প্রিসলির নজরদারিতে লেনন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন আর পপ মিউজিকের সম্রাট হিসেবে খ্যাত এলভিস প্রিসলি‘র মধ্যে বন্ধুত্ব ছিলো গভীর। আর এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই প্রেসিডেন্ট নিক্সন এলভিস প্রিসলিকে বলেছিলেন ব্যান্ড সঙ্গীতের আরেক তারকা জন লেননের ওপর গোয়েন্দাগিরি করতে।কারণ সত্তরের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রশ্নে লেনন তখন তীব্র ভাবে নিক্সনের সমালোচনা করেছিলেন।নিক্সন চাইছিলেন প্রিসলি লেনন কোথায় যায়, কাদের সঙ্গে মেশে, তার চিন্তাভাবনা কী-এসব বিষয়ে তাকে খবর সংগ্রহ করে দিক।

এলভিস প্রিসলি নিউ ইয়র্ক শহরে এসে মাঝে মাঝে বসবাস করতেন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিলো প্রেসিডেন্ট নিক্সনের।

এত বছর পরে এই তথ্য আবার প্রকাশ্যে এনেছেন একদা বিশিষ্ট রেডিও ও টেলিভিশন এবং সঙ্গীত তারকাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক বব হ্যারিস। হ্যারিস আমেরিকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন। বব খোলাখুলি পত্রিকার কাছে বলেন, ১৯৭৫ সালে বিবিসিতে তারই একটি অনুষ্ঠানে এসে স্বয়ং লেনন তাকে এমন তথ্য জানিয়েছিলেন।ওই সময়ে লেননের অভিযোগ ছিলো, তার ফোনে আড়িপাতা হচ্ছে, তাকে নিয়মিত অসুসরণ করা হচ্ছে নজর রাখার জন্য। তবুও তিনি আমেরিকা ছেড়ে ঈংল্যান্ডে ফিরে যাননি। কারণ তিনি জানতেন, নিক্সনের আমলে তিনি একবার আমেরিকা ছাড়লে আর সহজে ফিরে আসার অনুমতি পাবেন না।

বব হ্যারিস স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, পাশ্চাত্য সঙ্গীত জগতের দুই তারকা এলভিস প্রিসলি এবং জন লেননের মধ্যে তখন খুব একটা সদ্ভাব ছিলো না। লেনন সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় বিশ্বাসী হলেও প্রিসলি ছিলেন মার্কিন রাজনীতির কট্টর দক্ষিণ পন্থার অনুসারী। ফলে এই দু’জনের মধ্যে কখনোই বন্ধুত্ব গড়ে ওঠেনি। এই দুই শিল্পীর প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে ১৯৬৫ সালে লস এঞ্জেলসে। কিন্তু সেই দেখা বন্ধুত্বে গড়ায়নি।

এলভিস প্রিসলি সরকার সমর্থক একজন মানুষ ছিলেন। আর তাই প্রথম দর্শনেই লেনন তাকে পছন্দ করেননি। আর লেননের ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিরোধী অবস্থানও প্রিসলির পছন্দ ছিলো না। শোনা যায়, সত্তরের দশকে প্রিসলি নাকি তখনকার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর পরিচালক এডগার হোভারের বেশ কাছের মানুষ ছিলেন। আর সেই অন্তরঙ্গতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি হোভারকে অনুরোধ করেছিলেন লেননকে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করতে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ডেইলি মেইল
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box