প্রতিটি মাতৃভাষাই ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চালিকাশক্তি: কানাডার গভর্নর জেনারেল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
dulal

গভর্নর জেনারেল ডেভিড জনস্টোন

শেষ হয়ে গেলো ফেব্রুয়ারি মাস। দেশে বিদেশে রেখে গেলো তার রেশ। তবে কানাডা তার একটু ব্যতিক্রম। কারন, শহীদ মিনারের রূপকার হামিদুর রহমান বহুদেশ ঘুরে অবশেষে কানাডার মন্ট্রিয়লেই স্থায়ী আবাস গেড়েছিলেন এবং ১৯৮৮ সালের ১৯ নভেম্বর এখানেই মৃত্যুবরণ করেন। এবং এই কানাডা থেকেই শুরু হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সূচনা হয়। সূচনা করেছিলেন প্রতিষ্ঠিত ‘মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড সোসাইটির জনক ভ্যাঙ্কুভারের রফিকুল ইসলাম। তিনি মারা গেলেন ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর। অপরদিকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ২০০৯ সালে উদ্বোধন হয় বিশ্বের প্রথম মাতৃভাষা মনুমেন্ট – লিঙ্গুয়া আকুয়া বা জলের ভাষা। কানাডার রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে উচ্চ প্রযুক্তির এই ভাষাস্তম্ভ একুশের মহান ভাষা আন্দোলনের পাশাপাশি পৃথিবীর অন্যান্য সকল ভাষা সংস্কৃতির বিলুপ্তি রোধে দৃশ্যমান চেতনা হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে বিদগ্ধ মহলে। যার উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলাম মাওলা।

dulal 3

                    রফিকুল ইসলাম

তিনি এখন মাল্টি কালচারাল কানাডায় বিসিতে আটটি শিক্ষা বোর্ডের প্রায় সাড়ে ছয় লাখ শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্যোগ নিচ্ছেন প্রতিটি প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুল্ গুলোতে নিজ নিজ মার্তৃভাষায় বিষয়ে সচেতন করা।আবারী বছর থেকে সাস্কাচুয়ান শহরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্য পৌর সভা ভবনে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানোর মর্যাদা পেয়েছে। এছাড়াও টরন্টো-মন্ট্রিয়লে চলছে একাধিক স্থায়ী শহীদ মিনারের।এদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তথা একুশে উপলক্ষে কানাডায় রানি এলিজাবেথের প্রতিনিধি গভর্নর জেনারেল ডেভিড জনস্টন একটি বাণী প্রদান করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, ‘কোয়ালিটি এডুকেশন, ল্যাঙ্গুয়েজেস অব ইনস্ট্রাকশন অ্যান্ড লার্নিং আউটকামস’ অর্থাৎ ‘গুণগতশিক্ষা, ভাষা শিক্ষার উপরই নির্ভরশীল’এ মূলভাব সংবলিত দিবসটি উদযাপনকারীদের জন্য আমার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বলেছেন, ভাষার বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনযাত্রা কানাডার অমূল্য সম্পদ। প্রতিদিনই কানাডায় দুই শতাধিক ভাষায় মানুষ কথা বলে থাকে। বহিঃপ্রকাশের সেই মাধ্যম যেটাই হোক না কেন বলা, লেখা, ব্রেলি অথবা সাংকেতিক ভাষা- সবই সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে উন্নততর ও অধিক সহানুভূতিশীল বিশ্ব রচনার পরিচায়ক। ওই বাণীতে তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি- প্রতিটি মাতৃভাষাই একটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চালিকাশক্তি, যা বিশ্বের উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ জরুরি। তাই আমি উৎসাহিতকরি- প্রত্যেকে যেন তাদের ভাষাটি সংরক্ষণ করেন।গভর্নর জেনারেল জনস্টন গত বছর অপর এক শুভেচ্ছা বাণীতে বলেছেন, কানাডা এর সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি হলো তার সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য. যেখানে আমরা আমাদের বহুবিচিত্র সংস্কৃতির জন্য একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত। যেখানে একটি সত্যিকারের বহুবিচিত্র সংস্কৃতির সমাজ, একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত. অন্যদের জন্য সম্মান প্রদর্শন এর প্রধানতম।আমি যখন দেশ জুড়ে নানা সম্প্রদায়ের ভিন্ন ভিন্ন নাগরিক এর সঙ্গে দেখা করি যাদের উদ্ভব, তারা নানা ভাষায় কথা বলেন, সে হিসাবে আমি ভীষণ গর্ব বোধ করি।

 

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]