পৃথনা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

সা’দ জগলুল আববাস

 পৃথ, সুদর্শন পঁচিশ বছর ছুঁই খামখেয়ালী একটা ছেলে কিন্তু খেয়ালিপনার খোলসে সে জীবনটাকে দেখে অন্যচোখে-তার দর্শনই ভিন্ন ; কারো  জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে নিবে না নিজেকে। সেটার অবশ্য একটা কারণ ছিলো; কিন্তু সে স্বাতীকে উপেক্ষা করতে পারে না! প্রথম দিকে স্বাতীকে মনে মনে ভালো লাগলেও এড়িয়ে চলতো, কিন্তু যেহেতু একই ক্লাসে পড়ে, প্রায় রোজই দেখা হয়। কি করে যে স্বাতী একদিন  পৃথ’র বুকে বাসা বাঁধলো সে বুঝতেই পারেনি ; সেটা টের পেলো যখন স্বাতী একবার অসুস্থ হলো।

স্বাতী, আটপৌরে চেহারার একটি মেয়ে, পৃথ’র সমবয়সী ! দেখতে সাধারন হলেও দারুন বুদ্ধিমতী এবং স্মার্ট ! ক্লাসের প্রথম দিনই পৃথ ওর নজরে পড়েছিলো ।পৃথ যখন কথা বলতো তখন মুগ্ধ হয়ে ভাবতো,  কি দারুন করে কথা বলে ছেলেটা। ক্রমশ দুজনে কাছাকাছি এলো; বন্ধুদের আড্ডা এড়িয়ে নিজেরা তাদের একলা সময় বের করে নিতে লাগলো। যদিও পৃথর আচরনে মনে হতো  যে সে তার সঙ্গে সময় কাটাতে ইচ্ছুক না, কিন্তু স্বাতী জানতো,সেটা পৃথ’র মনের কথা নয়,মনের বিরুদ্ধে নিজেই চরম একটা দোটানায় সাঁতার কাটছে – কেন যেন ওকে ক্লান্ত লাগতো । স্বাতীর ভিতর একটা কষ্ট অনবরত ঢেউ তুলে গেলেও স্বাতী কখনো জানতে চায় নি। স্বাতী সত্যিই পৃথকে ভালোবাসতো; ওর কাছে মনে হতো এরকম করে ভালবাসতে হলে, যে কাউকে স্বাতীর মাঝে পুনর্জন্ম নিতে হবে! যদিও পৃথ প্রকাশ করে নি ওরকম করে, কিন্তু স্বাতী যেন দেখতে পেতো ঐ খামখেয়ালি ছেলেটির বুকের ভিতরটা, টের পেত তাকে পৃথ পছন্দ করে, ভালোবাসে,অথচ কি একটা অজানা কারণে সে স্বাতীকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে ! তাদের বন্ধুরাও একটু অবাক হতো যখন পৃথ  প্রায়শঃ  স্বাতীকে সবার সামনে হেয় করার চেষ্টা করতো! স্বাতী মাথা নিচু করে তখন নীরব অসহয়তায় বিড়ম্বিত মুখে হাসি ঝুলিয়ে রাখতো আর বাড়ি গিয়ে চোখের জলে বর্ষা নামাতো !

স্বাতী ও পৃথ, দু’জনেরই শহরে বেড়ে উঠা।দু’জনই স্বচ্ছল শিক্ষিত পরিবারের।

স্বাতীর বিয়ে হয়ে গেলো একদিন ওদেরই এক বন্ধুর সঙ্গে ; পৃথ স্পষ্টই বলেই দিয়েছিলো সে বিয়ে করবে না কক্ষনো। বিয়ের পর স্বাতী ঢাকাতেই ছিলো- পৃথ এবং স্বাতীর বন্ধুত্বটা নষ্ট হয়নি।ওরা মাঝে মাঝে পৃথ’র বাসায় যেতো; স্বাতী কখনো কখনো একলাই যেতো।

পৃথ কি ভাবে স্বাতীকে অবহেলা করতো সেটা নিচের কথোপকথনগুলো পড়লেই স্পষ্ট হবে।

সব শেষে স্বাতীকে লেখা পৃথ’র একটা  চিঠি উদ্ধৃত করলাম; চিঠিটা পড়লেই পাঠকের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে- কেন পৃথ স্বাতীকে এড়িয়ে চলতো- সাসপেন্সটা সে পর্যন্ত থাকুক না  !

