প্রেমজ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

উম্মে শায়লা রুমকী

তিন.

তিশা অনেকক্ষণ ধরে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে আছে।

আমরা কি নিজেদের হলাম?

এই লাইনে এসে চোখ আটকে গেছে।কি লিখবে এর জবাবে!!গতকাল রাতে এক ফোঁটাও ঘুম হয় নি!আড্ডা শেষে বাড়ি ফিরেছিলো বেশ রাতে। খেয়ে এসেছিলো,তাই রাতের খাবারের বাড়তি ঝামেলা ছিলো না।রবিন সকালে অফিসে যাবে, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলো।রাত জেগে রইলো তিশা।

বিছানার এপাশ ওপাশ করে করে বিরক্ত হয়ে বারান্দায় গিয়ে বসলো।এরোমেটিক জুঁইের গন্ধও তিশার অস্হিরতা কমাতে পারলো না।একবার পায়চারি করছে,কিছু সময় রবি ঠাকুরের গান শুনছে,কিছু সময় জয় গোস্বামীর কবিতা আওড়াচ্ছে!!ভালো লাগছে না কিছুতেই।।

অরিত্রের মুখটা ভেসে উঠছে।কি সুন্দর করে কথা বলেন!!আচ্ছা বন্ধু হলে দোষ কোথায়? নাম ধরে প্রোফাইলে পেয়ে গেলো অরিত্রকে।পুরো প্রোফাইলে তেমন কোনো পারিবারিক ছবি নেই,নিজের ছবিও তেমন না, লেখালেখি আর  সেমিনার আড্ডার যৌথ ছবিতে মাঝে মাঝে অরিত্রকে খুঁজে পাওয়া! নিজের ভিতরে এক অদম্য আর্কষন টের পাচ্ছে তিশা।

ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবে ভেবেও হাত সরিয়ে নিলো!

ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। পাখিদের কলরবে দিনটা কেমন রঙিন হয়ে ধরা দেয়!!এখন আর ঘুমিয়ে কাজ নেই।

বরং রবিনের জন্য সব্জি খিঁচুড়ি করলে হয়!অনেকদিন করা হয় না।তিশা রান্না ঘরের  দিকে ছুটলো।

রবিন সব্জি খিঁচুড়ির সঙ্গে গুরু ভুনা পছন্দ করে।

হাতে সময় আছে,ফ্রিজ থেকে গরুর মাংস বের করে পানিতে ভিজিয়ে দিলো।খুব মনোযোগ দিয়ে রান্নাটা শেষ করে ডাইনিং টেবলে সাজাতেই রবিন হাজির!

এ কি!!এতো আয়োজন!!

ওমা! ওটা কি গো! পায়েস!!

ঘটনাটা কি রায়ানের মা?

তিশা হেসে ফেললো।

রায়ান জন্মের পর থেকে রবিন কখনো নাম ধরে ডাকে না। রায়ানের মা বলে।।

কিছু না। অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা!রাতে ঘুম হলো না,সকাল বেলা তাড়াতাড়ি উঠে পড়েছি!তাই সময়টাকে কাজে লাগালা।

কিন্তু সকাল সকাল এতো খাবার খাওয়া যায়!!তুমি বরং প্যাক করে দাও। দুপুরে খেয়ে নিবো।

আমি শুধু চা টোস্ট খাবো।

সংসারের শুরু থেকেই রবিন দুপুরে খাবার নিয়ে অফিসে যেতো।

বেশ ক’বছর হলো আর নেয় না।নিজের অফিসের ক্যাফেতে সবাই মিলে খেয়ে নেয়।

আজ ওকে খুশি করতেই খাবার নিতে চাইছে!তিশা যত্ন করে রাঁধা খাবার গুলো প্যাক করে দিলো।

রবিন অফিসে যেতেই তিশা বিছানায় গা এলিয়ে দিলো।রাত জাগা ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়লো।কাজে আসা গৃহকর্মী অনেকবার বেল বাজিয়ে চলে গেলো।

