পুরুষের তুলনায় নারীর বেশি ঘুম প্রয়োজন

পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি ঘুমের খুব প্রয়োজন। ইংল্যান্ডের লবরো ইউনিভার্সিটির ‘স্লিপ রিসার্চ সেন্টার’র এক সমীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য।স্বাভাবিকভাবে পুরুষের শারীরিক গড়ন চেয়ে নারীর শারীরিক গড়ন আলাদা।চাহিদাও আলাদা।

একজন পুরুষ জানেন তিনি প্রতিদিন অফিসে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাবেন।এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাইরে তার অন্য কিছু ভাবতে হচ্ছে না।তার চিন্তা অনেকটা একমুখী। কিন্তু নারীকে সকালে ঘুম থেকে ওঠেই শত রকম সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি কী খাবেন, তার স্বামী-সন্তান কী খাবে!আর কর্মজীবি হলে তো কথাই নেই সেখানেও হাজার বায়ানাক্কা।তার অবর্তমানে বাসার অবস্থা কি হবে?রান্নাটা সেরে যাবেন নাকি বাড়ি ফিরে করবেন।বিকেলে বাচ্চারা কি খাবে?আর পাশাপাশি অফিসের চিন্তা তো মাথায় রাখতেই হচ্ছে।বিষয়গুলো আপাত দৃষ্টিতে ছোট হলেও প্রতিবারই তাকে মাথা খাটাতে হয়।তাই নারীকে Home maker ও বলা হয় কারণ পরিবার একটি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের সকল দায়িত্ব সামলাতে হয় তাকে।

আর নারী যদি হন ব্যবসায়ী তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব বাড়ে আরও।তাই বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পুরুষের তুলনায় নারীদের অন্তত ২০ হলেও মিনিট বেশি ঘুম প্রয়োজন। কারণ নারীর মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে বেশি কাজ করে তাই তার বিশ্রামের প্রয়োজনও বেশি।

২১০ জন মধ্য বয়সী নারী এবং পুরুষের মধ্যে গবেষণা করে এই স্টাডিটির লেখক এবং ঘুম বিশেষজ্ঞ গবেষক জিম হর্ণ বলেন, ঘুমের একটি জরুরি কাজ হলো মস্তিষ্ককে আবারও উজ্জীবিত করা। তিনি আরও বলেন, গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কর্টেক্স যা স্মৃতি, ভাষা এবং আরও অনেক কিছুর দায়িত্বে রয়েছে সেটি আপনাকে সব অনুভূতি থেকে বিরত রেখে রিকভারি মুডে চলে যায়।

প্রফেসর হর্ন বলেন, কার কতটা ঘুমের প্রয়োজন তা নির্ভর করে তার মস্তিষ্ক কতটা জটিল কাজ করছে তার ওপর। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার মস্তিষ্ক দিনে যত কাজ করবে ততো তার রিকভার করার প্রয়োজন হবে এবং তার জন্যই তাকে ঘুমাতে হবে।’

নারীদের একই সঙ্গে অনেকগুলো কাজ করতে হয়। তাই পুরুষের তুলনায় তাদের মস্তিষ্কের বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই তাদের ঘুমের চাহিদাও বেশি।ফলে গড়ে ২০ মিনিট বেশি ঘুম প্রয়োজন নারীর। তবে ক্ষেত্র বিশেষে আবার তা বেশি বা কমও হতে পারে। নির্ভর করে তার কাজের ধরনের ওপর।

আবার হর্ণ এ-ও বলেন যে, যেসব পুরুষ জটিল কাজ করেন এবং একই সময় একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, চিন্তা করেন। তাদের ক্ষেত্রে ঘুমের চাহিদাও বেশি হবে। তাই গড়ে কিছু পুরুষ আছেন যারা বেশি কাজ করেন তাদেরও অন্য পুরুষদের তুলনায় বেশি ঘুমের প্রযোজন হয়।

ছবি: গুগল