কথোপকথন-১

-পৃথ
-হুম
-কি দেখছো?
-দোয়েল
-এই রেস্টুরেন্টে ? মানে কি?
-তুমি , স্বাতী ..
-আহ্, আবার শুরু করলে ?
-তোমার সাদা কালো শাড়ী, স্বাতী..কালো টিপ …দোয়েল ছাড়া কিচ্ছু নেই এখানে..আমার চোখে দোয়েল নাচে..!
-পৃথ!
-বলো
-বাজে না বকে থামবে একটু ..আমি তোমার নীরবতা ছুঁই একটিবারের জন্য ?

-শব্দবিহীন নীরবতা হয় না , স্বাতী !

কথোপকথন-২

– পৃথ, এখনো ঘুড়ি ওড়াও?
– হুম..আকাশটাতো বারোয়ারী …
– এটা সেই লাটাই না তোমার হাতে!
– শুধু এটাই তো তুমি ছেড়ে গিয়েছিলে,স্বাতী!
– হুম? ওটা তো তোমারই ছিলো ! এই যাহ্ , তুমি কাট্টা হয়ে গেলে…
– সেতো কবেই …
– ঘুড়ী কাটা পড়লে লাটাইয়ের কি কাজ বলো !
– একদম, যেদিন তুমি কাটা পড়লে….
– মানে কি ?
– আমার আকাশের সবটুকু নীল মুছে দিয়ে তুমি যেদিন অচেনা ছাদে গোত্তা খেলে …লাটাইটা গুটিয়ে বাঁচলাম ,    হাত দু’টো ধরে আসছিলো!
– আহ্ .. তোমার মনটা আজো পাথর ভরা ..কষ্টটাও চেনো না , পৃথ !
– কষ্ট তো দেবোত্তর সম্পত্তি !
– তুমি আমাকে ভুলেই গেছো..
– লাটাইটা শুধু রাখা আছে , স্বাতী; যখন ইচ্ছে খুশি উড়াই !

কথোপকথন-৩

– পৃথ, শোন…কেমন আছো তুমি ?
– পাতাগুলো দেখ স্বাতী, কি ঝাঁ চকচকে লাল ; আহ্‌…ইচ্ছে হয় রঙের রোদেতে ঝলসে যাই !!!
– আমার এই লাল পেড়ে ধূসর শাড়িটার কথা মনে আছে, পৃথ? প্রথম যেদিন ওটা পরে এসেছিলাম , তুমি “বাহ্‌” বলেই চোখ নামিয়ে নিলে! চলে আসার সময় একটা কথাও বলোনি…শুধু বললে “এসো”!
জানো, মনটা খুব খারাপ হয়েছিলো !
– বলেছিলাম স্বাতী , বলেছিলাম ; তুমি শুনতে পাওনি…তুমি দেখনি,
তোমার চলে যাওয়ার পথে শাড়ির পাড় চুইয়ে পড়া কষ্টে ঘাসের ডগাগুলোকে নীলচে হয়ে যেতে !
– তখন তোমার চোখে আমি ছিলাম কি পৃথ ? শাড়িটা তো নীল ছিল না !
– লালচে ধূসর আঁচলটা হাওয়া থেকে বাঁচিয়ে কাছে টেনে যতবারই ঝুঁকে শাড়ির পাড় থেকে চোরকাঁটা তুলে নিচ্ছিলে ,পেছনে শরতের আকাশটা শুধুই নীল ছিল, স্বাতী !
– তুমি ভীষণ বদলে গেছো,পৃথ !
– মনটাতে চোরকাঁটা ছেয়ে গেছে !

কথোপকথন- ৪

-পৃথ
– হু
-বৃষ্টি দেখা শেষ হ’লো?
– কি দারুন লাগছিলো ; কেন যে থেমে গেল !
– বেশ হয়েছে, এবার চোখ মুঁদোতো
-কেন স্বাতী ..আহ্, কেন যে বৃষ্টিটা চলে গেলো !
– চোখ বন্ধ করো না , প্লীজ পৃথ
– নাহ্ , চোখ বুঁজলেই তুমি এসে দাড়াও!
– হা হা হা..আমি তো তোমার সামনে
– এই তুমিটা না ; বর্ষাতে আধো ভেজা তুমি
– বাহ্‌, মনে আছে তোমার ? তুমি বেশ ছাতার নিচে দাড়িয়ে আমাকে ভেজালে !
– কেন যে বৃষ্টিটা একটু ঝরেই চলে গেলো ! সুন্দর কেন ক্ষণস্থাযী হয় বলতে পারো , স্বাতী ?

