প্যারিসের সেই বইয়ের দোকানটি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত লেখকরা ভিড় জমাতেন প্যারিস শহরের ছোট্ট বইয়ের দোকানটিতে। অনেকের বইও প্রকাশিত হয়েছে এখান থেকে। সেই বইয়ের দোকান, লাইব্রেরী আর প্রকাশনা সংস্থাটির নাম ‘শেক্সপীয়ার অ্যান্ড কোং’। এ বছর দোকানের বয়স হলো এক‘শ বছর।

সিলভিয়া বিচ ও জেমস জয়েস

প্যারিস শহরে প্রথম ইংরেজি ভাষার বই বিক্রি এবং গ্রন্থাগার ছিলো এই শেক্সপীয়ার অ্যান্ড কোং। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ছিলেন সিলভিয়া বিচ নামে এক মহিলা।

সিলভিয়া খুব ছোট আকারেই বই বিক্রির কাজ শুরু করেছিলেন। তার প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হতো বিভিন্ন ধরণের লিটল ম্যাগাজিনও। সেখানে আসতেন জেমস জয়েস, টিএস এলিয়ট, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, সিমন দ্য বোভায়ার প্রমুখ।

হেমিংওয়ের কাছে যখন বেই কেনার টাকা ছিলো না তখন লেখককে বই বাকীতে দিতেন সিলভিয়া। প্রখ্যাত ইংরেজ কবি, প্রাবন্ধিক টি.এস এলিয়ট তখনও বিখ্যাত হয়ে ওঠেননি। সিলভিয়া তার পাণ্ডুলিপি তুলে দিয়েছিলেন দোকানে বই দেখতে আসা আরেক বিখ্যাত মার্কিন কবি এজরা পাউন্ডের হাতে।এলিয়টের বই প্রকাশিত হবার পর নিজের দোকানের জানালায় বিশেষ যত্নে তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি।

সিলভিয়া হেমিংওয়ে সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন যে, তার মতো সুহৃদ কম হয়। হেমিংওয়ে প্যারিসে থাকার বছরগুলোতে নিয়মিত তার দোকানে আসতেন এবং দুই বাক্স বই নিয়ে বসতেন পড়তে। সেখানে বসে তিনি অন্যান্য লেখকদের সঙ্গে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করতেন।

দোকানের সামনে হেমিংওয়ে

জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’ উপন্যাস নিয়ে যখন ইউরোপে আলোড়ন উঠেছিলো এবং আমেরিকায় এই বইয়ের প্রকাশনা নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিলো তখন সিলভিয়া এগিয়ে এসেছিলেন জেমস জয়েসকে সাহায্য করতে। তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তিনিই ইউলিসিস আবার প্রকাশ করবেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্স দখল করে জার্মানরা। সাহিত্যিকদের আড্ডাস্থল হওয়ায় তারা দোকানটি তাদের নজরে পড়ে। হুমকি দেয়া হয় দোকান বন্ধ করার। সিলভিয়া তখন এক রাতের মধ্যে তার সমস্ত বই লুকিয়ে ফেলেন নিজের বাড়ির মাটির তলার ঘরে। নিজেও তিনি পালিয়ে যান ফ্রান্স ছেড়ে। আলো নিভে যায় শেক্সপীয়ার অ্যান্ড কোং-এর। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আবার তিনি নিজের কাজে ফিরে আসেন।

এই গ্রন্থাগারে কাজ করতে আসতেন অনেক লেখক।প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হেনরি মিলার এখানে বসে বহুদিন আড্ডা দিয়েছেন। উইলিয়াম বারোজ তার ১নেকেড লাঞ্চ’ উপন্যাসটির গবেষণার কাজ করেছিলেন সিলভিয়ার লাইব্রেরীর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভাগে বসে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ বিবিসি কালচার

ছবিঃ বিবিসি কালচারও গুগল   

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]