প্রায় বিকেলের কাছাকাছি সময়ে ঘুম ভাঙ্গলো।এরকম সাধারনত হয় না!আজ সবই এলো মেলো!!দুপুরে খাওয়া হয়নি!মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখলো,বন্ধ। চার্জ দিতে মনে নেই। সবাই নিশ্চয়ই ফোন করেছিলো,বন্ধ পেয়ে অস্হির হয়েছে।বিছানা ছেড়ে বাথরুমের দিকে গেলো তিশা।

বেশ খানিক সময় ধরে গোসল করলো তিশা।বাথরুমের লম্বা আয়নাতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজেকে দেখলো!পেটের দিকে বাড়তি মেদে হাত বুলিয়ে মনটা বিষন্ন হলো।গলার দিকে কালচে দাগ আর কপালের বলি রেখা এতো দিন চোখে পড়েনি তো!!

কি বিশ্রি দেখাচ্ছে নিজেকে!!

গোসল শেষে গোলাপি রঙের শাড়ি পড়লো।কেনো?

শাড়ি তো সে বাড়িতে পড়ে না।আজ কেনো মন চাইছে!সন্ধ্যা বাতি জ্বালিয়ে এক কাপ চা নিয়ে বারান্দার কোনায় রাখা বেতের চেয়ারে বসলো।পেটে কিছুই পড়েনি,তাই খালি পেটে চা ক্ষতিকর হতে পারে,এমনিতেই অম্বলের সমস্যা!!তবু আজ এই সন্ধ্যার ক্ষনটি এক কাপ চা হাতে মোহনীয় হয়ে উঠলো।

মাথা থেকে অরিত্রকে বাদ দেয়া যাচ্ছে না। কাল গল্পের এক ছলে বলেছিলো,আপনাকে নীলে দারুন মানায়,গোলাপি হলেও মন্দ হবে না!!

আজকের এই গোলাপি শাড়িটা কি মনের অজান্তেই তোমার জন্য,অরিত্র?

তিশা একটু কেঁপে উঠলো!এসব কি ভাবছে!!

জীবনানন্দের বনলতা সেন বইটা হাতে নিয়ে পৃষ্টার পর পৃষ্ঠা উল্টে চললো।মনের আর যোগাযোগ হলো না। বাধ্য হয়ে মোবাইলটা হাতে নিলো।ফুল চার্জ!

এ প্রোফাইল সে প্রোফাইল ঘুরে,সাহিত্য গ্রুপে লাইক কমেন্ট দিয়ে ঠিক হাজির হলো, অরিত্রের প্রোফাইলে।

ভাবনা চিন্তা ছাড়াই এক অন্যরকম টানে সেন্ড রিকোয়েস্ট বাটনে চাপ দিলো।মেসেঞ্জারে গিয়ে লিখলো, আপত্তি না থাকলে…..

এতো তাড়িতাড়ি জবাব আসবে ভাবেনি।

অরিত্র যেনো অপেক্ষায় ছিলো।

‘আমরা কি নিজেদের হলাম?’

এই কথাটার জবাবে তিশা লিখলো, নিজেদের হতে চেয়েছিলাম কি?

তড়িৎ জবাব।তোমার ইচ্ছে।

তিশা একটু চমকে গেলো। ‘তুমি’!!এতো তাড়িতাড়ি কেউ তুমি বলে?কিন্তু পড়তে কি মিষ্টি লাগছে!!

ইচ্ছে!!তিশার কি কোনো গোপন ইচ্ছে আছে? কই না তো!তবু লিখলো, চাইলে কি কখনো নিজেদের হওয়া  যায়?

জবাব এলো দ্রুত।

যায় তো!

থাকুক না লোক চক্ষুর আড়ালে নিজেদের মতো করে একটা সম্পর্ক।।

তিশা লিখলো, খুব গোপনে,খুব যতনে!

হুম।।তুমি কি ডুবতে রাজি আছো?

সরাসরি এ প্রশ্নের জবাব কি হয়?তিশা বিব্রত হলো।কি জবাব দিবে?মেয়েদের সেই চিরাচরিত নিয়মে জবাব দিলো, সময় প্রয়োজন!

অরিত্র লিখলো, ভালোবাসা, অপেক্ষায় রইলাম।(চলবে)

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]