কথোপকথন-৫

– অ্যাই, দেখি দেখি
– কি?
– মুঠোয় কি ভরেছো?
– ও কিছুনা..
– উহু,মুঠো খোল ..খোল বলছি
– নাহ্ ..তুমি পারলে বলতো দেখি মুঠোয় কি আছে?
– উমমমম.. রাতের জোনাক
– জোনাক তোমার চোখের কোনে …ঐ যে
– কাঁচপোকা টিপ
– আয়না দেখো, টিপ সরেনি একবিন্দু
– অন্ধকারে আয়না কোথায় ?
– আমার চোখে
– আহ্ , বলোনা..কি রেখেছো মুঠোয়
– বলতে পারলে দিয়ে দেবো
– জোৎস্না কিছু?
– আহ্, সেতো তোমার চুলের খাঁজে..জানালা ঘেঁসে পড়ছে এসে।
– তাহ’লে ..শিশির ফোঁটা !
– হয়নি,নিশির শিশির তোমার নাকের ডগায় , নড়োনা যেন..টুপলি হবে !
– হাতখানি দাও…মুঠো খুলবো..
– নাহ্ ..নিতে হলে বলতে হবে , একটু ভাবো
– উফফফ..খোঁপার কাটা? খসে পড়া কানের দুল? টুকরো চুড়ি? নাকচাবিটা খসে গেছে..সেটাই হবে …খোল এবার ..দেখি ?
– কি আশ্চর্য ..ভেবেছিলাম পারবে তুমি ..এই যে দেখো ..
– কিছুইতো নেই ..খালি মুঠো
– হাতখানি নাও নাকের কাছে ..পাচ্ছো কিছু?
– এমা তুমি ডাকাত দেখি ..মুঠো ভরেছো আমার গায়ের গন্ধ নিয়ে !

কথোপকথন -৬

: হারিকেনটা বুঁজিয়ে দেবে , প্লীজ?
: কি বলছো পৃথ,এ অন্ধকারে?
: দাওনা নিভিয়ে, স্বাতী,তুমি এখানে বসে আর সারা ঘর জুড়ে তোমার ছায়ার দোলা…আমার মাথা ঘুরছে!
: পাগলামী করোনা, পৃথ; এতকাল পর আমি যে তোমায় দেখতে এসেছি ..আলো নেভালে তুমিও নিভে যাবে !
:ভুল, স্বাতী ..অন্ধকার কায়াকে আরো ষ্পস্ট করে দেয় ..বিশ্বাস না হলে নিভিয়ে দেখো !
:বেশ! ওহ্ .. কি নিকষ ছমছমে অন্ধকার….তোমায় দেখবো বলে… একি পৃথ…
: কি হলো , স্বাতী ? তুমি তো এখন আরো স্পষ্ট !
:তোমার দু’চোখ শ্বাপদের মতো জ্বলছে …লাইটারটা দাও!
: ভয় পেয়ো না, ওটা আমার ছায়া , স্বাতী ! অন্ধকারটা থাক! তুমি ফিরে যাও ..শুধু পুবের জানালাটা খুলে রেখে যেও, কোজাগরীর আলোয় শ্বাপদ-চোখ নীলচে হয়ে যাক !

 

কথোপকথন-৭

-একদম নড়বে না…উঁহু , চোখ দু’টোও না..
– কেন?
-তোমার কাঁধের ‘পর একটা প্রজাপতি বসলো এইমাত্র
– তাই নাকি? কি বলো..কোন পাশে,স্বাতী?
– যে কাঁধে আমি হাত রাখি, তোমার দৃষ্টির সাথে মিশে আমার চোখ ঘুরে বেড়ায় হাওয়ার সাথে!
– শুরু হ’লো আবার…আমি এ ভাবে মড়ার মতো আর থাকতে পারছি না ; ওটা কি আছে এখনো, স্বাতী ?
– কিসের কথা বলছো , পৃথ?
– ঐ যে, প্রজাপতি …কি রংয়ের বলতো?
– নীল মনার্ক; কিন্তু আসলে কাঁধে তো প্রজাপতি ছিলো না, পৃথ…ওটা তোমার চোখে ছিলো!
– তুমি পারোও স্বাতী ; আমার চোখে তো রোদ চশমা, সেখানে তুমি তোমারই ছায়া দেখেছো..তোমার শরীরে আজ যে নীলে জড়ানো ..তোমার চোখে ঘোর লেগেছে !

