পের্লি ক্যালেন্ডারেও #MeToo হাওয়া

পের্লি টায়ার কোম্পানীর ক্যালেন্ডার নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ১৯৬৪ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হওয়া এই ক্যালেন্ডারের পাতায় নারীর উত্তাপ ছড়ানো নান্দনিক ছবি বিশেষ দর্শক ও গ্রাহকদের কাছে আকর্ষণের বিষয় হয়ে আছে।

আলোচিত এই ক্যালেন্ডারের ২০১৯ সালের সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। এবার অবশ্য ছবিতে পরিবর্তন এনেছে ইতালীর চাকা প্রস্তুতকারক এই কোম্পানী। পৃথিবী জুড়ে যখন #MeToo আন্দোলনের ঝড় বয়ে যাচ্ছে তখন তাদের ক্যালেন্ডারে এবারের থীম হচ্ছে নারীর স্বপ্ন। স্বপ্নাতুর রমণীদের সাদা কালো এবং রঙীন ছবিগুলো তুলেছেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী অ্যালবার্ট ওয়াটসন। তার ক্যামেরার সামনে মডেল হিসেবে প্রায় উন্মোচিত হয়ে দাঁড়িয়েছেন জিজি হাদিদ, ব্যালে নাচের শিল্পী মিস্টি কোপল্যান্ড, ডিজাইনার আলেকজান্ডার ওয়াং, সুপার মডেল লেটিটা কাস্টা এবং অভিনেত্রী জুলিয়া গার্নার।

ওয়াটসন এবার ভিন্ন স্বাদের বিষয়ভাবনা নিয়ে তোলা ছবিতে ছোট ছোট গল্প বলার চেষ্টা করেছেন। তার ভাষায়, ‘ছবিতে নগ্নতা নির্ভর না হয়ে আমি নারীর অন্দরমহলকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছি। আমার ধারণা এই নারী উত্থানের যুগে এই ছবি ইতিবাচক ভাবনা তৈরী করবে।’

গত বছর এই ক্যালেন্ডার স্পাইরাল বাঁধাই হয়ে গ্রাহকদের দরজায় পৌঁছালেও এবার একটি সুদৃশ্য কালো বাক্সে ভরে ক্যালেন্ডার পাঠানো হবে। বাক্সের ডিজাইনও করেছেন শিল্প নির্দেশক ফাবিয়ান ব্যারন।

পেরলি ক্যালেন্ডার কিন্তু কোন বছরই একেবারে সর্বসাধারণের জন্য নয়। কোম্পানী বেছে বেছে তাদের নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহক, সমাজের অভিজাত শ্রেণী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে এই বিশেষ ক্যালেন্ডারটি পাঠায়। যদিও শুরুতে কোম্পানীর শ্রমিকদের বাড়তি শিহরণ দিতেই এই ক্যালেন্ডার বের করার উদ্যোগ নেয় পের্লি। প্রতি বছরই আকর্ষক এবং বিষ্ফোরক নারীদের খুল্লমখুল্লা সাদা-কালো এবং রঙীন ছবি প্রকাশিত হয় এখানে। ১৯৮৭ সালে পুরো ক্যালেন্ডারটি সাজানো হয় কৃষ্ণাজ্ঞ নারী মডেলদের দিয়ে। সেই সেশনে নওমি ক্যাম্পবেলও অংশ নিয়েছিলেন। সেটাই ছিলো তার ক্যারিয়ারের সূচনালগ্ন। খ্যাতিমান সব মডেলরা ক্যালেন্ডারের ফটোশ্যুটে নানান সময়ে অংশ নিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সিন্ডি ক্রফোর্ডও।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ সিএনএন, ইউএস টুডে

ছবিঃ গুগল