প্রেমজ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

উম্মে শায়লা রুমকী

ছয়.

তিশা নিজের দিকে তাকিয়ে আছে।

কেমন একটা অদ্ভুদ অনুভূতি হচ্ছে! ঠিক ঘৃনা বা রাগ নয়,অপরাধবোধও নয়।

কি করেছে সে? ভালোবেসে নিজেকে মুক্ত করেছে, শরীরের ভাষায় সাড়া দিয়েছে?

প্রেম কি অপরাধ?সে কি ক্রিমিনাল?

অরিত্র যে বলে, প্রেম ঐশ্বরিক!

প্রকৃতি সব ঠিক করে দেয়। মানুষ কেবল প্রেমজ হয়!

তিশার এলোমেলো লাগছে।

পারিবারিক ছবিটার দিকে তাকিয়ে কান্না পাচ্ছে।

কেনো এমন হলো?

কেনো অরিত্রকে আসতে বললো?

বড্ড অসময়ে দেখা হলো। এসময় যে প্রেমে পড়া বারণ!!

তিশার মায়ের কথা মনে পড়ছে। সেই ছোট বেলায় মা কে হারিয়েছে।খুব বেশি স্মৃতি নেই মায়ের।

বাবার কাছে বড় হয়েছে। কিন্তু বাবাও চলে গেলো বড় অসময়ে।ভালোবাসা, আদর সবটাই পেয়েছে রবিনের কাছ থেকে।কখনো অয়ত্ন করেনি। মেয়েরা বিয়ের পর যেরকম জীবনে অভ্যস্ত হতে চায়,তার সবই রবিন দিয়েছে। ছেলেমেয়েরা দিয়েছে মা হিসাবে মর্যাদা, সম্মান,ভালোবাসা!

তিন হাজার বর্ফুটের এই বিশাল ফ্লাটটাকে ওর হঠাৎ মায়াহীন জীর্ণ কুটির বলে মনে হচ্ছে।

তিশা বাবার সংসারে ভালো মেয়ে,শ্বশুড় বাড়িতে ভালো বউ, স্বামীর কাছে ভালো স্ত্রী, সন্তানের কাছে ভালো মা!!এতো এতো ভালোর বাইরে আর কি কোনো জগৎ আছে? নিজেকে প্রশ্ন করে আজ আর কোনো উত্তর মিলছে না!!

অরিত্রকে তো ভালোবাসতে চায় নি। এরকম কিছু স্বপ্নেও ভাবেনি।স্বামী সন্তান নিয়ে একটা চমৎকার সহজ জীবন তো কেটে যাচ্ছিলো!কেনো এমন হলো?

এতো কিছুর পরও কি কোনো অপূর্ণতা ছিলো?

একই রকম অপূর্ণতা কি তবে অরিত্রেরও?

মনটা কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না! আজ আর  রবিঠাকুর বা জীবনানন্দকে তিশার ভালো লাগলো না।কেনো এমন হলো? এই প্রশ্নটাই বার বার দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে নিজেকে ভেঙ্গে চুড়মাড় করে দিচ্ছে।।কেবল বুকের ভিতর থাকা কষ্টটা চোখের জলে ভাসিয়ে নেবার পায়তারা চলছে।

মেসেঞ্জারে টুং শব্দে মোবাইলটা হাতে নিলো তিশা।

অরিত্র!

লিখেছে, ‘জানি না বিশ্বাস করবে কি না,ভালোবাসার এতো সুখ আগে কোনোদিন পাইনি।আমার মানস পটে আঁকা কৃষ্ণচুঁড়ার মতো তুমি অনন্য,অনবদ্য, অপরূপ!!’

সত্যি তাই। তিশারও  মনে হয়েছিলো ভালোবাসায় শরীর কথা কয়,রক্তের স্রোত উত্তাল সমুদ্রের মতো নেচে ওঠে!ঠোঁটের উষ্ণতা পুড়িয়ে দেয় হৃদয়ের যত ক্ষত!!

তিশা ছোট করে লিখলো, তুমি সুখ পেয়েছিলে?

তড়িৎ উত্তর। ‘ভালোবাসা তো সুখের বহমান স্রোত!’

তিশা আর কোনো উত্তর দিলো না। এখন আর ইচ্ছে করছে না। এই বহমান স্রোতে কি সে গা ভাসিয়ে দেবে?

মোবাইলটা বেজে উঠলো। রবিনের ফোন।

কি রায়ানের মা?ঘুমিয়ে গেছো?

না।তুমি তো রাত জাগো না। এখনও জেগে আছো?

আরে!  ফিরিঙ্গি বেটাদের সঙ্গে মিটিং করে শান্তি নেই। বারোটা বাজালো।তুমি এতো রাত জেগে কেনো?

ভয় করছে?

না….ঘুমাবো।বই পড়ছিলাম।

ঠিক আছে। ঘুমিয়ে পড়ো।কাল কাজ শেষ হলে রাতের ফ্লাইটে চলে আসবো।

আচ্ছা। বলেই তিশা লাইন কেটে দিলো।কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।

আপাতত ঘুমানো দরকার।তিশা ওষুধের বক্সের দিকে  তাকালো। একটা রিভোট্রিল থাকতে পারে!!মেসেঞ্জারে টুং টাং শব্দ হয়েই যাচ্ছে। নিশ্চয়ই অরিত্র! তিশা ভাবছে,আর নয়!বন্ধ হোক এই খেলাটা।এবার বন্ধ হোক প্রেমজ গল্পটা।

কিন্তু কিছুতেই নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখা যাচ্ছে না। অদ্ভুদ আর্কষনে, নেশায় মাতাল হৃদয় ছুটে যাচ্ছে,দৌড়ে চলছে অরিত্রের পানে।

তিশা মোবাইলটা হাতে নিলো।

অরিত্র লিখেছে,

‘যা হয়েছে,হোক

বসন্ত হৃদয়ে ফুল ফুটুক

ইচ্ছেরা সব উড়ুক!!’

তিশা জবাব দিলো,

‘ তবে তাই হোক।

ইচ্ছেরা সব ডানা মেলুক।’ (শেষ)

অলংকরণ: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]