প্রেম আর যৌনতায় তারা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 উভগামী জীবন কাটাতেন লুইস মাউন্টব্যাটন।তরুণদের প্রতিও ছিলো তার শরীরী আকর্ষণ। আর তখন তার স্ত্রী এডউইনার ছিলো আঙুল গুনে ১৮ জন প্রেমিক।

লুইস মাউন্টব্যাটন

রাজকাহিনীর ওপরের গল্পটা যতোই আলো ঝলমলে আর মণি মানিক্যের ছটায় ভরা থাকুক না কেনো তীব্র জারকের প্রবাহ ভেতরে ভেতরে বয়েই চলে। পর্দা সরালেই অন্ধকার, ঢাকনা তুললেই সেই লোভ, কামনা আর প্রেমের গল্প। লুইস আর অ্যাডউইনা মাউন্টব্যাটন ছিলেন তেমনি এক জুটি। তারা বিয়ে করেছিলেন ১৯২২ সালে। সংসার জীবন ৩৮ বছরের। ইতিহাস মাউন্টব্যাটনকে চেনে ভারতে ইংরেজদের শেষ শাসক হিসেবে। তারই স্ত্রী অ্যাউইনা অ্যশলে সেই সময়েই ইংল্যান্ডে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন রূপের ছটা ছড়িয়ে। কিন্তু ওই যে, ওপরে ওপরে গল্পটা ঝকমকে এক যুবরাজ আর তার স্ত্রী’র হলেও ভেতরের বাস্তব ছবিটাকে কালিমালিপ্ত করেছিলো তাদের জীবনযাপন। তাদের জীবনের গল্প বিশেষ করে এডউইনা মাউন্টব্যাটনের লাস্যময় জীবনের খানিকটা ইতিহাসের পৃষ্ঠায় পাওয়া যায়। তবে সম্প্রতি এফবিআই‘র কাছে সংরক্ষিত ১৯৪০ সালের তথ্যের ভাণ্ডার আলোর দেখা পেলে প্রকাশিত হয়েছে এদের জীবনের অনেক অজানা তথ্য।

লেসলি হাচিনসন

সেই অজানা তথ্য নিয়ে প্রাণের বাংলায় এবারের প্রচ্ছদ কাহিনি ‘প্রেম আর যৌনতায় তারা”

উভগামী জীবন কাটাতেন লুইস মাউন্টব্যাটন। তরুণদের প্রতি ছিলো তার শরীরী আকর্ষণ। আর তখন তার স্ত্রী এডউইনার ছিলো আঙুল গুনে ১৮ জন প্রেমিক। তার এই প্রেমিকদের তালিকায় ছিলেন তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং লেসলি হাচিসন। মাউন্টব্যাটন একদা নিজেদের জীবন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী অন্যের বিছানাতেই বিবাহিত জীবন কাটিয়ে দিলাম।’

এফবিআই‘র কাছে রক্ষিত গোপন তথ্যে মন্তব্য করা হয়েছে এই দম্পতি খুবই নীচু মানসিকতার ছিলেন এবং তারা দুজনেই সম্ভবত অন্য নারী পুরুষের বেলায় ছিলেন উভগামী।

এডউইনা মাউন্টব্যাটন

মাউন্টব্যাটন জন্মেছিলেন ১৯০০ সালে। সম্পর্কে তিনি রাণী ভিক্টোরিয়ার নাতি এবং যুবরাজ ফিলিপের কাকা। অ্যাডউইনার সঙ্গে লুইসের দেখা হয় ১৯২০ সালে। তখন লন্ডন শহরের সেই সুন্দরী যুবতীর বয়স কুড়ি বছর। দাদা আর্নেস্ট ক্যাসেলের কাছ থেকে পাওয়া এককাঁড়ি টাকা হাতের মুঠোয় নিয়ে অ্যাডউইনা তখন উড়ে বেড়াচ্ছেন।বলা হতো ইংল্যান্ডে তখন দামী পোশাক ও প্রসাধনে আচ্ছাদিত প্রখম ছয়জন নারীর মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। দু’জনের দেখা হওয়াটা ঝপ করেই বিয়েরে দিকে গড়ায়। উইন্ডসর ক্যাসেলে প্রায় আট হাজার অতিথির সামনে বিয়ের অনুষ্ঠানে রাজপরিবারের অনেক সদস্যই সেদিন হাজির ছিলেন।কিন্তু বিপত্তি ঘটেছিলো বিয়ের পরে। অ্যাডউইনা ছিলেন ভীষণরকমের কামুক এক নারী। অন্যদিকে মাউন্টব্যাটন যৌনতার ক্ষেত্রে ছিলেন খানিকটা শীতল। হয়তো তার পুরুষে আসক্তির কারণেই এরকমটা ঘটেছিলো।জানা যায় স্ত্রী’র স্তনদুটিকে তিনি আদর করে মাট ও জেফ নামে ডাকতেন।

