প্রাণের বাংলা এক্সক্লুসিভে মাশরাফি

  “ভাল খেলার প্রশংসা থাকলে, খারাপ খেলার প্রতিদানে সমালোচনা হবেই” – মাশরাফি

আহসান শামীম

মেগাসিটি লন্ডনের তুলনায় কার্ডিফ আর ব্রিস্টল ছিলো বেশ ছোট শহর। টটনকে বলা যায় ব্রিটেনের মফস্বল এলাকা । এখানে উবার ক্যাব সার্ভিসও চালু হয়নি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে কিছু কিছু অবশ্য পাওয়া যাচ্ছে। সন্ধ্যা সাতটার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় পাবলিক বাস। চলাচলের জন্য তাই ভরসা কেবল ক্যাব। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় হোটেল হলিডে ইনে গিয়েই খবর পাওয়া গেলো সৌম্য সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ আর আবু জায়েদ রাহি বেরিয়েছেন বাঙালি খাবারের খোঁজে। জুনিয়র ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে হাসি-তামাশায় ফুরফুরে থাকার চেষ্টায় রত।চিন্তায় মগ্ন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ইন্জুরীর জন্য সাকিব সতর্ক। কোচ স্টিভ রোডর্স আর অধিনায়ক মাশরাফিকে ভাবাচ্ছে, টনটনের ছোট মাঠের আকৃতি, আর আবহাওয়া।

নীরব এই শহরতলী টনটনে অধিনায়ক মাশরাফি দলে সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, সৌম্যদের ব্যাটে রান দেখতে চান। চিন্তার রাজ্যে ডুবে যাওয়া অধিনায়ককে পাওয়া গেলো সামান্য সময়ের জন্য। প্রাণের বাংলার জন্য ছোট সাক্ষাৎকারের আবেদন বৃথা গেলো না। অল্প সময়ে কিছু কথা জানালেন মাশরাফি। সেটুকুই প্রাণের বাংলার পাঠকদের জন্য রইলো ব্রিটেন থেকে পাঠানো  মাশরাফির এক্সক্লুসিভ।

১৭ জুন টনটনে ওয়েষ্ট উইন্ডিজকে মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ।এখন প্রতিটা ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতেই ক্রিকেটারদের ‘ছুটি’ দেওয়া হয়েছে।কিছুটা পিকনিক মুডেই আছেন দলের খেলোয়াড়রা।১৪ জুন সামারসেট কাউন্টি ক্রিকেট মাঠের কমিউনিটি ক্লিনিকে অনুশীলন শুরু করবে টাইগাররা জানালেন অধিনায়ক মাশরাফি।

অধিনায়ক হিসাবে মাশরাফিকে ঘিরে যে সমালোচনা চলছে দেশের মাটিতে সে বিষয় সম্পূর্ন অবহিত আছেন তিনি।সমালোচনাকে খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবেই মেনে নিয়ে মাশরাফি জানালেন, ‘ভাল খেলার প্রশংসা থাকলে, খারাপ খেলার প্রতিদানে সমালোচনা হবেই।’ অবশ্য অধিনায়কের পরিস্কার কথা, এই সমালোচনা কোন অবস্থায় তিনি ড্রেসিং রুম পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান না। তিনি মনে করেন, আবেগ দিয়ে খেলা হয় না, কম রান করার পরও বাংলাদেশ ঘুরে দাড়িয়েছিলো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ভাগ্য সুপ্রসূন্ন না হওয়াতে ম্যাচ জিতেছে কিউইরা।

বাংলাদেশ টিমের সবচেয়ে বড় সমস্যার কথা জানতে চাওয়া হলে, মাশরাফির একটাই জবাব ছিলো, ‘ভাগ্য’ সেই সঙ্গে বোলারদের ব্যর্থতাটাও আছে। যাদের ওপর বেশি আশা তারা মাঠে প্রত্যাশা অনুসারে পারফর্ম করেতে পারছেন না। সঙ্গে আছে বৃষ্টি নিয়ে চিন্তা।’ তবে অধিনায়ক মাশরাফির বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ দল এবারে বিশ্বকাপে এখনও তাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারেনি।

