প্রেমহীন পৃথিবী…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

রোজী জোবেরি

পৃথিবীর কিছু মানুষ দিনে দিনে প্রেমহীন হয়ে পড়ছে। এই কথাটা এজন্যই বলছি সাম্প্রতিক কালের ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার জন্য। কোভিট ১৯ এর সুবাদে খুব কাছের মানুষদের কাছ থেকে পাওয়া তিক্ত বলতে পারি নির্মম অভিজ্ঞতার কথা।
ফেইসবুকের সুবাদে জানতে পারি অনেক কিছু যা আংশিক, পুরোটা সত্যি বা মিথ্যা। এর মধ্যে একটি হলো, বাড়ির কর্তা ব্যক্তিটি অসুস্হতার জন্য কর্মস্হল থেকে বাড়িতে এসেছিলেন স্ত্রী সন্তানদের সান্নিধ্য ও সেবা যত্নের আশায়। যেহেতু উনি সর্দি কাশি জনিত রোগে ভুগছিলেন পরিবারের সবাই ধরেই নিয়েছিলেন করোনায় আক্রান্ত যদিও মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পরীক্ষার রিপোর্ট তাদের হাতে পৌঁছায়নি। পরিবারের সদস্যরা ভদ্রলোককে একটা ঘরে তালা বদ্ধ করে রেখেছিলেন। তারপর একলা এক ঘরে পিপাসায় ছটফট করে মারা যান।
অসুস্থ এক মাকে জঙ্গলে ফেলে রেখে আসা। তারপর করোনায় আক্রান্ত সন্তানের সঙ্গে বাবা মায়ের একই আচরণ। এভাবে হয়তো আরো কত নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটছে সবার অজান্তে। তার স্পষ্ট অর্থ এই দাড়ালো যে কিছু মানুষ অনুভূতিহীন হয়ে যাচ্ছে। মায়া, ভালোবাসা ও কর্তব্য থেকে তারা দূরে সরে যাচ্ছে।
এবার বাংলাদেশ থেকে আসার সময় আমার পাশে বসা বয়স্ক স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার অটুট বন্ধন দেখে এতটাই মুগ্ধ ও পরিতৃপ্ত হয়েছিলাম যে এতটা যাত্রা পথ কিভাবে শেষ হয়েছিলো বুঝতেই পারিনি। উনাদের এবং আমার ট্রানজিট ছিলো দোহা। উনারা স্হায়ীভাবে থাকেন সুইডেন আর আমি কানাডা। ভদ্রমহিলা ছিমছাম গড়নের সুন্দরী। কথাবার্তায় অসাধারণ বিনয় যা সচরাচর কমই দেখা যায়। ভদ্রলোক অসুস্হ। কি যেনো একটা দুরারোগ্য রোগে ভুগছেন। নামটা বলেছিলেন মনে নেই। এখন বলতে গেলে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। ভদ্রমহিলা সারাটা সময় ধরে কি যে যত্ন খেয়াল করছিলেন তা লিখে বোঝানো যাবেনা। একবারও ভদ্রমহিলার চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ পড়তে দেখিনি। আসলে এটাই হওয়া উচিত প্রত্যেকটা স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের। এটাই অতি স্বাভাবিক।
আবার কিছুটা উল্টোপিঠের ঘটনা শুনলাম দোহা থেকে কানাডা আসার সময়। আমার পাশের যাত্রী। উনিও থাকেন টরন্টো। কথায় কথায় জানা হলো পরিবারের সবার পরিচয়। ভদ্রলোক একা আসছিলেন। স্ত্রী মেয়েরা টরন্টো। উনি বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। তারমানে ৬৫ এর উপরে বয়স। জানলাম স্ত্রী আর উনি একসঙ্গে থাকেন মেয়েরা যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। একটাই ছেলে অন্য প্রভিন্সে থাকে। বাসায় ফিরে চৌদ্দদিন একা বাসায় থাকবেন। স্ত্রী থাকবেন মেয়ের বাসায়। এটা নিয়ে উনার একটা চাপা কষ্ট ছিলো তা কথাতেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো। এই চৌদ্দ দিনে তো অনেক কিছুই হতে পারতো যদি উনি কোভিট ১৯ এর রুগী হতেন। তাছাড়া উনার বয়সও যথেষ্ট যা উনার জন্য বিপদজনকও ছিলো। তারমানে বৈবাহিক সম্পর্কটা কিছু মানুষের জন্য কি শুধুই সুসময়ের? দুজনেরই সমান কর্তব্য পালন করার মন মানসিকতা থাকলেই বিবাহিত জীবন মধুর থেকে মধুরতম হবে এটা আমরা নিশ্চিত বলে জানি।
আমি খুবই নগন্য একজন। এ ধরনের কর্মকান্ডগুলোকে আমি নিতে পারিনা। আমার কাছে বৈবাহিক সম্পর্কটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যাতে সীমাহীন মমতা,বন্ধুত্ব, সন্মান, ভালোবাসা অটুট থাকবে যে কোনো অবস্হায়। সর্ম্পকে ভালোবাসার জয় হোক।
পৃথিবীতে সব মানুষই ভালোবাসায় বেঁচে থাকুক।

ছবি : লেখকের ফেইসবুক থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]