তাদের প্রথম কন্যা সন্তানের জন্ম হয় ১৯২৪ সালে। সন্তানের জন্মের পরে তার প্রতি সবার আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়েন অ্যাডউইনা। তিনি তখন মেয়েকে কাজের লোকের কাছে গছিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছিলেন দক্ষিণ উপকূলে আনন্দের উৎস খুঁজতে।আর সেখানে গিয়ে তিনি মেতে ওঠেন পুরুষ বন্ধুদের বাহুর বন্ধনে। তার সঙ্গে জুটে যায় আমেরিকান ধনাড্য পোলো খেলোয়াড় ল্যাড্ডি স্যান্ডফোর্ড, পত্রিকার সম্পাদক মাইক ওয়ারডেল আর লর্ড মলিনাক্স। অ্যাডউইনের কন্যা প্যামেলা হিকস মায়ের বিষয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে খোলামেলা ভাবেই বলেছেন, তাদের বিশাল বাড়ির বিভিন্ন ঘরে মায়ের প্রেমিকরা বসে থাকতেন। মা তাদের বিভিন্ন সময়ে দেখা দিতেন।

অ্যাডউইনার সঙ্গে বিখ্যাত গায়ক পল রবসনের প্রেমের গুজব রটেছিলো। সময়টা ছিলো ১৯৩২ সাল। তখন একজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষের সঙ্গে শ্বেতাঙ্গ নারীর প্রেম চমকে ওঠার মতো ব্যাপারই ছিলো। একটি পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে হৈ চৈ পড়ে গিয়েছিলো গোটা ইংল্যান্ডে।পরে অবশ্য দেখা গেলো খবরটা মিথ্যা। পত্রিকাটি মাউন্টব্যাটনের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলো।কিন্তু অনেকেই বিশ্বাস করেন অ্যডউইনার সঙ্গে সত্যি সত্যি এক কৃষ্ণাঙ্গের প্রেম ছিলো। লেসলি হাচিনসন নামে সেই তরুণ ছিলেন প্রখ্যাত ক্যাবারে গায়ক। লন্ডনের বিত্তশালী মানুষ

তরুণ নেহেরুর সঙ্গে এডউইনা

দের বৃত্তে সেই তরুণ গায়ক ঘুরে বেড়াতেন অভিজাত নারীদের শিকার করার জন্য। অ্যাডউইনা হাচের গান শুনে প্রেমে পড়ে যান। এক পার্টিতে অ্যাডউইনা প্রকাশ্যে হাচের সঙ্গে শারীরিকভাবে মিলিত হন। সেদিন পিয়ানো বাজাচ্ছিলেন হাচ। অ্যাডউইনা হঠাৎ উঠে গিয়ে হাচকে চুমু খেতে শুরু করেন।   তারপর তারা উঠে পাশের খাবার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। একটু পরে দু’জনেই যখন বের হয়ে আসেন অ্যাডউইনার পোশাক ছিলো অবিন্যস্ত। সেই দৃশ্য অনেকেই অবলোকন করেছিলেন তখন।

তবে ১৯৪৭ সালে অ্যাডউইনার জীবনে ঘটে অন্যরকম ঘটনা। মাউন্টব্যাটন তৎকালীন ভারতের শেষ ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত হন। ভারত তখন বিভক্ত হওয়ার পথে। ঠিক তখনই সেই লাস্যময়ী নারী যুক্ত হয়ে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সঙ্গে। ৫৮ বছর বয়সী নেহেরু ছিলেন তার প্রেমিকার চাইতে দশ বছরের বড়। প্যামেলা তার স্মৃতিচারণায় বলেছেন তার বাবা নেহেরুর সঙ্গে মায়ের প্রেমকে একরকম মেনে নিয়েছিলেন। বাবা বলতেন, ‘বাবা, মা আর নেহেরু ছিলেন এক ‘অনন্য ত্রয়ী’। তাদের প্রণয় কাহিনি অনেকদূর গড়িয়েছিলো। ১৯৪৮ সালে মাউন্টব্যাটন ভারত ছাড়লেও অ্যাডউইনা প্রতি বছর নিয়ম করে ভারতে যেতেন নেহেরুর সঙ্গে দেখা করতে। জওহরলাল নেহেরুও সময় পেলেই উড়ে যেতেন লন্ডনে। এই সময়ের মাঝে তাদের মাঝে প্রেমপত্রের আদান প্রদানও চলেছিলো।

স্ত্রী‘র এই আলোচিত প্রণয়পর্বের সময় স্বামীকে নিয়েও রটে কুখ্যাতি। এফবিআই‘র নথিপত্র জানাচ্ছে, মাউন্টব্যাটনের বিষয়ে তারা ওই সময়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলো। আর তা থেকেই জানা যায় ব্যাটনের ছিলো পুরুষে আসক্তি। তরুণদের প্রতি তার আগ্রহের মাত্রাটা ছিলো বেশি। তিনি চোস্ত সেনাপোশাক পরিহিত ছেলেদের প্রতি দূর্বল হয়ে পড়তেন ঝট করে।

অ্যাডউইনা চোখ বন্ধ করেন ১৯৬০ সালে। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। তবে তার প্রাণহীন শরীরের পাশে পাওয়া গিয়েছিলো নেহেরুর লেখা একরাশ প্রেমপত্র। আর মাউন্টব্যাটন? ১৯৭৯ সালে আইরিশ গেরিলাদের বোমায় তিনি নির্মম ভাবে নিহত হন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ দ্য সান
ছবিঃ গুগল      

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]