কথোপকথন-৮

-দেখেছো পৃথ, আজ আকাশে কি দারুন সাদা মেঘ জড়ো হয়ে আছে!
– হ্যাঁ ..সেটাই দেখছিলাম ভাবছিলাম ..আচ্ছা ঐ যে গিটারের মতো দেখতে ..যেটা দিয়ে তুলো ধুনে কি নাম ওটার জানো?
– ধুনাচি !
– যারা এটা বাজায় তাদের কি বলে ? ধুনাচিকর ?
– বাজায় মানে? হি হি হি ..তুমি যে কি বলো না.. জ্বী না মহাশয় ..ওদের বলে ধুনক !
-বাহ্! দারুনতো..ধুনক! ধনুকের কাছাকাছি।.অবশ্য ওটা দেখতে ধনুকের মতোও কিছুটা, ছিলাও আছে !
– হঠাৎ ধুনাচি,ধুনক ..এ সব মাথায় এলো কোত্থেকে ?
-ঐ মেঘগুলোকে ধুনে পুরো আকাশে ছড়িয়ে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে.।তারপর সেগুলো সাদা চেরীর মতো তোমার মাথায় আর শরীরে ঝরিয়ে দেবো ..আমি তোমার ক্রমশ: শুভ্র হয়ে যাওয়া দেখবো।তোমার ঠোঁটের কিউপিডস্ বো ছাড়িয়ে গড়িয়ে পড়বে চিবুক ঘেঁষে…সাদা শাড়ীতে ঢেকে যাবে তুমি… আকাশের নীল ছায়া শাড়ীর পাড়ে ; বেশ লাগবে দেখতে ..একদম মাদার টেরেসা …হা হা হা!
– পৃথ..আজো খেয়েছো? কেন খাও ঐ ছাইপাঁশ ?
– হা হা হা! .শরতের ঐ বাসি মেঘগুলো ধুনতে ক’টা হেমন্ত লাগবে,স্বাতী ?

কথোপকথন-৯

-এই যে পৃথ, তুমি আঁধারে ভূত হয়ে দাড়িয়ে; আমি তোমায় খুঁজে মরি!
-অশরীরিরাতো আঁধারেরই ছায়া !পূর্ণিমাটা বাধ সাধলো!
– তোমার সবটাতেই হেঁয়ালী..
– দেখো স্বাতী, চাঁদ আর মেঘের কানামাছি ..কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছোঁ
– হি হি হি..
– হাসছো যে ?
– আমি ছাড়া এখন এখানে ছোঁয়ার যে কেউ নেই , পৃথ!
– হুম!
– দাও তবে..ছুঁয়ে!
– কোজাগরিতে তুমি এখন সালভাদর ডালীর পেইন্টিং ..আলো গলে পড়ছে তোমার চোখে..ছুঁই কি করে, ছবিটা নষ্ট হবে !
– আহ্, পৃথ ..
– আমি ছুঁলে তুমি কষ্টটা ফিরিয়ে দেবে..ওটা তোমার চোখেই থাক !

কথোপকথন-১০

-কেমন আছো পৃথ?
-একদম ফাটাফাটি ..দারুন ..খোলা আকাশ!
-তুমি বর্বর হ’য়ে গেছো ..আমাকে দু:খ দিতে তোমার খুব ভাল্লাগে, তাই না ?
-হুমম, হয়তো!
-উফ্, এদিকে তাকাও ..এটা নাও !
-নাহ্।আমি চকোলেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি !
-কি বলো, পৃথ..চকোলেট না তোমার খুব প্রিয় ছিলো?
-হুমম…
-তো? দেখি হা করোতো !
-না , স্বাতী ..তুমি জানোই তো চকোলেট মুখে দিলে আমার আরেকটা জিনিষ খেতে ইচ্ছে হয় !
-হ্যাঁ, তো?
-তুমি যেদিন চলে গেলে, স্বাতী, তোমার সাথে চকোলেটকেও বিসর্জন দিয়েছি !
-আহ্, পৃথ.. কেন এতো কষ্ট দাও তুমি !
– সুখটা যে ধুপছায়া, তোমার চোখের মতো !

