প্রয়োজনে হাই তুলুন …

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রাচীনকাল থেকে আমারা শুনে আসছি যে হাই ওঠা মানেই ঘুমানোর সিগন্যাল দিচ্ছে শরীর। এধরণা একেবারেই সঠিক নয়।অনেকেই মজা করে হাই ওঠাকে ‘ছোঁয়াচে’ বলেন।।অনেকে হাই ওঠার জন্য ক্লান্তি বা শরীরে অক্সিজেনের অভাবকেও দায়ী করেন।অফিসের জরুরি মিটিং, কোনও সামাজিক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাঝে বার বার হাই উঠতে থাকলে সত্যিই খুব অস্বস্তিতে পড়তে হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে, হাই তুলি যখন তখনই মস্তিষ্ক একবার রিস্টার্ট করে নেয় নিজের সার্বিক প্রক্রিয়াকে। ফলে ব্রেনের কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।তাই এমনও শোনা যায় হাই তোলার পর মস্তিষ্ক এতটাই কর্মক্ষম হয়ে যায় যে দ্বিগুন কাজ করার ক্ষমতা চলে আসে।কারণ যখনই আমরা হাই তুলি তখন বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন আমাদের মুখ গহ্বরের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করে ইয়ারড্রামসকে প্রসারিত করে। তারপর হাওয়টা বেরিয়ে যায়।হাই ওঠার কিছু সুফল অনেক।

মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সঞ্চালন বৃদ্ধি করে
আপনি যখন হাই তোলেন, তখন ফুসফুসে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং ফুসফুস থেকে খারাপ বায়ু বা কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
বৃদ্ধি করে মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ বা রক্তসঞ্চালন
হাই তোলা স্নায়ু তন্ত্রের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ বা রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এ ছাড়াও হাই তোলার ফলে আমাদের শরীরে, শিরায়-উপশিরায় অক্সিজেনের ঘাটতিও পূরণ হয়।
পরিস্কার করে দেয় চোখ
হাই ওঠার সময় চোখের পাশের অশ্রুগ্রন্থির উপর চাপ পরে। ফলে অক্ষিগোলক ভিজে ওঠে তাতে চোখ পরিষ্কার হয় এবং আমাদের দৃষ্টি আরও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে।

উচ্চতায় ওঠার সময় কানের অস্বস্তি দূর করে
কোন উচ্চতায় ওঠার সময় অনেকের কানে ব্যথা, অস্বস্তি ও শ্রবণের সমস্যা হয়(যেমন, কানে তালা লেগে যাওয়া)। অ্যারোপ্লেন, এলিভেটর বা লিফটে করে উচ্চতায় ওঠার সময় এই সমস্যা অনেকের।এর উপশম হতে পারে হাই তোলার মাধ্যমে। উচ্চতার দ্রুত পরিবর্তনের সময় হাই তোলায় কানের বায়ুর চাপের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।
মাংসপেশিকে প্রসারিত করে
হাই তুললে মুখের ও বুকের মাংসপেশি প্রসারিত হয়। শরীরের দীর্ঘ ক্ষণের জড়তা বা আড়ষ্ঠতা মুহূর্তে উধাও হয়ে যায়।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবেও কাজ করে
হাই তোলা আমাদের শরীর এবং মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। গ্রীষ্মকালে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা শীতকালের তুলনায় অনেকটাই বেশি থাকে। তাই গ্রীষ্মকালে তুলনামূলক ভাবে বেশি হাই ওঠে।
তবে ঘনঘন হাই উঠলে এর পিছনে গভীর কোনো বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে।ঘনঘন হাই তোলা স্বাস্থ্যের পক্ষে একদম ভালো নয়। তাই অস্বাভাবিক হাই উঠলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
অতিরিক্ত হাই উঠলে কি কি বিপদ হতে পারে:
* পেটের নানা সমস্যায় হাই তোলার পরিমাণ অনেক সময় বেড়ে যায়। তাই কোনোরকম ক্লান্তি-অবসাদ ছাড়াই যখন হাই তোলার পরিমাণ বেড়ে যায় তখন চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে লিভারের টেস্ট করিয়ে নিন।
* মৃগীরোগের পূর্বাভাস দেয় ঘনঘন হাই তোলা। শরীরের মধ্যে চলতে থাকা নানা সমস্যার সঙ্কেত যায় মস্তিষ্কে ফলে ঘনঘন হাই উঠতে থাকে আমাদের।
*মস্তিষ্কের কোষ বেশিমাত্রায় ক্ষতির মুখে পড়লে ঘনঘন হাই তোলার সমস্যা হয়। অনেক সময়ে স্ট্রোকের আগের অবস্থায় এমন ঘটনা ঘটে।
* অনেক সময়ে আমাদের শরীর দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়।একে চিকিৎসা পরিভাষায় বলে থার্মোরেগুলেটরি ডিসফাংশন’। সেসময়ে ঘনঘন হাই উঠতে থাকে।
* সারাদিনের দৌড়াদৌড়ির পরে ক্লান্তি আসাটা খুব স্বাভাবিক। সেকারণেও অনেক সময়ে ঘনঘন হাই উঠতে থাকে আমাদের। তবে সাবধান। বেশিদিন এই সমস্যা চললে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
* ঘুমও ভালো করে হচ্ছে না, ঘনঘন হাইও উঠছে তাহলে নিদ্রাহীনতার সমস্যা বুঝে চিকিৎসকের কাছে যান।
* বেশি ওষুধ খেলেও আমাদের ক্লান্তি বেড়ে যায় ও হাই উঠতে থাকে। কোনও ওষুধ আপনার শরীরের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে না বুঝলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]