প্রেমজ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

উম্মে শায়লা রুমকী

দুই.

অরিত্র  আটচল্লিশে পা দিয়েছে এবছর।একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায়,রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি  নিয়ে কলাম লেখে জাতীয় দৈনিকে। নিয়মিত টক শো করে। লোকজন তাকে চিনতে শুরু করেছে। ওপার বাংলায় নিয়মিত যাতায়াত বেড়েছে,কর্ম ব্যস্ততা আর জনপ্রিয়তা দু’টোই পাল্লা দিয়ে  বেড়ে চলছে।মাঝে মাঝে ক্লান্ত লাগে,কিন্তু ভক্ত আর অর্থের যোগানের কাছে ক্লান্তি ম্লান হয়ে যায়।

একটা সাহিত্য গ্রুপের এডমিন সে। বেশ কিছু  সাহিত্য গ্রুপের সঙ্গেও জড়িত। টুকটাক কবিতা লিখছে ইদানিং। রাষ্ট্রীয় চিন্তার বাইরে কবিতা লেখা সহজ তো নয়! ছন্দগুলো মাথায এলোমেলো ভাবে ঘুরতে থাকে আর না লেখা অবধি তা থেকে নিস্ততার পাওয়া যায় না! কিছুদিন ধরে তার নিজস্ব কাজে মন নেই,কবিতা আর মেসেঞ্জারে তিশার সঙ্গে কথোপকথন  হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়।

অরিত্রের স্ত্রী কাজল ব্যাঙ্কে চাকুরী করে। সকালে বের হয় সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরে। অথচ সন্ধ্যার পর অরিত্রের টেলিভিশন প্রোগ্রাম,সাহিত্য আড্ডা,রাত করে বাড়ি ফেরা। তাই দু’জনের  মধ্যে কথা বলারও বেশি সুযোগ নেই। দূরত্ব বেড়ে গেছে। একমাত্র মেয়ে লেখাপড়া করে আমেরিকা।সপ্তাহে একদিন ভিডিও কলে কথা হয়।দিন রাতের এতো পার্থক্য থাকে যে সময় সুযোগ কোনোটাই মেলে না।তাই প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব যাপিত জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।

কাজ পাগল অরিত্র পড়তে ভালোবাসে।পড়া আর কলাম লেখাতেই এখন অনেক সময় চলে যায়।একটু স্বস্থির জন্য সময় পেলে বেড়িয়ে পড়েন দেশ বিদেশ ঘুরতে।এই সেমিনার, ওই আড্ডা,কবিতা উৎসব, গল্প পড়া! আজ কোলকাতা তো কাল ক্যালিফোর্নিয়া!!জীবনটা যেনো তার ষোলআনাই  স্বার্থক!!

কিন্তু এই বসন্তে তিশার সঙ্গে দেখা হওয়াটা! কি সর্বনাশা?কি এক অদ্ভুত আর্কষন!! দিন পনের আগে দেখা হলো।অথচ!কথা না হলে মনটা বিষন্ন হয়, সকাল থেকে রাত, সারাক্ষণ লেপ্টে থাকা!হোক সেটা ভার্চুয়াল জগত!!একটুও ঝামেলা মনে হয় না!!

মাত্র ক’দিনেই নিজেরা নিজেদের আবিষ্কার করছে- মুগ্ধতায়, ভালোলাগায়,সংশয়ে,ভয়ে, লাজের মিশ্রনের এক তীব্র অনুরনণ দুজনকেই কাঁপিয়ে গেলো এই কোকিল ডাকা বসন্তে।।

প্রথম দেখা হয়েছিলো,একটা সাহিত্য গ্রুপের আড্ডায়।চা চক্রের দাওয়াত। তিশা তার স্বামীসহ উপস্থিত।  একটা ছাইরঙা শাড়িতে কি যে মোহনীয় লাগছিলো!!দুজনের  চোখাচোখি হওয়াতে তিশা মিষ্টি করে পরিচিত  হাসি দিয়ে এগিয়ে এলো।

আপনি অরিত্র ধর।আমি আপনার লেখার ফ্যান আর আমার বর আপনার কথার ফ্যান। সুযোগ হলে টক শো মিস করে না!দারুন বলেন আপনি!!

সেদিন আরো কিছুক্ষণ রবিনসহ আড্ডা হলো।তর্ক হলো।চায়ের কাপে তুমুল ঝড় উঠলো!বাড়ি ফেরার সময় তিশার সেই মিষ্টি হাসিটা সমস্ত হৃদয় জুড়ে অন্য আলোয় উদ্ভাসিত হলো!!

পরের দিন রাত দশটার দিকে মেসেঞ্জারের সবুজ নিয়নের আলোটা শব্দ করে জানান দিলো,কই গো?আমি তো!!

মেসেঞ্জারে নিয়মিত কত শত মানুষ অরিত্রকে নক করে,সব পড়া হয় না।দরকারও হয় না!কিন্তু মনে মনে আজ সারাদিনই তো অপেক্ষায় ছিলো তিশার! হঠাৎ দেখার আলোয়!!

তিশা লিখেছে, বন্ধু অনুরোধ পাঠানো হলো।কারো আপত্তি না থাকলে….

আপত্তি করার প্রশ্নই ওঠে না। আজ তিশা না পাঠালে অরিত্রই খুঁজে বের করতো।চটজলদি কর্নফাম বাটনে চাপ দিয়ে হাজার বন্ধুদের মধ্যে তিশাকেও যুক্ত করে নিলো।

তারপর মেসেঞ্জারে ফিরে এসে লিখলো,

মুখোমুখি বসে

চোখে চোখ রেখে অব্যক্ত ভাষায়

আমরা কি নিজেদের হলাম?  ( চলবে )

ছবি: গুগল ও সজল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]