ফাইনালের টিকেটের দাম ষোল লক্ষেররও বেশি

আহসান শামীম

এখন থেকে ২৭ বছর আগে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ড প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ ফাইনালের ওঠার সুযোগ পায়।সাদা বলে শুরু হওয়া ১৯৯২ সালের সেই বিশ্বকাপ ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে পরাস্ত হওয়ার পর আর বিশ্বকাপ ফাইনালের মুখ দেখেনি ইংল্যান্ড। ১১ জুলাই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল মঞ্চ থেকে ক্রোশিয়ার কাছে সেমিফাইনালে ছিটকে পড়া ইংল্যান্ড, এক বছর পর একই দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ ফাইনালের মুখ দেখলো।রোববার ১৪ জুলাই, চলমান বিশ্বকাপ ফাইনালে লডর্সের মাঠে প্রতিপক্ষ কিউইদের হারিয়ে বিশ্বকাপ ঘরে তোলার আবহ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ইংল্যান্ড জুড়ে।

এই সুযোগে ২৯৫ পাউন্ডের বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটের মূল্য এখন ১৬ হাজার পাউন্ড। বাংলাদেশের টাকার মূল্যমানে ১৬ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ টাকা।তারপরও টিকিটের জন্য হাহাকার ইংল্যান্ডে।ভারত ফাইনাল খেলবে এমন ধারনা থেকে ৪১ শতাংশ টিকিটই এখন ভারতীয় সমর্থকদের হাতে।

বিশ্বকাপ নিয়ে এতদিন, গ্যালারিতে উত্তাপ থাকলেও রাস্তায় মানুষের মধ্যে তেমন কোন মাতামাতি ছিলো না। উপমহাদেশীয় দলগুলোর খেলা হলে মাঠের বাইরেও দেখা গেছে উন্মাদনা।ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠে যাওয়ায় হাওয়া অনেকটাই বদলে গেছে। বিশ্বকাপ নিয়ে বেড়েছে ইংলিশদের  আগ্রহ। মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে দিতে স্কাই স্পোর্টস চ্যানেলও ঘোষণা দিয়েছে ফাইনাল ম্যাচ সম্প্রচার করবে বিনামূল্যে।

২০০৫ অ্যাশেজ জয়ের পর ইংল্যান্ডে বিনা অর্থে টিভিতে সরাসরি ক্রিকেট ম্যাচ দেখানো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ১৪ বছর পর আবারো বিনা খরচে টিভিতে খেলা দেখতে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের জনগন।ফাইনালের টিকেটের দামও হু হু করে বাড়ছে। বাড়তি দাম দিয়েও সরাসরি খেলা দেখতে মরিয়া অনেকে।যারা মাঠে যেতে পারবেন না, তারা যাতে কেউই খেলা মিস না করেন সেজন্য এমন ব্যবস্থা নিয়েছে স্কাই স্পোর্টস। তাদের পে-চ্যানেলের ফিড এদিন বিনামূল্যে চ্যানেল ফোরের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যদিও টিকিটের এমন চাহিদার পর আইসিসি ঘোষনা করেছে, যাদের হাতে ফাইনালের টিকিট আছে অথচ ফাইনালের দিন তারা মাঠে যাবেন না, তাঁরা ইচ্ছা করলে টিকিট ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নিতে পারেন।টিকিটের উচ্চ দরের কারণে আইসিসির এমন ঘোষনায় সাড়া মিলেনি তেমন।

ছবিঃ গুগল