প্রস্রাবের রং বলে দেবে শরীরে কোনও জটিল রোগ আছে কী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জানেন কি আমাদের শরীর কতটা সুস্থ, ঠিক কী সমস্যা হচ্ছে তা আমাদের জানান দেয় প্রস্বাবের রং? রোজ সকালে কী রঙের প্রস্রাবের হয় তা খেয়াল করে দেখুন। রঙের বদল দেখেলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। শরীরে জটিল রোগ বাসা বাঁধলে তা সহজেই নির্মূল করা যায় যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হয়। অথচ আমাদের গাফিলতির কারণে অসুখের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। মূত্রের রং ও প্রকৃতি খেয়াল রাখলে কিডনির নানা সমস্যা, ডায়াবেটিস রোগের শুরুতেই সতর্ক থাকা যায়।

অনেকে সময় প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়ে, একে বলা হয় হিমাচুরিয়া। হিমাচুরিয়ায় প্রস্রাবের রং কখনও হালকা লাল কখনও বা গাঢ় লাল হতে পারে। অনেক সময় শরীরে লুকনো রোগ থাকার কারণেও প্রস্রাবে রক্ত আসে। রক্ত বেরিয়ে না এলে সেই রোগটা ধরাই পড়ে না।আর পরে তা চূড়ান্ত আকার নেয়। আগাম জানতে পারলে সতর্ক হওয়া যায়। এইসব সমস্যা এড়িয়ে গেলে চলবে না। বড় ও জটিল রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও এমনভাবে রক্ত পড়তে পারে। তাই এ বিষয়ে সতর্কত অবলম্বন করাই ভালো।

তাই প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বেরুলে মোটেও দেরী করবেন না। শরীরে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে গেলেও এমন রক্তপাত হয়। কাজেই সাবধান থাকুন প্রথম থেকেই।

তা ছাড়া, আরও তিনটি কারণে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বার হতে পারে, সেগুলি হল মূত্রনালীর কোনও সংক্রমণ, কিডনিতে পাথর ও ক্যানসার।

পুরুষদের চেয়ে মহিলাদেরই ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন  বেশি হয়। বি-কোলাই জীবাণুর আক্রমণে এই সংক্রমণ হয়।  যারা সদ্য বিবাহিত জীবন শুরু করেছেন। আর যাদের মেনোপজ হয়ে গেছে।এ ধরণের রোগ তাদেরই বেশী হয়।

কিছুক্ষন পর পর প্রস্রাব পাওয়াকে বা অনেকেরই রাতে ঘুম ভেঙে যায় প্রস্রাবের কারণে।এমন হলে অনেকেই ডায়াবিটিসের লক্ষণ বলে ধরে নেন।তবে কথা হলো কেবল ডায়াবিটিসই নয়, কিডনির যে কোনও সমস্যার প্রাথমিক উপসর্গ এমন হতে পারে। তাই এমনটা হলেই তাকে শুধুই ডায়াবিটিসের লক্ষণ ভেবে বসবেন না। বরং প্রথমেই যে কোনও কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন।

প্রস্রাবের রঙের উপর নির্ভর করে অনেক রোগের উপসর্গ, জেনে নিন প্রস্রাবের রং দেখে কী ভাবে সতর্ক হবেন।  স্বচ্ছ প্রস্রাব মানে আপনি অনেকটাই সুস্থ। বরং যারা বেশি পানি  খান ও হাইড্রেটেড তাঁদের এই রকম প্রস্রাব হয়। এটা শরীরের জন্য মোটেই ক্ষতিকারক নয়।

স্বচ্ছ হলদেটে প্রস্রাব মানে আপনার শরীর ঠিকঠাক কাজ করছে। আপনি পরিমাণ মতো পানিও খাচ্ছেন। গাঢ় হলদেটে প্রস্রাব অনেকেরই হয়, বিশেষত সকালে ঘুম থেকে উঠলে বা দীর্ঘ সময় জল না খেয়ে জার্নি করলে এই রঙের প্রস্রাব হতে দেখা যায়। তবে, গাঢ় হলদেটে প্রস্রাব মানে শরীর ঠিকঠাক কাজ করলেও সামান্য ডিহাইড্রেটেড। পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়ালেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

কমলা রঙের প্রস্রাব মানে সামান্য সতর্কতা দরকার। ডিহাইড্রেশনের কারণে কমলা প্রস্রাব হলে বিশেষ চিন্তার কিছু নেই। আবার কিছু কিছু ওষুধের কারণেও প্রস্রাবের রঙ কমলা হতে পারে। তবে লিভার বা বাইলের সমস্যা হলে এমনটা হয়। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নীল বা সবুজ রঙের প্রস্রাব চমকে ওঠার মতো বিষয়ই বটে। চিকিৎসকরা বলেন, খাবারের ডাই-য়ের রঙের কারণে নীল বা সবুজ প্রস্রাব হতে পারে। হাইপারক্যালসেমিয়া নামক বিরল অসুখে ভুগলেও প্রস্রাবের রং এমন হতে পারে। অনেক সময় ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন হলেও প্রস্রাবের রং এ ভাবে বদলে যায়।

ঘোলাটে রঙের প্রস্রাবের কারণেও চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন অনেকে। কিডনির সমস্যা বা মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণে প্রস্রাবের রং ঘোলাটে হয়ে যেতে পারে। খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি হলে এমনটা হতে পারে। কিন্তু প্রতি দিন ঘোলাটে প্রস্রাব হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যান।

বাদামি বা সিরাপ রঙের প্রস্রাব মানে, শরীরে ডিহাইড্রেশন চরম পর্যায় পৌঁছেছে, লিভারও কাজ করছে না ঠিকমতো। যদি আপনার বাদামি প্রস্রাব হয় তাহলে প্রথমেই পানি খাওয়া বাড়ান। যদি তাতেও রং হালকা না হয় তাহলে লিভারের সমস্যা হচ্ছে আপনার।

লাল বা গোলাপি রঙের প্রস্রাব হলে ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রস্রাবে রক্ত চলে এলে, কোনও বিশেষ খাবার বা বিশেষ ওষুধ বা টক্সিনের কারণেও এটা হতে পারে। আবার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন, টিউমার বা প্রোস্টেটের সমস্যা, কিডনি বা ব্লাডার স্টোন হলেও এই রঙের প্রস্রাব হতে পারে।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]