প্রশ্নবিদ্ধ আম্পায়ারিং

আহসান শামীম

ক্রিকেটে আম্পায়ার বির্তক নতুন কোন বিষয় নয়। বিতর্কিত আম্পায়ারদের তালিকায় শীর্ষস্থানে অজি আম্পায়ার ড্যারেল হেয়ার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক টেস্টে শ্রীলংকার কিংবদন্তী স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনের করা টানা তিন ওভারের মধ্যে সাতটাই নো বল দিয়েছিলেন তিনি।এই বির্তকের সর্বশেষ নাম বাংলাদেশের আইসিসি আম্পায়ার প্যানেলের প্রথম ম্যাচ পরিচালনাকারী তানভীর।

অজি আম্পায়ার ড্যারেল হেয়ার, ২০০৬ সালে ওভালে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের একটা টেস্টে ও পাকিস্তান দলের উপরে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ আনেন। পেনাল্টিস্বরূপ ইংল্যান্ডকে বাড়তি পাঁচ রান দেন সেই সাথে পাকিস্তানের পাঁচ রান কমিয়ে দেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ইনজামুলের নেতৃত্বে চা বিরতির পর পাকিস্তান আর মাঠে না ফেরায় ইংল্যান্ডকে টেষ্ট জয়ী ঘোষনা করা হয়।

বাংলাদেশের মাঠেও আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয় ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। টেষ্ট ওয়ান ডে হারের পর টি-টুয়েন্টির সিরিজ জয়ের ম্যাচে বাংলাদেশের আইসিসির প্যানেল ভুক্ত আম্পায়ার প্রথম ম্যাচ পরিচালনায় “নো” বল ঘোষনাগুলো ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে একের পর এক ঘটতে থাকে।ছন্দে থেকে রান চেজ করতে আসা বাংলাদেশ দল তখন ব্যাটিংএ।আম্পায়ার তানভীরের একটা নো বল আউট হলেন লিটন দাস।ওয়েষ্ট উইন্ডিজ অধিনায়ক তখনই প্রতিবাদ করে রিভিউ দাবী করেন।আইসিসি আইনে এক্ষেত্রে রিভিউ’র সিস্টেম না থাকায় ম্যাচ আট মিনিট বন্ধ হয়ে যায়। এসময় থার্ড আম্পায়রকে মাঠে নেমে আসতে হয়।মীমাংসার কোন আইনী সুযোগ না থাকার কারনে সেই ভুল সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই খেলতে হয় ওয়েষ্ট উইন্ডিজকে, আর সেই ম্যাচ জয় করে সিরিজটাও জয় করে নেয় ওয়েষ্ট উইন্ডিজ।

২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে ভারতের মধ্যকার সিডনি টেস্টে ক্যারিবিয়ান আম্পায়ার স্টিভ বাকনর অজি ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে মোট তিন দফায় আউট দেননি। তিনবার জীবন পাওয়ায় সেই ম্যাচে সাইমন্ডস ম্যাচ বাঁচানো শতকও হাঁকান।বাকনর একই ম্যাচে রাহুল দ্রাবিড়কে শুধু কটাক্ষই করেছিলেন না, তাঁর ম্যাচ ফি’ ৫০ ভাগ জরিমানা করা হয়েছিল আর রাহুলকে পরের টেস্টে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।একই ম্যাচের আরেক আম্পায়ার মার্ক বেনসনও জড়িয়েছিলেন আম্পায়ারিং বিতর্কে।সেই ম্যাচে ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে সৌরভ গাঙ্গুলিকে আউটের সিদ্ধান্ত দেন তিনি।ভিডিও ফুটেজে পরে ধরা পরে সৌরভ আউট ছিলেন না।

বিতর্কে নাম আছে পাকিস্তানী আম্পায়ার শাকুর রানারও।১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের একটা টেস্টে ইংলিশ অধিনায়ক মাইক গেটিংয়ের সাথে অহেতুক তর্কে জড়ান রানা, যা স্পষ্ট শোনা যায় উইকেটের মাইক্রোফোনে।১৯৮৪ সালে কিউই অধিনায়ক জেরেমি কনিকেও মাঠ ছেড়ে যাওয়ার হুংকার দিয়েছিলেন শাকুর রানা। বিভিন্ন ম্যাচে পাকিস্তানের পক্ষেই সিদ্ধান্ত দিতেন তিনি।

চলমান বছরের মার্চে নিদাহাস ট্রফিতে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ ওভারে ,আম্পায়ার দ্বিতীয় বাউন্সারকে নো বল কল না করায় অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ক্ষেপে মাহমুদউল্লাহদের মাঠ ছেড়ে চলে আসতে বলেন।অবশ্য ঘটনাবহুল সেই ম্যাচে মাঠ না ছেড়ে মাহমুদুল্লাহ ৩ বলে ১২ রান করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

এশিয়া কাপ ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও বাংলাদেশর লিটন দাসের আউট বির্তকের জন্ম দেয়।

পার্থ টেষ্টে অস্টেলিয়ার বিপক্ষে ইশান্ত শর্মার ৬ টা নো বল দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে আম্পায়ারদের।অজিরা বিশ্বাস করেন এর ফলে পার্থ টেষ্টে ভারতের বিপক্ষে তাঁদের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।আম্পায়ারদের এমন ভুলের কড়া সমালোচনা করেছে রিকি পন্টিং।তাঁর বিশ্বাস আম্পায়ারদের কারনেই পার্থ টেষ্টে জয়ে দেখা মেলেনি অজিদের।

সর্বশেষ উইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক আম্পায়ার তানভীর আহমেদ নিজেই অকপটে স্বীকার করে নিলেন নিজের ভুল।এই জন্য অনুতপ্ত আম্পায়ার তানভীর।

দেশে বিদেশে ভিন্ন ধারাভাষ্যকারা নিজের মধ্যে আম্পায়ারদের এমন ভুলের বিতর্কে মেতেছেন।প্রতিকারসহ আম্পায়ারদের বিরূদ্ধে এমন ভুলের জন্য জরিমানার কথাও জোড়াল ভাবে উঠছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবিষয় আইন রিভিউ সিস্টেম সহ পরিবর্তনের আইন তৈরী করতে আইসিসি এবার তৎপর হবে বলেই জানিয়েছেন আইসিসি মুখপাত্র।

ছবিঃ গুগল