কথায় কথায় এসে গেলো রুবেলের প্রসঙ্গ। মাশরাফির সরাসরি বললেন, ‘দারুণ একজন গতিময় পেসার রুবেল। ওকে একাদশে আনতে গেলে একজন ব্যাটসম্যানকে হারাতে হয়, যে কারনে একাদশে রুবেল অনুপস্থিত।’ তবে পাশাপাশি আশ্বস্ত করলেন আগামীতে রুবেলে আর লিটন দাশকে একাদশে  দেখার সম্ভাবনার কথা।

মাশরাফি মনে করেন এখন পর্যন্ত সাকিব, মিরাজ আর সাইফউদ্দিনের খেলায় ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।আবার  খোলামেলা ভাবেই জানালেন, ‘এবার বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ দলের মধ্যে বাংলাদেশ তিন দলের সঙ্গে খেলেছে, জয় একটা, পরাজয় দু’টো। পরিকল্পনা অনুযায়ী টার্গেট দলের বিপক্ষে খেলাটা বৃষ্টিতে ভেস্তে গেছে।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস জয়ের পর ব্যাটিং না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো বলেই মাশরাফি এখনও বিশ্বাস করেন। ‘সেই দিনটা বাংলাদেশের ছিলো না।রয় কে আউট করাটা খুব কঠিন হয়ে উঠেছিলো। বাংলাদেশের বোলিং ফিল্ডিংও খুব ভাল ছিলো না। হাতে ওদের উইকেট থাকায় আর নিজেদের কন্ডিশনে দিনটা পুরোপুরি ছিলো ইংল্যান্ডের।’ অবশ্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা হাতের কাছে এসেও হাতছাড়া হওয়াটার কষ্টটা মাশরাফির মনে দাগ কেটে আছে, সরাসরি এবিষয় কোন কথা না বললেও এমনটাই বোঝা গেলো মাশরাফির কথায়।

মাশরাফি পুরানো ম্যাচগুলো নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে রাজী হলেন না। টনটনে ১৭ জুনে ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার জন্য মরিয়া তিনি। ওদের বোলিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যে পারর্দশী তা ম্যাচের দিনই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের প্রমাণ করতে হবে। টনটনে ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠ ছোট থাকায় বড় স্কোরিং ম্যাচ হবে বলে মাশরাফি মনে করেন।জেতার জন্য বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সুযোগগুলো হাতছাড়া না করার পরামর্শ দিলেন মাশরাফি। হিসেবটা কঠিন হলেও বাংলাদেশ এখনও সেমির লড়াই থেকে বিছিন্ন হয়ে যায়নি বলেই মনে করেন বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষ অধিনায়ক মাশরাফি। যদিও তিনি ম্যাচ বাই ম্যাচের পরিকল্পনা সাজানো নিয়েই ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নিজের দূর্বল দিকগুলোও উন্নতি করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রেখেছেন।

বিশ্বকাপের পরই অবসরে বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি প্রাণের বাংলাকে বলেন,  ‘সময় সব বলে দেবে।’ অবসরের পর রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হাসলেন তিনি। তারপর জানালেন, তাঁর কাছে খেলা আগে।অবসরের পর চেষ্টা থাকবে ক্রিকেটের সঙ্গেই নিজেকে জড়িয়ে রাখতে।

প্রাণের বাংলার মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন দলের প্রতিটা খেলোয়াড়ের জন্য, দলে জন্য।পাশাপাশি আবেগের বসে কোন খেলোয়াড়কে ব্যাক্তিগত আক্রমণ না করারও অনুরোধ জানালেন তিনি।

আর কথা বলতে চান না বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। সে ইঙ্গিত দিতেই যেন  কাগজ কলম টেনে নিলেন হাতের কাছে। ভবিষ্যতের পরিকল্পনার ছক কাটাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তখন মাশরাফির ঘরে ঢুকলেন সাকিব, তামিম, স্টিভ রোডর্স, ম্যাকেঞ্জি আর কোর্টিন ওয়ালশ। বুঝলাম কথার পালা শেষ হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহঃ প্রাণের বাংলা লন্ডন প্রতিনিধি।
ছবিঃ গুগল