প্রাণের বাংলাকে দেয়া আইয়ুব বাচ্চুর শেষ সাক্ষাৎকার

একজন আপাদমস্তক শিল্পী তিনি।দর্শক এবং শ্রোতাদের কাছেও তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে।গানের সঙ্গে বসবাস তার ছেলেবেলা থেকেই,এখনো গানের সঙ্গেই সখ্য। আর তাই বলতে পারেন গানই আমার প্রাণ।নিভৃতচারী এই মানুষটি আমাদের রকস্টার আইয়ুব বাচ্চু। প্রতিদিন সকালেই ঘুম থেকে ওঠেন তিনি। তারপর রুটিন মাফিক কাজ শেষ করেই তার সকাল থেকে সন্ধ্যা কাটে নিজের তৈরী গানের রান্না ঘর ‘এ বি কিচেন’ এ। সারাদিন নতুন নতুন গান বাধাঁর উদ্যোগ তাকে তাড়িত করে।এখন সিডির বাজার তেমন ভালো না।মার্কেটিংয়ের বিষয়েও অনেক ঝামেলা আছে। কিন্তু গানে মানুষ আইযুব বাচ্চু বলেন,‘বাজার যা-ই হোক। আমি তো বসে থাকতে পারবো না।আমি প্রতিদিন নতুন গান বাঁধি আগামী দিনের জন্য। আমি হতাশ নই। আমি খুব পজেটিভ একজন মানুষ। তাছাড়া মানুষ তো গান শুনছে এবং শুনবেও আমার বিশ্বাস।’ ইদানিং অনেক শিল্পীকেই দেখছি ব্যবসাকে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন বা চাকরী করছেন।আপনার মাথায় কি কখনো এমন চিন্তা আসে? সঙ্গে সঙ্গে উত্তর,‘দেখো আমি একজন শিল্পী এটাই আমার পরিচয়।গান ছাড়া আমি অন্য কিছু জানি না।গানই সারাক্ষন আমার সঙ্গে থাকে।সুতরাং অন্য কিছুই আমার মাথায় নাই।’ গানের মধ্যে থেকে থেকে কখনো কি বাউল হয়ে কোনদিকে চলে যেতে ইচ্ছে হয়? ‘নাহ্। সেরকম ইচ্ছে কখনো হয় না।আমার পরিবার আছে। আর পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাটাও একটা আনন্দের ব্যাপার।গানের বাইরে আমি আমার পরিবারের সঙ্গেই থাকতে পছন্দ করি’ আপনার সন্তানরা কি কেউ গানের মানুষ হবেন? ‘আমার ছেলে খুব ভালো গিটার বাজায় তবে প্রফেশনালি নয়। মেয়ে গান-বাজনার সঙ্গে নেই। আসলে ওরা কি হবে ওটা ওরাই ভাববে, আমি কাউকে কোন কিছুতে জোর করতে পছন্দ করি না’।‘সেইতুমি’ গানটা ‍কি কখনও আপনাকে নষ্টালজিক করে?আমি গানটা প্রতিবার গাইতে গিয়ে নষ্টালজিক হয়ে পড়ি। কখনো কি পুরনো দিনে ফিরে যেতে মন চায়? ‘ নাহ্। আমি আগামীর দিকেই পথ চলতে ভালোবাসি।আগামী দিনকে নিয়েই ভাবি।’

আবিদা নাসরীন কলি

ছবি: আইয়ুব বাচ্চুর ফেইসবুক থেকে নেয়া