প্রয়াত মুনিরা চৌধুরীর ৫টি কবিতা

 

মুনিরা চৌধুরী

পৃথিবীকে স্বেচ্ছায় চিরবিদায় জানানোর আগে মৃত্যুর ডাকনাম ধরেই বারবার ডেকেছিলেন কবি মুনিরা চৌধুরী। ভালোবাসার আলো নিভে গেলে তিনি হয়তো আর পৃথিবীর আলো নিজের দুচোখে ধরে রাখতে চাননি। মৃত্যুকেই তার বড় কাছের শুশ্রুষা বলে মনে হয়েছিলো। তাই বিদায়। কিন্তু ওই যে কবি আবুল হাসানের সেই অমর লাইন-যতদূর থাকো/ ফের দেখা হবে আমাদের আজো মৃত্যুর চেয়েও শক্তিশালী উত্থানের কাছে নিয়ে যায়। তাই মুুনিরা চৌধুরীর আকস্মিক প্রস্থান আমাদের কাছে হয়ে থাকবে তার ফিরে আসা আবার। 

প্রাণের বাংলায় তার কাব্যগ্রন্থ থেকে ৫টি কবিতা পুন:মুদ্রণ করা হলো।

 

১.
হায় শ্যাম!!
তুমি কি জানো- ভালোবেসে গোলাপ চাই না আমি
শুধু তোমায় খুন করতে চাই, সবগুলো নিঃশ্বাস চাই…

কেন যে বার বার মৃত্যুর কথা বলো?
হঠাৎ মরে গিয়ে আমায় দুঃখ দিয়ো না..
ঈশ্বর দুঃখ পাবেন

হঠাৎ মরে গিয়ে আমায় দুঃখ দিয়ো না..
আমরা তো একসঙ্গেই মারা যাবো

২.
আকাশে ভেঙ্গে বৃষ্টি নামছে…
বৃষ্টির মধ্যে একটা ঘুড়ি উড়ছে
তুমি বিষের পেয়ালায় চুমুক দিচ্ছো
পৃথিবীর সব চায়ের পেয়ালা ভেঙ্গে যাচ্ছে, ভেঙ্গে যাচ্ছে।

৩.
মজবুত চাকার রথ সমুদ্রের উপর চলছেই চলছে আর
উদভ্রান্ত ডানায় ভাসতে ভাসতে জল ও যন্ত্র উভয়ই পুড়ে গেছে
হায় শ্যাম
তুমি কি এই ভাঙ্গা যন্ত্রের সওয়ারী হবে!

আমি যে আত্মার নয়নই হারিয়ে ফেলেছি…

৪.
পাহাড়টা একলা ঘুমিয়ে আছে
তাকে জাগিয়ো না সময় অসময়
ভাঙ্গা ফাগুন জোড়া লেগে গেলে
তৈরী হয়ে হয়ে যেতে পারে মুনিরাআগুন…

৫.
একদা জানতাম
কার্ডিফের ঐ একটা মাত্র ডানা-ভাঙ্গা কালো কবুতরই আত্নীয় আমার
আত্নীয়টি উড়ে গেছে দূরে, তারপর পুড়ে গেছে

তারপর থেকে
একা বসে আছি
এক শত বছর ধরে
এক শত কষ্টের কুসুম ফুটিয়ে

চিরদিনের কুসুমকুমারী
ভরা পূর্ণিমায় ঠাকুর মা’র কাছে যাই শ্মশানঘাটে…
আর কৃষ্ণরাতে জেনে যাই জগতে কষ্ট বলে বিশেষ কিছু নেই

কষ্ট
একজন মৃত মুনিরা চৌধুরীর গোপন নাম!

ছবি ও অলংকরন : প্রাণের বাংলা