পিকাসোর তৈরি গহনাগুলো

হাঁড়, কাঠ অথবা লোহার ওপর আঁকিবুকি কেটে গহনা তৈরি করে ফেলার কাজটা পাবলো পিকাসো প্রথম শুরু করেছিলেন ১৯১৬ সালে। কাঠ দিয়ে একটা নেকলেস তৈরি করে তার ওপর নকশা এঁকে তিনি উপহার দিয়েছিলেন তখনকার সঙ্গিনী গ্যাব্রিয়েলা ডেপেয়ারীকে। তবে এই কাজটা তিনি নিয়মিত করতে শুরু করেন ১৯৩০ সালের দিকে। ওই সময়ে তিনি বসবাস করছিলেন আরেক চিত্রকর ডোরা মারের সঙ্গে। দোকান থেকে কিনে আনা লোহার পাতলা পাত আর কাঠের ওপর নকশা করে, ছবি এঁকে পাবলো পিকাসো তার ভালোবাসার মানুষটিকে উপহার দিতেন।

ছোট ছোট বস্তুর উপর নকশা কাটতে পছন্দ করতেন পিকাসো। ফটোগ্রাফার ব্রাসিকে তিনি সেরকমটাই বলেছিলেন। পিকাসো তখন দক্ষিণ ফ্রান্সে বসবাস করতেন। গ্রীষ্মের দিনে নিজের বাড়ির কাছে সমুদ্র সৈকতে পায়চারি করার সময় কুড়িয়ে আনতেন ছোট ছোট পাখিদের হাড়, পাথর আরও কত কী। বাড়িতে বসে সেই ছোট ছোট বস্তুগুলোই রঙে আর নকশায় ভিন্ন রূপ নিতো শিল্পীর তুলির ছোঁয়ায়। কখনও তিনি আঁকতেন ঈগল পাখি আবার কখনও মাছ। ১৯৪০ সালের পরবর্তী সময়ে পিকাসো এই ছোট আঁকার কাজে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সেই সময়ে তিনি কাদামাটি দিয়েও কাজ করতে শুরু করেন। ছোট ছোট পাত্র তৈরি করে বহু মানুষকে উপহারও দিতেন। সেই গহনাগুলোও বহু নারীর কন্ঠলেগ্ন হয়েছে তখন। তিনি হাতির দাঁতের ওপরেও কাজ করেছেন। একবার হাতির দাঁত কেটে তাতে ছবি এঁকে হাতের ব্রেসলেট তৈরি করেছিলেন ডোরা মারের জন্য।

গহনার কাজে মেতে ওঠা পিকাসো ১৯৫০ সালের পর আগ্রহী হলেন মূল্যবান বস্তুর ওপর কাজ নিয়ে।তখন তিনি স্থানীয় এক দাঁতের ডাক্তারের সাহায্য নিতেন সেই বস্তুগুলোকে কেটে কোনো একটা আকৃতি দেয়ার কাজে। চলে যেতেন বাড়ির কাছে একটা কারখানায়। সেখানেই দিনভর চলতো তার গহনা তৈরির কাজ। সেই গহনাগুলোতে তিনি নিজের ছেলে ক্লড আর কন্যা পালোমার মুখের ছবিও এঁকেছিলেন।

পশ্চিমা নকশার ছকের বাইরে গিয়ে করা কাজগুলো এই শিল্পীর কাজে এক ভিন্ন মাত্রাও যোগ করে।

পিকাসো এই ছোট ছোট গহনাগুলো তৈরি করতেন কাছের মানুষদের উপহার দেয়ার জন্য।তাদের তিনি দিতেনও উপহার। সেই উপহারই এখন শিল্পকলার ইতিহাসে এক ভিন্ন অধ্যায় হয়ে গেছে। পিকাসোর হাতে তৈরি গহনা তো সোজা কোনো বিষয় নয়।গহনার নকশায়ও পাবলো পিকাসো ভিন্ন ফ্রেমের এক শিল্পী হয়ে থাকলেন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রওি ছবিঃ পিকাসো ইআই ব্লগ


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box