্রেইট চুলের নেপালী মেয়েদের কবিতার মত গান দেখতে পাবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের পাহাড়ী দীপাবলির জীবনযাপন সম্পন্ন হবে না।

অনেকদিন কাউকে বলা হয়নি পাহাড় মানে আমি শুধুমাত্র শিলিগুড়ির পরের ষ্টেশনই বুঝি।

ছবি:গুগল