প্রেমজ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

উম্মে শায়লা রুমকী

তিশা চুপ করে বসে আছে।রবিন বললো,খাচ্ছো না কেনো?

-ইচ্ছে করছে না। তুমি খাও।

-শরীর খারাপ?

-না।  মেয়েটার কথা মনে হচ্ছে।

-তোমার মেয়ে তো ভালোই আছে। কানাডা থেকে আসতেই চাইছে না।ওর ফুফু তো বলছে ওখানেই স্কুলে ভর্তি করাবে!তুমি কি চাও?

-আগে দেশে আসতে বলো। তারপর দেখা যাবে।।

বলেই তিশা খাবারের প্লেট গুলো গোছাতে শুরু করলো।

খাওয়া শেষ করে রবিন টেলিভিশন দেখতে বসে গেলো।রাত জেগে টক শো দেখা অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে আজকাল!!

তিশা সব গুছিয়ে বিছানায় এসেই মোবাইলটা হাতে নিলো।

আজকাল ফেইসবুকে স্ক্রল করে নানা মানুষের কেচ্ছা কাহিনী দেখার অভ্যাস হয়ে গেছে। ওমুক ভাবী,তমুক ভাবী,এই আপা, সেই আপা কবিতা লেখে, ছবি তোলে,গাছে ফুল ফোঁটায়, নামীদামী সব রিসোর্টে ঘুরেবেড়ায়, এরকম সব ছবিতে লাইক, কমেন্ট দিতে  ব্যস্ত হয়ে পড়ে তিশা।

এর মধ্যে কয়েকবার অরিত্রের জ্বলে থাকা মেসেঞ্জারের সবুজ বাতিটা দেখে এসেছে।

কয়েকবার কিছু একটা লিখতে গিয়েও হাত সরিয়ে নিলো।কিন্তু বেশিক্ষণ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না!কি এক অদ্ভুত আকর্ষন তিশাকে টেনে নিয়ে গেলো।

তিশা লিখলো, ভালোবাসা কি এতই সহজে হয়?

অরিত্র যেনো সারাক্ষণ অপেক্ষায় থাকে। চটজলদি উত্তর দিলো,

‘ভালোবাসা সহজ।

মানুষ প্রেমজ।’

তিশা লিখলো, প্রেমজ মানে?

-‘জলে যে থাকে জলজ,

প্রেমে যে থাকে সে প্রেমজ।’

-বাহ্! তাই তো!মানুষই তো কেবল প্রেমজ হতে পারে!

তারপর!টুকটাক কবিতা, প্রেমের কথোপকথন!! কথার পিঠে কথা,ভালোবাসায়,মুগ্ধতায়,মনের সন্ধানে ব্যস্ত দুজন মানব মানবী।

তিশার নিয়মিত সকালে হাঁটতে যাওয়া,বাড়ির কাছের ইয়োগা সেন্টারে আসা যাওয়া, হালকা মেকাপে নিজের বলিরেখা আড়াল করা কোনো কিছুই রবিনের কাছে ধরা পড়লো না।

তিশা নিয়ম করে রবিনের সকালের নাস্তা বানায়,দুপুরে খোঁজ নেয়,রাতের ডিনার তৈরি করে,গাছের যত্ন নেয়,ঘর দোর গোছায়,ছেলে মেয়ে শ্বাশুড়ির খোঁজ খবর করে।তাই নিত্যদিনের অভ্যস্ত জীবনে  অরিত্রের সঙ্গে ভার্চুয়াল সম্পর্কটা কোনো প্রভাব ফেললো না।

কিন্তু প্রেম তো ঈশ্বরের সৃষ্টি!তিনি তো জানেন সবই।

তিশা আর অরিত্র কেউ আর নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে চাইলো না।সামাজিক লৌকিকতা, পারিবারিক মর্যাদা, ছেলেমেয়েদের কথা কোনো কিছুই আর বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো না।হৃদয়ের অতি গোপনে খুব যতনে বুনে চললো হাজারো স্বপন!!

প্রেমে তো কেবল কবিতা আর  কৃষ্ণচুড়ায় প্রাণ ভরে না,তার যে আরো কিছু চাই!!সেই চাওয়াটাই যেনো সকল কিছুকে হার মানিয়ে  বাঁধাহীন গতিতে উড়ে চলে দিগন্তে……

মেসেঞ্জারে কথা বলা নিরাপদ নয়,রবিনের চোখে পড়তে পারে বা হ্যাকিং হতে পারে!তাই ওরা আরো সাবধানী হলো।হোয়াটস অ্যাপে কথা শুরু হলো,ভিডিও কলে নিজেদের রূপ গন্ধে বিভোর হলো।প্রেমের ভাষাটা হৃদয়ের গহীন ছুঁয়ে শরীরের ভাষায় এসে ঠেকলো।

নতুন নতুন নকশায় শরীর উপভোগের বাসনায় দুটো অতৃপ্ত হৃদয় যেনো হাহাকারে পূর্নতা পেতে চাইলো।

গোপন কথাটি আর গোপন রইলো না। কিছুদিনের মধ্যেই ঘরের কোনায় ধুলো জমতে লাগলো, পানির অভাবে মানি প্লান্টের লতাটা ধুসর হলো, দেয়ালে ঝোলানো ছবিগুলোর হাসি ম্লান হয়ে গেলো!!সকালের খাবারে লবন বেশি বা কম, চায়ের লিকারে স্বাদ নেই!বারান্দায় রাখা জুঁই, হাসনাহেনা ঝড়ে পড়েছে। তিশার কোনো কিছুতেই আর আগের মতন খেয়াল নেই।

সারাক্ষণ অরিত্রের সঙ্গে থাকা!!চিন্তায় মননে ভাবনায় একটা নামই কেবল জপে চলে,অরিত্র!অরিত্র!!অরিত্র!!!

-তুমি চট্রগ্রাম কয় দিন থাকবে বললে?তিশা আবার জানতে চাইলো।

-এই তো তিন দিন!যাবে আমার সঙ্গে?

-না। শরীরটা ঠিক ভালো লাগছে না। জার্নি করবো না।

তুমি যাও।কোথায় উঠবে?

-মিটিং হবে পাহাড়তলিতে। ওখানেই ওরা থাকার ব্যবস্হা করেছে।সুন্দর জায়গা।যাবে?

-না গো!যাবো না। তুমি সাবধানে যেও। তাড়াতাড়ি ফিরে এসো।

বলেই রবিনকে জড়িয়ে ধরে বুকের মধ্যে মাথা রাখলো।

রবিন ওর চিবুক তুলে চোখে কপালে চুমু দিয়ে বললো, একা থাকতে ভয় পাবে নাতো!!

তিশা হেসে বললো, একা কোথায়? তুমি তো আছো!!রাতে ভয় পেলে ভিডিও কলে জ্বালাবো তোমায়!

রবিন হাসতে হাসতে বললো, জো হুকুম! মহারাণী!!

রবিন চলে যেতেই তিশা একলা হলো।নিজেকেই যেনো প্রশ্ন করছে,কাকে ঠকাচ্ছি আমি?(চলবে)

ছবি: গুগল

 

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]