পেশা যখন ভ্রমন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

শওকত আহসান ফারুক

দুই.
তিনটা দশে আমিন কোর্টে গেলাম, এটা আমার তৃতীয় দফা ইন্টারভিউ। সেলস্ ম্যানেজার রফিক সাহেব, হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে বললেন, অক্টোবর মাসের প্রথম থেকে ট্রেনিং আশা করি আপনি ট্রেনিংয়ে ভালো করবেন। ট্রেনিংএ বসে দেখি সহপাঠী কুদ্দুস, ফার্মেসির জুয়েল, ইংরেজির শহীদ রহিম, তাছাড়া আরও কয়েকজন ছিলো। গাফফার, ফরিদপুরের সিরাজ ভাই। সকাল ৯টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত ক্লাশ। মেডিক্যাল সাইন্স, ফার্মাকোলজি, অ্যানাটমি  ফিজিওলজি ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদের ট্রেনার আনোয়ার স্যার, অত্যন্ত দক্ষ ট্রেনার। প্রতি সপ্তাহে পরীক্ষা, প্রতিদিনই পরীক্ষা, এভাবেই চলছে। মোটামুটি ভালই করলাম মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিলাম। তারপর ছিলো ডিটেলিং  প্র্যাকটিস। সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিলো আমাদের প্রতিদিন অ্যালাউন্স, ১০০ টাকা। ট্রেনিং শেষে ৩০০০ টাকা পেলাম। ‘৮০ সালে এত টাকা কখনো পাইনি। আনন্দ আর কে দেখে, জীবনের প্রথম উপার্জন। ১৯৮০ সালের ডিসেম্বরে জয়েন করলাম ঢাকায় পোস্টিং আমার ইমিডিয়েট বস্ মহিউদ্দিন আহমেদ।

বহুজাতিক কোম্পানি শতভাগ কর্পোরেট কালচার। আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে নিষ্ঠা, নৈতিকতা, শিষ্ঠাচার নিয়ে সবাই কাজ করেছি। এখন সেই সব পাল্টে গেছে। অনৈতিক কাজকর্ম জুড়ে আছে বিপণন পেশায়, উৎকোচ বানিজ্য পেশার মান সম্মান ডুবিয়ে দিয়েছে। সুস্থ বিপণন প্রক্রিয়া ব্যাহত।
পরে একসময় রফিক স্যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, স্যার আপনি তিনদিন তিন সময় আমাকে আসতে বল্লেন, আমিও এলাম, চা সিগ্রেট আর গল্প হলো, সিলেক্টও হলাম, মানেটা বুঝিনি এখনো।
-শওকত সাহেব এটা কর্পোরেট অর্গানাইজেশন, আপনি যে এসেছেন তিনদিন তিন সময়ে কাঁচ-ঘেরা প্রতিটি কক্ষ থেকে আপনার গতিবিধির উপর নজর ছিলো, আপনার চালচলন, টাইমিং, কথাবার্তার উপর মার্কিং  হয়েছে। রিপ্রেজেনটেটিভ কোম্পানি একমাত্র মুখপাত্র, ফিল্ডে আপনি স্কুইব। আমিন কোর্ট, টঙ্গীর ফ্যাক্টরি কিংবা আমেরিকা প্রিন্সটনে হেড অফিস কেউ দেখবে না। আপনাকে দেখবে, আপনাকে দিয়েই কোম্পানির পরিচয়।
কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মিস্টার আর. বাওয়ার। ইংল্যান্ড এর মানুষ, শুনেছি তিঁনিও মেডিকেল রিপ্রেজেন্ন্টেটিভ হিসাবে কোম্পানিতে জয়েন করেছিলেন। অফিসে সবাই খুব ফ্রেন্ডলি ,আন্তরিকতা বহমান।

শ্রীনগর

ট্যুর প্ল্যানে শ্রীনগর রেখেছি, মহিউদ্দিন ভাই বল্লেন, তোমার সঙ্গে শ্রীনগর যাবো। ঢাকার দক্ষিণে পদ্মা পাড়ে শ্রীনগর, ভাগ্যকুল, নবাবগঞ্জ একমাত্র যোগাযোগ নৌপথ। এখনকার মত এত পথঘাট ছিলো না। চার ঘন্টা লাগে শ্রীনগর যেতে। শীতকাল সকাল ৭ টায় লঞ্চ। সদরঘাট থেকে উঠতে হয়। মহিউদ্দিন ভাই বল্লেন পারবে তো, এত সকালে লঞ্চ ধরতে?… আমি শাহবাগ থাকি, বস্ এলিফ্যান্ট রোডে থাকেন। টেনশন নিয়েন না। আমরা ৮ টায় সেই ট্রিপ ধরবো, একঘন্টা পরে।

-শওকত, কিভাবে সম্ভব!
-বস্, আপনি ৭ টায় বেরিয়ে একটা স্কুটার নিবেন। তবে সদরঘাট এর বদলে ফতুল্লাঘাট ঠিক করবেন, সেখানে ৭ টা’র লঞ্চ ৮ টায় পৌঁছে, আমার সেখান থেকে উঠবো। আমি রেখায়নের সামনে ৭ টায় থাকবো তুলে নেবেন।
-শওকত বেশ কয়েক বার শ্রীনগর গিয়েছি, একঘন্টা বাঁচনোর ফর্মুলা কেউ দেয়নি।
-বস্ চলেন দিন বাঁচনোর ফর্মুলাও আছে।
-সেটা আবার কি?
-পথে ষোলঘর পরবে, আমরা সেখানে নেমে পরবো। দুই ঘন্টায় কাজ শেষ করে পরের লঞ্চ ধরব, যেটা ঢাকা থেকে ৯ টায় ছেড়ে আসে।
-তোমার বুদ্ধির প্রশংসা করতেই হয়, দারুণ প্ল্যানিং!
১০.৩০ মিনিটে ষোলঘর নেমে গেলাম। নদীতটে ছোট্ট একটি বাজার। ৪/৫ জন কোয়াক বা হাতুড়ে ডাক্তার আর কয়েকটি ওষুধের দোকান। একঘন্টায় সবার সঙ্গে দেখা হলো, কথা হলো।
ঘাটের পাশে বাজারে কয়েকটি মিষ্টির দোকান, একটা দোকানে গরম মচমচে পরোটা ও রসগোল্লার অর্ডার দিই। যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত না হওয়ার দুধ, ডিম, মাছ, তরিতরকারি সেখানে সহজলভ্য। মিষ্টির স্বাদও দারুণ ছিলো, খাটি দুধের তৈরি। কয়েকটা রসগোল্লা ও লেডিকেনি খেয়ে পরবর্তী লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছি। চলবে…

ছবি:গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]