প্রয়োজন শুধু মেয়েটির পাশে থাকা

মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি
মিস আয়ারল্যান্ড

একটি মেয়েকে বেশ্যার তকমা লাগায় সর্বপ্রথম তার পরিবার তারপর সমাজ। তা কিভাবে? কোন মেয়ে বা নারী যৌন হেনস্থার শিকার হওয়ার পর সে তার পরিবারকে জানাতে পারে না বা জানালেও পরিবারই ঘটনাটা চেপে যেতে বলে কারণ সমাজের সামনে তাদের সম্মানহানির আশংকা থাকে। তাদের মনে উপস্থিত হয় ভয়। কারণ এই ঘটনাটা ছড়িয়ে পড়লে তাদের টিটকারি শুনতে হবে, পরিবারের অন্য  মেয়েদের ভালো বিয়ে হবে না ইত্যাদি। তারা সমাজের চোখ দিয়ে দেখেন তাদের মেয়েকে, সমাজের তৈরি করা সংজ্ঞা মাথা পেতে গ্রহণ করেন। অর্থাৎ, ধরেই নেয়া হয় যে, তাদের মেয়ের শরীর এখন পরিত্যক্ত । যতটা লুকিয়ে, ছাপিয়ে রাখা যায় মানুষের কাছ থেকে, একটা মাছি ও যেন জানতে না পারে। তিলে তিলে মেয়েটির মনেও তৈরি হতে থাকে নিজের শরীরের প্রতি ঘৃণা আর অবহেলা। তার মনে হতে শুরু করে তার শরীর অবহেলিত, গুড ফর নাথিং। সমাজে তার আর মুখ দেখানোর উপায় থাকবে না।

নানা রঙে নানা বেশে নানা ঢঙ্গে এই সমাজ মানুষ বিচার করে। একজন ব্যক্তি একজন নারীকে যৌন হেনস্থা করলো , কিন্তু সেই অপরাধীকে ধিক্কার না জানিয়ে ঐ নারীর শরীরকে চিহ্নিত করা হয় এক ব্যবহৃত শরীর হিসাবে, কানাঘুষা করে সেই নারীর শরীরকে রূপান্তর করা হয় এক নোংরা শরীরে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেই অপরাধী তখনও বুক ফুলিয়ে রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ায়।

নারীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামের আগে ঘর ও পরিবারের দৃষ্টি ভঙ্গি বদলানো সবচেয়ে বেশী জরুরী, তারপর সমাজ। কারণ, সমাজ আমি এবং আপনারাই। অধিকার তখন আপনাআপনি এস্টাব্লিশড হয়।
আজ আপনি আপনার মেয়ের যৌন হেনস্থা নিয়ে চুপ থাকবেন, কাল আপনার নাতনীর সঙ্গে একই ঘটনা ঘটতে পারে। পরশু শিকার হবে পরের জেনারেশনের অন্য কেউ। চলতেই থাকবে……………

আজ পরিবার পাশে থাকলে বা সমাজের দৃষ্টি ভঙ্গি অন্যরকম হলে মুখ খুলতে তিন মাস বা তিন বছর বা দশ বছর লাগতো না। সঙ্গে সঙ্গেই তা ঘটতো।
দরকার শুধু ভরসার। প্রয়োজন শুধু পাশে থাকার আর মেয়েটির অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ না করা।

ছবি:গুগল