উপসংহার

স্বাতী,
আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি তোমার কোটর ছেড়ে প্রায় বেরিয়ে আসা চোখ দু’টো; উত্তেজনায় তোমার নাক এবং কিউপিডস্ বো এর নিচে শিশির কণার মতো ঘামের বিন্দু পশ্চিমের হেলে পড়া সূর্যের আলো পড়ে চিক চিক করছে , সাথে কয়লার ইঞ্জিনের মতো তোমার শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ !
আমি জানি তুমি এই চিঠিটা এখনো খোলো নি.. তোমার  দৃষ্টি দু’ভাঁজ করা মাখন সাদা চিঠির দিকে কিন্তু তুমি হারিয়ে গেছো কোন এক গেরুয়া জগতে ; যেখানে বসে তুমি কখনো ভাবতে পারোনি যে আমি তোমাকে লিখবো! কতোবার কতো ভাবে বলেছিলে” কি হয় দু’লাইন লিখতে?”
আচ্ছা স্বাতী, তুমিই বলতো, যেখানে তুমি ডাক টিকিটের মতো ( চুইংগামের মতো বলতে পারতাম, কিন্তু তুমি তো চুইংগামের নাম শুনলেই বিরক্ত হতে; বলতে কেন যে মানুষ গরু ছাগলের জাবর কাটার মতো এটা চিবোয়..অসহ্য “) আমার ছায়া হয়ে সেঁটে থাকতে, সেখানে চিঠি লেখাটা অতিরঞ্জিত ছিলো না? কি, ছিলো না? কি বললে, “ছিলো না”?
জানো আজ এতোদিন পরে আমারো মনে হ’লো , না , অতিরঞ্জিত কখনো ছিলো না! এটাই বোধহয় আমাদের দু’জনের আজ অব্দি কোন ব্যাপারে খোলাখুলি মতানৈক্য না হওয়া ! সব ব্যাপারে আমার না করা দেখে তুমি তো শেষে বিরক্ত হয়ে আমার নামই বদলে দিলে… “মি: পৃথনা” ;কোনদিন বলিনি , নামটা আমার দারুণ পছন্দের …তাই প্রায়ই তোমার মুখ থেকে “পৃথনা” শব্দটা শোনার জন্য নানা রকম ছল চাতুরি করতাম, তুমি কি কখনো এটা টের পেয়েছো ? আর হ্যাঁ চিঠির পাতায় গড়িয়ে পড়া চোখের জলটা মুছে ফেলোতো ; দেখো , লেখাগুলো আবার লেপটে দিয়ো না, তাতে তোমারই কষ্ট বাড়বে !
আরে,চোখের পানি নাকের পানি এককরে  চিঠিটা পড়বে কি করে, সবযে ধুয়ে যাবে! তুমি বারান্দায় যে চেয়ারটায় বসে আছো সেটার পাশের কফি টেবিলে একটা টিস্যুর বাক্স থাকার কথা, চোখ দু’টো মুছে ফেলো, প্লিজ !

আজ মনে হলো, তোমাকে আমি, মন থেকে না হ’লেও বাহির থেকে অনেক অবহেলা দেখিয়েছি আর নিজের ভিতরে বার বার ক্ষয়ে গেছি ! বার বার নানা ভাবে তোমাকে আঘাত করতে চেয়েছি, যাতে করে তুমি আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাও; কিন্তু আমার সঙ্গে বরাবরের মতোই নিয়তি গোল্লাছুট খেলে গেছে, তুমি চুইংগাম হয়ে আমার সঙ্গে আটকে রইলে !
চুইংগামের প্রসঙ্গটা এনে তোমাকে শেষবারের মতো বিরক্ত করার লোভটা সামলাতে পারলাম না !
ক্ষনিকার কাছ থেকে এতোদিনে নিশ্চয় জেনে গেছো আমি কোথায়! আমিই বলেছিলাম তোমাকে না জানাতে; আমি চাইনি তোমার সাজানো বাগানের বেড়া ভাঙ্গতে! ভেবেছিলাম জানাবোই না কিন্তু পরে মনে হলো তাতে তোমার উপর অনেক বড় অন্যায় করা হবে !
ডাক্তার আমাকে জীবন হ’তে মুক্তির জন্য চার দিনের সময় দিয়েছে , চিঠিটা লেখা দু’দিনের মাথায়!
আচ্ছা, স্বাতী …তুমি কি এখনো টের পাওনি যে চিঠির লেখাটা আমার হাতে লেখা না! আমি গত দু’মাস ধরে হাত পা নড়াতে পারিনা; লেখাটা ক্ষণিকার.. আমি বলে গেছি , ক্ষণিকা লিখেছে! প্রথমবার পুরোটা লিখতে পারেনি , চোখের সব জল দিয়ে চিঠিটাকে কাগজের মন্ড বানিয়েছিলো ! দু’বার বলতে আমারো কষ্ট হচ্ছিলো !
এ চিঠিটা দু’দিনের আগে কোন ভাবেই যাতে তোমার হাতে না পড়ে , সে ব্যবস্থা করে গেলাম! ততোক্ষণে আমার মুক্তি হয়ে যাবে!
চোখটা মুছে ফেলো,  প্লিজ …আমি কথা দিচ্ছি পরজন্মে তোমার পৃথ হবো, পৃথনা না !

অবাধ্য,
পৃথনা

পুনশ্চ : এটা একটা কল্পনাশ্রিত লেখা, কারো সঙ্গে মিলে গেলে সেটা নিতান্তই দৈবিক -লেখক

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]